ব্রিটেনে টিকা নিয়ে ইতিহাস গড়লেন মার্গারেট

ব্রিটেনে টিকা নিয়ে ইতিহাস গড়লেন মার্গারেট

উত্তরদক্ষিণ | মঙ্গলবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১৯:২১

মার্গারেট থ্যাচার প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হয়ে ব্রিটেনের যেমন ইতিহাস রচনা করে ছিলেন তেমনি মার্গারেট কিনান প্রথম করোনার টিকা নিয়ে গড়লেন ইতিহাস। ট্রায়ালে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ব্রিটেনে করোনা টিকা মানুষের শরীরে প্রয়োগ করার ছাড়পত্র পেয়েছিল ফাইজার। তারই প্রয়োগ শুরু হল মঙ্গলবার (০৮ নভেম্বর)। প্রথম টিকাটি নিলেন ৯০ বছরের মার্গারেট।

মার্গারেট কিনান আগামী সপ্তাহেই ৯১ বছর পা দিবেন। তিনি টিকা নেওয়ার সময় বলেন, ‘এই টিকা তার জন্মদিনের সেরা উপহার। সারা বছর করোনা প্রকোপের কারণে তাকে একা একাই কাটাতে হয়েছে। পরিবার, বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ করার সুযোগ পাননি। কিন্তু এই টিকা নেওয়ার পর সেই বাঁধা কেটে গেল।’ তিনি আগামী বড়দিনে পরিবারের সঙ্গে, বন্ধুদের সঙ্গে কাটাতে চান। আর সেই জন্যই টিকাকরণ তার এ বারের জন্মদিনের সেরা উপহার বলে মনে করছেন তিনি।

টিকা দিয়েছেন যিনি, তিনিও সমান আনন্দিত। স্থানীয় হাসপাতালের সেই নার্স মে পার্সন জানিয়েছেন, করোনার লড়াইয়ে এত গুরত্বপূর্ণ অংশ হতে পেরে তিনি আনন্দিত। ছবি: রয়টার্স

উত্তর আয়ারল্যান্ডের বাসিন্দা মার্গারেট পেশায় ছিলেন একটি গয়নার দোকানের কর্মী। ৪ বছর আগে তিনি কাজ থেকে অবসর নেন। দীর্ঘ ৬০ বছর তিনি রয়েছেন কোভেন্ট্রি এলাকায়। তিনি টিকা নিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন ইংল্যান্ডের জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার। বলেছেন, ‘‘আমি হাসপাতালের কর্মীদের শুভেচ্ছা না জানিয়ে পারছি না। আমি মনে করি, সবারই টিকা নেওয়া উচিত। আমি যদি ৯০ বছরে টিকা নিতে পারি, তা হলে সকলেই নিতে পারবেন।’’

আর টিকা দিয়েছেন যিনি, তিনিও সমান আনন্দিত। স্থানীয় হাসপাতালের সেই নার্স মে পার্সন জানিয়েছেন, করোনার লড়াইয়ে এত গুরত্বপূর্ণ অংশ হতে পেরে তিনি আনন্দিত। এ যেন এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত তাঁর কাছে। তিনি বলেছেন, ‘‘শেষ কযেক মাস, জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার হয়ে আমাদের কাজ করতে হয়েছে। সময়টা কঠিন ছিল, কিন্তু আমরা জানতাম, অন্ধকার সময়ের পরে একটা আলো আছে।’

এই ঐতিহাসিক দিনে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, ‘বিজ্ঞানী, স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসক থেকে শুরু করে যাঁরা প্রতিদিন নিয়ম মেনে চলেছেন, তাঁদের আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading