আবারও জিততে চলেছেন অং সান সু চি
উত্তরদক্ষিণ | সোমবার, ০৯ নভেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১৪:৫০
গতকাল রবিবার অনুষ্ঠিত মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনের পর সোমবার (৯ অক্টোবর) পর্যন্ত সেখানে ভোট গণনা চলছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে আবারও অং সান সু চি সরকারের ক্ষমতায় ফেরার আভাস দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা গণহত্যায় অভিযুক্ত অং সান সু চি আন্তর্জাতিক পরিসরে সুনাম হারালেও মিয়ানমারে জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পেরেছেন।
মিয়ানমারে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ৭০ লাখের বেশি। দেশটিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়লেও মানুষ ভোট দিতে বের হয়েছিলেন। মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালাই। এটি করোনার হটস্পট বলে চিহ্নিত। রবিবার সেখানে ভোটকেন্দ্রের বাইরে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে তাদের মুখে মাস্ক থাকলেও সামাজিক দূরত্ব মানা হয়নি।
সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) এই নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। মিয়ানমারে অর্ধশত বছরের বেশি সময় ধরে সেনাবাহিনী ও সেনা-সমর্থিত সরকারের অবসান ঘটিয়ে ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় এনএলডি। যদিও এখনও সে দেশের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর প্রভাব প্রবল। সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্টের ২৫ শতাংশ আসন সেনাসদস্যদের জন্য বরাদ্দ। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর দেখভালও সেনাবাহিনী করে।
একসময় স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে খ্যাতি অর্জন করা সু চি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কার্যত সেনাবাহিনীর অবস্থানেরই প্রতিধ্বনি করেছেন বারবার। রোহিঙ্গা জাতিসত্তা ও গণহত্যার প্রসঙ্গ অস্বীকার করে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। তবে মিয়ানমারের জনগণের মধ্যে তিনি এখনও জনপ্রিয়। এএফপির পর্যবেক্ষণ, অং সান সু চি এবারের নির্বাচনেও ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখবেন। তিনি জনগণকে করোনার ভয় না করে ব্যাপকভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। দেশটিতে সূর্য ওঠার আগেই অনেকে ভোট দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে যান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অনেকে ভোট দিয়েছেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস শুক্রবার মিয়ানমারে শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আহ্বান জানালেও সেখানকার ভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেখানকার প্রায় ৩ লাখের বেশি মুসলিম রোহিঙ্গা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। বার্মা ক্যাম্পেইন ইউকে নামের অধিকার গ্রুপ এবারের নির্বাচনকে জাতিবিদ্বেষী নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা বলছে, মিয়ানমারের নির্বাচন উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ হয়নি। দেশটির বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ২০ লাখ মানুষ ভোটবঞ্চিত হয়েছেন।

