প্রথম উপন্যাসেই বুকার পেলেন ডগলাস স্টুয়ার্ট
উত্তরদক্ষিণ | শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১০:২০
‘শোগি বেইন’ উপন্যাসের জন্য স্কটিশ-আমেরিকান লেখক ডগলাস স্টুয়ার্ট পেয়েছেন ‘বুকার পুরস্কার-২০২০’। আত্মজীবনী ঘরানার উপন্যাসটি স্কটিশ-আমেরিকান এই লেখকের প্রথম উপন্যাস। গল্পটি গড়ে উঠেছে আশির দশকের গ্লাসগো শহরে বেড়ে ওঠা এক বালককে কেন্দ্র করে। বুকার পুরস্কারের বিচারকদের ধারনা, উপন্যাসটি এক সময় ক্লাসিকের মর্যাদা লাভ করবে। এই পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০ হাজার পাউন্ড।
১৯৮১ সালের স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো মৃতপ্রায় শহরকে নিয়ে ‘শোগি বেইন’ মূলত আত্মজৈবনিক উপন্যাস। গ্লাসগো শহরের দারিদ্রতার হার তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। শহরের অন্যান্য মানুষদের মতো উপন্যাসের চরিত্র এগনেস বেইনও চাচ্ছিলো এই কঠিন সময় যেন চলে যায়। কিন্তু তার স্বামী তাকে এবং তিন সন্তান তাকে ছেড়ে চলে যায়। এরপর এগনেস ও তার তিন সন্তান থ্যাচারিজমের কারণে ধ্বংস হওয়া একটি মাইনিং শহরে আটকে পড়ে। এগনেস এই কঠিন সময় পার করার জন্য অ্যালকোহলের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। তার সন্তানেরা তাকে বাঁচানোর জন্য নানাভাবে চেষ্টা করে এবং একপর্যায়ে তারাও একে একে তাদের মাকে ফেলে চলে যায়।
তবে সকলে চলে গেলেও মায়ের সঙ্গে থেকে যায় শোগি। শোগি অনেক সমস্যার মুখোমুখি হয়। সে সাধারণ ছেলের মতো করে জীবন কাটাতে চায় কিন্তু তা পারে না। তার মনে হয় মাদকের প্রতি মায়ের আসক্তি সবাইকে একদিন ধ্বংস করবে, এমনকি তাকেও। ‘শোগি বেইন’ এমনই একটি উপন্যাস যেখানে দারিদ্রতার করাল গ্রাসের কারণে ভেঙ্গে পড়া বাবা-মা’র প্রতি সন্তানদের ভালোবাসার কথা দারুন ভাবে ফুটে উঠেছে।
স্টুয়ার্ট পুরস্কার জয়ের পর অনেকটা অবাক বলেন, ‘এই উপন্যাসটি মাকে ছাড়া আমার এই কাজ করাটা সম্ভব হতো না, এমনকি আমি এই জায়গায় আসতেও পারতাম না’। তিনি তার বক্তব্যে গ্লাসগোবাসীদের ধন্যবাদ জানান। এখন থেকে ফুল-টাইম লেখক হবো, এবং পুরস্কারের টাকা দিয়ে গ্লাসগোতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করবো ‘ অন্যদিকে তিনি তার দ্বিতীয় উপন্যাসও লেখা শেষ করেছেন। ‘শোগি বেইন’ উপন্যাসটি আমেরিকার গ্রোভ আটলান্টিক এবং লন্ডনের পিকাডোরের মাধ্যমে প্রকাশিত হবার আগে ৩০ জন সম্পাদকের কাছ থেকে ফেরত এসেছে।
সূত্র : দ্য বুকার প্রাইজ ডট কম, দ্য গার্ডিয়ান

