ইন্ডিয়ায় ১৪৪ ধারার বিপরীতে কৃষকের ২৮৮ ধারা
উত্তরদক্ষিণ | বুধবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১১:৫৮
“আমরাই তো মোদী, অমিত শাহকে গদিতে বসিয়েছিলাম। ওরা যদি আমাদের কথা শোনে, ভাল। না-হলে এখানেই ২৬ জানুয়ারি পালন করব। আরও লোক আসছে। কালা কানুন ফিরিয়ে না-নিলে ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাব।” বলছিলেন বিজনৌর থেকে আসা ধরমবীর সিংহ, যিনি। ধান চাষ করেন, চেহারায় অন্নের অভাব স্পষ্ট। চোখ জ্বলছে হয়তো ক্রোধ আর ক্ষুধার মিশেলে।
সীমানাগুলোতে ব্যরিকেডদেওয়া হয়েছে যাতে দিল্লিতে পৌঁছতে না-পারেন বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা। ১৪৪ ধারাও জারি করা হয়েছে। কিন্তু কৃষকেরা ব্যারিকেডের উপর ‘২৮৮ ধারা’ লিখে পোস্টার ঝুলিয়ে। ভীড়ের মধ্যে থেকে এর ব্যাখ্যা দেন ত্রিলোকিনাথ। তিনি চিৎকার করে বলেন, “এর মানে, ওরা যা বারণ করবে তা আমরা দ্বিগুণ করে করব! যখন বিহারে ভোট হয়, তখন প্রচারে ভিড় জমানোর সময়ে ওদের করোনার কথা মনে থাকে না? পেটে লাথি খেয়ে আমরা তার প্রতিবাদ করলে করোনার দোহাই দিচ্ছে। করোনায় না-মরলেও আমরা না-খেয়ে মরতে বসেছি।”
মুজফ্ফরনগরের অন্তর্গত একটি ব্লক প্রেসিডেন্ট কুশলবীর সিংহ আঙুল তোলেন যোগী আদিত্যনাথে দিকে। তাদের ফলানো আখ কেনে এলাকার বড় বড় চিনি কারখানা। কুশলের ব্লক চরখাওয়ার জন্য দু’টি চিনি কল নির্ধারিত রয়েছে দেওবন্দ এবং তিতরিতে। সরাসরি এই ফসল চিনি কলে বিক্রি করতে পারেন না কৃষকেরা। সরকারের তৈরি করা সমিতির মাধ্যমে বেচতে হয়। অভিযোগ, মাসের পর মাস সেই টাকা আটকে রাখে সমিতি। কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যে টাকা যাওয়ার কথা, প্রায়শই তা যায় না। গেলেও দেরিতে এবং প্রাপ্যর তুলনায় কম।
কুশলবীর বলেন, “আমার নিজেরই দু’লাখ টাকা বাকি রয়েছে। বোনের বিয়ে, অসুস্থ ভাইয়ের চিকিৎসা তো দূর, ফসল ফলিয়ে আজ আমাদেরই পেটে দানাপানি ফেলা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে।”
করোনার ভয় উপেক্ষা করে ‘জয় জওয়ান জয় কিসান’ ধ্বনিতে মুখরিত শহর। হাপুর জেলার বৃদ্ধ কৃষক ধনবীর শাস্ত্রী বলছেন, “ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের থেকে এমনিতেই কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি আমরা। রাখার জায়গা নেই। ফসল বড় মান্ডিতে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাও নেই। এ বার সরকারের আইনে তো পুঁজিপতিরাই সব তুলে নিয়ে যাবে ইচ্ছামতো দামে। চার মাস গুদামে রেখে দেওয়ার ক্ষমতা আছে তাদের। তার পর পাঁচগুণ বেশি দামে বেচবে। আমাদের অবস্থা আরও খারাপ হবে।”
উত্তরাখণ্ডের উধম সিংহ নগর থেকে আসা অপেক্ষাকৃত কম অভাবী কৃষকেরা লঙ্গর খুলেছেন রাস্তার ধারে। দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসেবে আরও আটা আর ডাল আসছে বলে জানালেন দলজিৎ সিংহ রনধাওয়া।
তিনি জানান, “কারণ আমাদের আন্দোলন কত দিন চলবে, তার তো ঠিক নেই। মোদী বলেছিলেন কৃষকদের রোজগার দ্বিগুণ করে দেবেন। আসলে তা অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। নতুন যে বিল এসেছে, তাতে আমাদের মান্ডি খতম হয়ে যাবে। বড় বেসরকারি সংস্থার পায়ের তলায় পড়ে মরব আমরা। ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিছক এক ঠাট্টা ছাড়া আর কিছুই থাকবে না।”

