লুটেদেরাদের কালো থাবায় আর্থিক খাতের বিপর্যয়

লুটেদেরাদের কালো থাবায় আর্থিক খাতের বিপর্যয়

শব্দনীল | উত্তরদক্ষিণ
মুদ্রিত সংস্করণ: রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ০০:০০

স্বাধীনতা পরবর্তীকালে অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর দেশ ছিলো বাংলাদেশ। হাঁটি হাঁটি পা পা করে ৪৯ বছরে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাত অনেক দূর এগিয়েছে মুদ্রার এপিঠে। অন্যদিকে মুদ্রার ওপিঠে অনিয়ম ও অর্থ কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত এদেশ। আশির দশকে বেসরকারি খাতের ব্যাংক চালু হওয়ার পর এখানে কেলেঙ্কারির ঘটনা শুরু হয়। অনিয়ম-দুর্নীতি ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা চলে গেছে লুটেরাদের পকেটে। ভুয়া এফডিআরের কাগজপত্র জমা দিয়ে, এক ব্যাংকের পরিচালক অন্য ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা হয়ে এমনকি জাল দলিলেও অনুমোদন হয়েছে মোটা অঙ্কের ঋণ। অথচ একটি কেলেঙ্কারিরও বিচার হয়নি। সাজা পাননি অভিযুক্তদের কেউ। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছাড় দেয়া হয়েছে। দুর্নীতির খবর প্রকাশের পর প্রাথমিক তদন্ত হয়েছে। বছরের পর বছর মামলা চলছে। অভিযুক্তদের কেউ জেলে আছেন, কেউ চিকিৎসার নামে হাসপাতালে আরাম-আয়েশে আছেন। অনেকে জামিন পেয়েছেন। কেউ বা পালিয়ে লাপাত্তা। কিন্তু সুরাহা হচ্ছে না কোনো ঘটনার। সাজা হয়নি সংশ্লিষ্ট অপরাধীর। টাকাও ফেরত আসেনি। শুধু ব্যাংক কেলেঙ্কারিই নয় দেশের টাকা লুটকরে অনেকে ‘বেগম পাড়া’ও তৈরি করছে দেশের বাহিরে।

গত এক দশকে বাংলাদেশ আর্থিক খাত যতটা এগিয়েছে, তারচেয়ে পিছিয়েছে দ্বিগুণ। এ খাতে সুশাসনের অভাব ছিল প্রকট। সোনালী ব্যাংকের হল-মার্ক কেলেঙ্কারি দিয়ে শুরু, এরপর বেসিক ব্যাংক। আরও ছিল বিসমিল্লাহ গ্রুপ, অ্যাননটেক্স, ক্রিসেন্ট গ্রুপ কেলেঙ্কারি। আর সবশেষ ফারমার্স ব্যাংকের ঘটনা। এক দশকের এসব কেলেঙ্কারির ঘটনায় কী পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। ধারণা করা হয় ৩৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

কেবল ব্যাংক নয়, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কেলেঙ্কারির ঘটনাও ঘটেছে গত দশকে। ফলে বাধ্য হয়ে পিপলস লিজিং অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিতে হয় বাংলাদেশ ব্যাংককে। দশকের আরেক আলোচিত ঘটনা ছিল ব্যাংক দখল। ইসলামী ব্যাংক দিয়ে শুরু, পরে তা ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও।
২০১৫ সালে রাজনৈতিক কারণে ১৩ ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয় এই দশকে। অন্যদিকে ২০১০ সালেও দেশে খেলাপির ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। এক দশকে এসে এই খেলাপি ঋণের পরিমান দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকারও বেশি।

বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ চুরির সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটে বাংলাদেশ ব্যাংকে, ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বা রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ১ হাজার ৬২৩ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮১০ কোটি টাকা) চুরি হয়। এখন পর্যন্ত চুরির অর্থের বড় অংশ ফেরত পাওয়া যায়নি, চুরির সঙ্গে জড়িতদেরও ধরা যায়নি। দায়িত্বে অবহেলার বড় উদাহরণ হয়ে আছে এই ঘটনাটি।

২০১৫ সালে রাজনৈতিক কারণে একবার বড় ১৩ ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। আবার শেষ বছরটিতে সুবিধা দেওয়া নতুন মাত্রা পেয়েছে। সব ধরনের ঋণখেলাপিদের দেওয়া হয়েছে আরও বেশি। মাত্র ২ শতাংশ কিস্তিতে তাঁরা এখন ঋণ নবায়ন করতে পারবেন। এ সময়ে ঋণখেলাপিরা যত বেশি সুবিধা পেয়েছে, খেলাপি ঋণ ততই বেড়েছে।

অর্থ কেলেঙ্কারির আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে সংরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ ডলার চুরির ঘটনা। ফিলিপাইনের একটি ব্যাংকের মাধ্যমে এ অর্থ নগদায়ন হয়। এ পর্যন্ত দেড় কোটি ডলার উদ্ধার হয়েছে। বাকি অর্থ ফেরতের চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০১২-১৩ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক থেকে মাত্র ১১টি পর্ষদ সভায় ৩ হাজার ৪৯৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ঋণ দেয়া হয়। এভাবে অনিয়ম করে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার মতো ভুয়া ঋণ সৃষ্টি করে তা হাতিয়ে নেয়া হয়। ২০১২ সালে সোনালী ব্যাংক থেকে হলমার্ক নামক একটা প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৪ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয় যা বর্তমানে কুঋণে পরিণত হয়েছে। ২০১১ ও ২০১২ সালে টেরিটাওয়েল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ গ্রুপ দেশের পাঁচটি ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। (জনতা ৩৯২ কোটি, প্রাইম ৩০৬ কোটি, যমুনা ১৬ কোটি, শাহজালাল ১৪৮ কোটি, প্রিমিয়ার ৬২ কোটি টাকা)।

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দীকী নাজমুলের মালিকানাধীন বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ফারমার্স ব্যাংকের ছয়টি শাখায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ঋণ অনিয়ম পাওয়া যায়। বর্তমানে জনগণের সংরক্ষিত আমানত ফেরত দিতে অক্ষম হয়ে পড়েছে ব্যাংকটি। ৭৪১ কোটি টাকার ঋণ বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম দেখা যায় এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকে, যার সমাধান এখনও হয়নি। জনতা ব্যাংক ২০১০-২০১৫ সালের মধ্যে আইন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ প্রদান নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে অ্যাননটেক্স নামে একটি গ্রুপকে ৫ হাজার ৪০৪ কোটি টাকার ফান্ডেড, নন-ফান্ডেড ঋণ প্রদান করে। যা বর্তমানে পুরোটাই ফান্ডে পরিণত হয়েছে।

গত ১৯৯৬-২০০১ সালে সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি হয়েছে শেয়ারবাজারে। সেই কেলেঙ্কারির মামলা এখনো বিচারাধীন। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতা নেয়ার পরের বছর দেশে দ্বিতীয়বারের মতো শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি ঘটে। এ ঘটনার তদন্ত কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের হিসাবে ওই কেলেঙ্কারিতে অন্তত ১৫ হাজার কোটি টাকা খুইয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। ২০১২ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন বহুস্তরবিশিষ্ট বিপণন কোম্পানি ডেসটিনির অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় আত্মসাতের পরিমাণ ৪ হাজার ১১৯ কোটি টাকার কথা বলেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৫ সালে ওরিয়েন্টাল ব্যাংক কেলেঙ্কারি ছিল সবচেয়ে আলোচিত।

সাবেক ওরিয়েন্টাল ও বর্তমানে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকে ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটে ২০০৬ সালে। ব্যাংকটির তৎকালীন উদ্যোক্তারা অনিয়মের মাধ্যমে হাতিয়ে নেন প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। এ কারণে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়া হয়। এ কেলেঙ্কারির পর ব্যাংকটি পুনর্গঠন করতে হয়। বিক্রি করা হয় বিদেশি একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের কাছে। ২০০২ সালে ওম প্রকাশ আগরওয়াল নামের এক ব্যবসায়ী জালিয়াতির মাধ্যমে পাঁচটি ব্যাংক থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই পাঁচ ব্যাংকের এমডিকে অপসারণ করেছিল। জাহাজ রপ্তানির চুক্তিপত্র দেখিয়ে দেশের ১৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৬শ কোটি টাকার ঋণ নেয় আনন্দ শিপইয়ার্ড।

ঢাকা ট্রেডিং হাউস, টিআর ট্রাভেলস বা ঢাকা ট্রেডিং হাউস লিমিটেড- এই তিন প্রতিষ্ঠানেরই কর্ণধার টিপু সুলতান। ভোগ্যপণ্য ব্যবসার নামেই সরকারি-বেসরকারি প্রায় ১০টি ব্যাংক থেকে ৬০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নেন টিপু সুলতান। যদিও তা বিনিয়োগ করেন পরিবহন ব্যবসা টিআর ট্রাভেলসে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা। এতে বিপাকে পড়েছে অর্থায়নকারী ব্যাংকগুলো। এ ব্যবসায়ীর কাছে আটকে গেছে তাদের বড় অঙ্কের এ ঋণ। জনতা ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখা থেকে সুতা রপ্তানির ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে রানকা সোহেল লিমিটেডের ১১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা বেরিয়ে আসে। ২০১৩ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক পরিদর্শনে অনিয়ম উদ্ঘাটন হয়। বর্তমানে রানকা সোহেল কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস্, রানকা ডেনিম টেক্সটাইল মিলস্সহ সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ৩৫২ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২০টি ব্যাংকের শাখা থেকে এইচআর গ্রুপ অভিনব কৌশলে ৯৩৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করে। ২০১৪ সালে পরিচালিত বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে এসব তথ্য উঠে আসে। রূপালী ব্যাংক থেকে বেনিটেক্স লিমিটেড, মাদার টেক্সটাইল মিলস ও মাদারীপুর স্পিনিং মিলস নামে তিনটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে গেছে প্রায় হাজার কোটি টাকা। এর ৮০১ কোটি টাকা আদায়ের সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আবার অগ্রণী ব্যাংক থেকে বহুতল ভবন নির্মাণে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ৩শ কোটি টাকা ঋণ নেয় মুন গ্রুপ।

সম্প্রতি সময়ে কানাডার টরন্টোর ‘বেগম পাড়া’ নিয়ে খুব আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশের অসংখ্য রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং সরকারি কর্মচারীর আলোচনার উঠে
এসেছে। অনকে বাংলাদেশী বেগম পাড়ায় বিলাসবহুল আবাসন কিনেছেন, বাংলাদেশে থেকে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছেনে। প্রধানত, বাংলাদশের কোটিপতিদের স্ত্রী এবং সন্তানরা এই আবাসগুলোতে বাস করে, তাই নামটি বেগম পাড়া। এটি মূলত বিশ্বাস করা হয় যে প্রধানত রাজনীতবিদিরা সেখানে বাসা কিনছেন। স্বামী বাংলাদেশে বউ কানাডায়। স্বামীরা দেশে থেকে অবধৈভাবে টাকা উর্পাজন করে পাঠায় বউয়ের কাছে। কথিত আছে কোটি কোটি টাকা পাচার করে অনেক বাংলাদেশি বেগম পাড়ায় স্থায়ী হয়েছেন। সেখানে বসতি গড়েছেন ৩৬শ’ কোটি টাকা পাচার করে পলাতক আলোচিত পি কে হালদারও।
আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনও অর্থপাচারের কথা স্বীকার করেছেন। তার ভাষায়, ‘প্রাথমিকভাবে কিছু সত্যতা পেয়েছি। মনে করেছিলাম রাজনীতিবিদদের সংখ্যা বেশি হবে। কিন্তু দেখা গেল রাজনীতিবিদ চারজন। সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা বেশি। এ ছাড়া কিছু ব্যবসায়ী আছে।’

২৮টি ঘটনার তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাওয়া গেছে যেগুলোর মধ্যে শুধু ঋণখেলাপি, লুটেরা, ব্যবসায়ীরাই নন, অনেক সরকারি কর্মকর্তাও আছেন। তারা বেগমপাড়ায় ঠিকানা গড়ে নিয়েছে। এই ঠিকানা গড়া চাকরি বা ব্যবসার মাধ্যমে টাকা উর্পাজন বৃদ্ধি করতে নয়, এই ঠিকানা দেশের সম্পদ পাচারের জন্য। ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবষেণা সংস্থা গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটর হিসেবে, ২০১৫ সালে বাণিজ্য কারসাজির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ছয় বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। জাতিসংঘের সংস্থা আঙ্কটাডের হিসেবে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের করের ৩৬ শতাংশই পাচার হয়। অনেক বড় শিল্পগোষ্ঠীও তাদের ব্যবসা ও অফিস নিয়ে যাচ্ছে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ায়। অনেকে সম্পদ সরিয়ে নিয়ে গেছে ইউরোপ-আমেরিকা-কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ায়। এটা শুধু বাংলাদেশের ঘটনা না। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল জি-৭৭ ভুক্ত উন্নয়নশীল দশেগুলোতে এই প্রবণতার বাড়াবাড়ি আছে।

এদিকে দুদক কমিশনার মোজাম্মেল হক খান জানান, বেগম পাড়া রহস্যর কথা তারাও দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছেন। যদিও সেখানে কত বাংলাদেশির বাড়ি আছে তার সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই দুদকের হাতে। তবে তদন্ত করার কথা জানিয়েছেন দুদক কমশিনার।

তিনি বলেন, বেগম পাড়ায় তাদের কী পরিমাণ বাড়ি আছে এটা এখনও একটি মিথ। এটার সঠিক পরিসংখ্যান কারও কাছেই নেই। তবে আমাদের কাছে এই ধরণের অভিযোগ আছে। যখন তদন্ত করে এসব উদঘাটন হবে তখন আমরা এই সংখ্যা নিয়ে কথা বলতে পারবো।

সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এবং দুদক কমশিনার মোজাম্মলে হক খান এর বক্তব্যের পর ২২ নভেম্বর উচ্চ আদালত মন্তব্য করেছেন, ‘অর্থপাচারকারীরা জাতীয় বেইমান, দেশের শত্রু’ এবং আগামী ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে এই অর্থপাচারকারীদের তালিকাও চেয়েছে আদালত। যদিও এর আগেও হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ অর্থপাচারকারীর তালিকা চেয়েছিল যার অগ্রগতি এখনো জানা যায়নি। তবে দুদক জানিয়েছে, তাদের হাতে ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি তালিকা রয়েছে। যার মধ্যে ৮ জনের নাম ঠিকানা দেওয়া হয়েছে ইন্টারপোলকে।

কেলেঙ্কারির অর্থনীতিকে সচল এবং গতিশীল রাখতে হলে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে অনিয়ম-দুর্নীতি ও জাল-জালিয়াতদের বিরুদ্ধে। বারবার অর্থ কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা লোকগুলোকে বিচারে আওতায় আনতে হবে দ্রুত। সেক্ষেত্রে দেশের অর্থনীতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading