সামাজিক অবক্ষয়: চারিদিকে ভয়াবহ নৃশংসতা

সামাজিক অবক্ষয়: চারিদিকে ভয়াবহ নৃশংসতা

শব্দনীল | উত্তরদক্ষিণ
মুদ্রিত সংস্করণ: মঙ্গলবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ০০:০১

এগিয়ে যাওয়া সময়ের সঙ্গে দেশের জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও পরিবর্ধনে ক্রমেই আমরা এক ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুরতার দিকে যাচ্ছি। দেশের সামাজিক অস্থিরতা হঠাৎ করেই যেন বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানে মানবিকতা, নৈতিকতা, মূল্যবোধ এমনকি দয়া-মায়া শব্দগুলোর কোনও অস্তিত্বই পাওয়া যাচ্ছে না। তবে অনৈতিকতা, অমানবিকতা, নিষ্ঠুরতা, স্বার্থপরতা, জিঘাংসা, হিংসা, বিদ্বেষ জাতীয় সকল নেতিবাচক শব্দের কালো হাত আমাদের সামাজিক জীবনযাত্রার প্রতিটি স্থরে দেখা যাচ্ছে। পারিবারিক-সামাজিক অবক্ষয়জনিত একের পর বীভৎস ঘটনার সাক্ষী হচ্ছে দেশ। হত্যা, ধর্ষণ, ইভটিজিং ও আত্মহননের মিছিলে বেরিয়ে পড়ছে সমাজের ও নৈতিকতার বিপর্যয় এবং অধঃপতনের ভয়ানক চিত্র। প্রতিদিনই ঘটছে নানা অঘটন। সারাদেশে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও খুন হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে এসকল খুনের বেশিরভাগ ঘটছে পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে। এতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ছে সচেতন নাগরিক এমনকি জনসাধারণের মাঝে। প্রতিদিনের খবরের কাগজে এমন অনেক খবর আসে, যা দেখলে যে কোনো সভ্য মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হতে বাধ্য।

সম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া সামাজিক অপরাধগুলোর মাত্রা ভয়াবহ ব্যাধির মতো দানা বাঁধছে যেমন অন্যদিকে নীতিনির্ধারক মহলের অবহেলা আর নজরদারির অভাবে সামাজিক অবক্ষয়ের শিকার ব্যক্তিদের প্রাণহানির ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। অর্থের প্রতি অতি লালসা এবং শ্রেণি, পেশা নির্বিশেষ সব মানুষের অসম প্রতিযোগিতা, নৈতিক মূল্যবোধের অভাব, সামাজিক-অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক অস্থিরতা, অন্য দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা, দাম্পত্য কলহ ও স্বামী-স্ত্রীর প্রতি বিশ্বাসহীনতা, সামাজিক উন্নয়নে পদক্ষেপ না নেয়া, বিষণ্ণতা ও মাদকাসক্তি, রাষ্ট্রের উদাসীনতা ইত্যাদি। করোনার এই সময়ে সামাজিক অপরাধের পেছনে অন্যতম দায়ী বিষণ্ণতা। বর্তমান বর্তমানে ৮০ থেকে ৮৫ লাখ মানুষ অতিমাত্রায় বিষণ্ণতায় আক্রান্ত। বিষণ্ণতা থেকে যদি তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হয় তবে সামাজিক অপরাধের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পাবে।

সম্প্রতি সময়ে সারা দেশে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনার দিকে তাকে বুঝা যায় আমাদের বর্তমান সামজিক অবস্থান। রাজধানীসহ সারা দেশে ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে ধর্ষণ, গুম, খুসসহ নানা ঘটনা। তবে ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতনের মাত্রা যেন দিন দিন পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিশু থেকে বয়স্ক কোনো নারীই নিরাপদ নয় ধর্ষকদের থাবা থেকে। নারীরা যেন আজ কোথাও নিরাপদ নয়। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, গৃহবধূ এমনকি অবুঝ শিশুও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। বছরের শুরুতে বনানীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় সারা দেশে ব্যাপক প্রতিবাদ-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। মাত্র ক’দিন আগে সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, খাগড়াছড়িতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের এক প্রতিবন্ধী নারীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের এই ভয়াবহতা ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকে।

উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ছে সচেতন নাগরিক এমনকি জনসাধারণের মাঝে। ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে মারার পর বরগুনার রিফাত শরীফের হত্যাকা- বড় ধরনের আলোড়ন তুলেছে দেশে। অবিশ্বাস্য ব্যাপার- শত শত লোকের সামনে রিফাতকে কুপিয়ে মারল সন্ত্রাসীরা, কেউ এগিয়ে এলো না তাকে বাঁচাতে। প্রাকাশ্যে দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করা হচ্ছে আর আমরা দর্শকের ভূমিকা পালন করছি। মা-মেয়েকে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্যে করা হচ্ছে নির্যাতন, ছেলে ধরার গুজবে প্রকাশ্যে এক নারীকে হত্যা করতেও আমরা দেখেছি, গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে টানা ৩২ দিন ধরে সেই পরিবারের সাঙ্গে নিষ্ঠুরতা করা হচ্ছে কিন্তু আশপাশের কেউ এগিয়ে না আসায় সহজেই উপলব্ধি করা যায় যে, সামাজিক অবক্ষয় কোন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে।

আজ আমরা এতটাই অবক্ষয়ে জর্জরিত যে, বিবেকের যেন মৃত্যু ঘটেছে। যে দিকে তাকাই শুধু অস্থিরতা। মাত্র পৌনে এক ভরি স্বর্ণের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জে হত্যা করা হয় পাঁচ ও ছয় বছর বয়সী দু’টি শিশুকে। এই শিশুহত্যার রহস্য উদঘাটনের মধ্যেই নরসিংদীতে ছয়, আট ও দশ বছর বয়সী তিন ভাই-বোনকে হত্যা করে আপন ভাই। সমাজের অবস্থা দেখন- অশান্তির জ্বালা মেটাতে মা অবুঝ শিশুকে শাড়ির সাথে বেঁধে ঝাঁপ দিচ্ছেন নদীতে।

কুমিল্লায় দরজা আটকে এক গৃহবধূর হাত-পা বেঁধে গায়ে অকটেন ঢেলে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক কলেজছাত্রীকে কুপিয়ে জখম করেছে এক বখাটে। স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় সাভারের সিরামিক্স বাজার এলাকায় গৃহবধূ ও তার স্বামীকে কুপিয়ে জখম করেছে বখাটেরা।

সর্বগ্রাসী সামাজিক অবক্ষয়ের এই তো কয়েকটি ঘটনা মাত্র। মানবাধিকার সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, চলতি ১১ মাসে রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায় হাজারখানেক নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বর্তমানে যে সামাজিক ও পরিবেশগত অবস্থা তাতে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, অশান্তি বাড়ছে। ফলে মানুষের মধ্যে চরম হতাশা কাজ করছে। আর এ হতাশা থেকে তার মধ্যে এক ধরনের আগ্রাসী মনোভাবের সৃষ্টি হয়। ব্যক্তির মধ্যে নেতিবাচক দিকগুলো ফুটে ওঠে। সে আত্মবিশ্বাসী হয় না। তার মধ্যে ধ্বংসাত্মক প্রবৃত্তি কাজ করে। নৃশংস হয়ে ওঠে। এর ফলে ব্যক্তি নিজে যেমন অন্যকে ধ্বংস করতে চায়, অন্যদিকে সে নিজেও এর শিকার হয়। এ ক্ষেত্রে নারীরা নৃশংসতার শিকার হয় বেশি। মূলত আমরা প্রতিনিয়ত যেসব পৈশাচিক আর হৃদয়বিদারক ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছি তা আসলে সমাজেরই প্রতিচ্ছবি। এছাড়া যুব সমাজ আজ মাদকে আসক্ত হয়ে দিকবেদিক ঘুরছে। শহর থেকে শুরু করে নিবিড় পাড়াগাঁয়েও ছড়িয়ে পড়ছে মাদকের কালো হাত। প্রযুক্তির অপব্যবহারে ফলে নিমেষে পাল্টে যাচ্ছে সমাজ। যুবসমাজ যেন আজ অস্থির আর তাই সমাজে বাড়ছে নানামুখী অস্থিরতা। নীতি আদর্শ এবং মূল্যবোধ যেন সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে শিশুদের ভেতর পরিবর্তন আসছে। তারা এক স্থানে থাকলে গলায়-গলায় ভাব হবে যেমন ঝগড়া-বিবাদও হবে তেমন। এটাই বন্ধুত্ব বা সখ্যের রীতিই। কিন্তু এর মধ্যে যদি নৃশংস ঘটনা ঘটে, প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে শিশু ধারালো অস্ত্র নিয়ে রক্তপাত ঘটায়, নিষ্পাপ আরেক শিশুকে খুন করে বসে, তখন তা অবশ্যই জটিল এক দুর্ভাবনার বিষয়। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় শিশু খুন হওয়ার যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা অতি ভয়ংকর। মিরপুর বেড়িবাঁধসংলগ্ন দিয়াবাড়িতে গত বুধবার রাতে চার বছরের একটি মেয়েশিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৪ বছরের এক শিশু তাকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে শিশুটি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। খুনের পেছনে কারণ যা-ই থাকুক না কেন, কোনো শিশু যদি এমন অপরাধ ঘটিয়ে থাকে, তবে তা সেই সমাজের বড় ধরনের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরে।

একটি শিশু জন্ম নেওয়ার পর থেকে বাবা-মায়ের নিবিড় সাহচর্যে, ভাইবোনের মধুর ভালোবাসায় বেড়ে ওঠে। পারিবারিক পরিম-ল ও তার ধারেকাছের পরিবেশ সামাজিকীকরণের গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। এর মধ্যে যদি অস্বাভাবিক কিছু ঘটতে থাকে, শিশুর মেধামননের প্রতিকূলতা তার নিত্যসঙ্গী হয়, পরবর্তী সময়ে এই শিশুও হয়ে ওঠে অস্বাভাবিক। আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা, নির্ভরতার অভাব শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে ব্যাহত করে।

গ্রামীণ জীবনের কথাই বলি, আর নগর জীবনের কথাই ধরি, এখন গড়পড়তা বেশির ভাগ শিশুর জীবন কাটে একটা অস্থিরতার ভেতর। কারণ, তার বাবা-মা আর নিকট স্বজনেরা থাকেন অস্থিরতার মধ্যে। এই অস্থিরতার কারণ সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পারিপার্শ্বিক। খুন হওয়া শিশু এবং যার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ উঠেছে, সেই কিশোর সমাজের যে শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করছে, সেখানে এই অস্থিরতা আরও বেশি।

জানা গেছে, খুন হওয়া শিশুটির বাবা বালুবাহী নৌযানের সুকানি। খুনের অভিযোগ ওঠা ওই কিশোরের বাবা স’ মিলের কর্মী। এমন পেশার মানুষের চাকরি আজ আছে তো কাল নেই। আজ এখানে তো কাল ওখানে। ফলে তাদের সংসারের চাকাও ঘোরে একই তালে। দেখা যায়, ঘরে এই চলছে ভালো খাবারের আয়োজন, আবার কোনো সময় চুলায় হাঁড়িই চড়ছে না। এ ধরনের সংসারে স্বপ্ন-সাধও অনেক ক্ষেত্রেই অপক্ব ফলের মতো দড়কচা ধরে থাকে। এই শ্রেণির বেশির ভাগ বাবা-মা সন্তানকে কিছু দূর পড়িয়ে কোনো একটা কাজ ধরিয়ে দেন, যাতে রুজিরোজগারের গতি হয়। ছেলেমেয়ে পড়াশোনা করে ভালো পাস করবে, ভালো চাকরি করবে এমন উচ্চাশা করেন খুব কমজনই। এসব পরিবারের ছেলেমেয়েরা যে পরিবেশে থাকে বা মেশে, সেখানে চাওয়া-পাওয়ার দৌঁড় সীমিত। তাদের মূল আকর্ষণ থাকে বাবা বা মায়ের মোবাইল ফোন সেটে ভিডিও গেম খেলা। ফাঁক পেলে সাইবার ক্যাফেতে গিয়েও একই খেলায় মত্ত হয়। মারামারি-কাটাকাটির প্রতিযোগিতামূলক গেমগুলো তাদের খুব প্রিয়।

এসব পরিবারের শিশুরা খুব অল্প বয়সেই একলা চলাফেরা করতে শেখে। ফুটপাতে অনেকটা পথ হেঁটে স্কুলে যায়। দোকান থেকে বাবা-মায়ের ফরমাশমতো জিনিস কিনে আনে। কেনাকাটা করতে বাজারে যায়। দু-তিন বন্ধু মিলে ঘুরতে যায় দূরে। তারা চারপাশ দেখে। বড়দের কথা শোনে। বড়দের নানা কা-কারখানা দেখে। এভাবে শৈশবেই তাদের কচি মন বড়দের আঙিনায় ঘুরে বেড়ায়। তাদের অপরিণত মস্তিষ্কে বড়দের নানা বিষয় ঘুরপাক খায়। এসব তারা নিজেদের মতো করে বুঝতে শেখে। বাসায় মা-বোনের সঙ্গে ‘জলসা মুভিজ’ ধাঁচের ছবিগুলো দেখতে আলগোছে বসে যায়। এখানেও রয়েছে অকালে পেকে যাওয়ার বিষয়। কীভাবে ছলচাতুরী করে উদ্দেশ্য হাসিল করা যায়, মনের ভেতর চেপে রাখা বিদ্বেষ কীভাবে মেটানো যায়, সবই দেখে তারা। এসব শিশু শান্ত ভোরে কোমল রবির উদয় দেখে না, প্রাচুর্যে ভরা সবুজের মাঝে পাখির গান শোনে না, নদীর কুলু কুলু ধ্বনি তাদের কাছে অচেনা। এসব শিশুর মা তাদের ঘুমপাড়ানি গান শোনান না। দাদি বা নানির কাছে রূপকথা শোনার সুযোগ হয় না তাদের। মানব আর দানবের তফাত বোঝার বোধশক্তি হারিয়ে ফেলছে তারা। হয়ে যাচ্ছে অন্য রকম।

বর্তমান সময়ে আমাদের পরিবারগুলোতে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা কতটা হয়? দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সম্পর্ক সূত্রে ও কর্মকাণ্ডের নৈতিক মূল্যবোধ কতটা রক্ষিত হয়? এছাড়া পরিবারের সদস্যরা পরস্পরের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে কতটা সতর্ক? পরিবার তো শুধু খাওয়া ও শোয়ার জায়গা নয়, এর চেয়ে আরো বেশি কিছু। এ বিষয়ে সচেতনতার অভাবে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাড়তে থাকে অভিযোগের মাত্রা। এখান থেকেই উৎপত্তি হয় ক্ষোভ, বিষণ্ণতা, বিশ্বাসহীনতা। পরিবারের সদস্যরাই সমাজে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে তাদের মানসিকতা ও কর্মকা-ের প্রতিফলন ঘটে।

মূলত এই সর্বগ্রাসী সামাজিক অবক্ষয়ের হাত থেকে বাঁচতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি। সেই সঙ্গে ধর্মীয় অনুশাসনের অনুশীলন, পরমত সহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করাসহ সর্বক্ষেত্রে অশ্লীলতাকে শুধু বর্জনই নয়, প্রতিরোধ করা আজ আমাদের সবার দায়িত্ব হয়ে পড়েছে। যার শুরুটা হতে হবে গৃহাভ্যন্তর থেকেই। এটা সবারই মনে রাখা উচিত, সামাজিক সমস্যা দূর করতে রাষ্ট্রের সহযোগিতার হয়তো প্রয়োজন রয়েছে; কিন্তু মূল দায়িত্বটি কিন্তু পরিবার তথা সমাজকেই নিতে হবে। আর নৈতিক শিক্ষা গ্রহণ করে একজন আদর্শবান নাগরিক ও সত্যিকারের দেশপ্রেমিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারলেই এই মরণব্যাধি অবক্ষয় থেকে জাতি, সমাজ এবং দেশকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading