বইমেলা আগের মতোই হবে
উত্তরদক্ষিণ | রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১৪:৫৫
অনলাইনে নয় এবারও পুরনো দিনের মতো হবে বইমেলা। কিন্তু করোনাকালে তা হবে সচেতনতা ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেই। এমন সব তথ্যই জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি এবং জ্ঞান ও সৃজনশীল সমিতির নেতারা৷
রবিবার (১৩ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান তারা৷
এদিকে গতকাল শনিবার, একাডেমির “অনলাইনে বইমেলা” সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে মেলার অংশীজন প্রকাশকদের প্রতিনিধিত্বকারী দুই সংগঠন পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি এবং জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি। গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতির মাধ্যমে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
উভয় সমিতির দুই সভাপতি মো. আরিফ হোসেন ও ফরিদ আহমেদ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়. বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ একতরফা মিটিংয়ে আসন্ন ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২১’ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথচ বইমেলার সার্বিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘অমর একুশে বইমেলা পরিচালনা পর্ষদ’ বিষয়টি ওয়াকিবহাল নয়। এছাড়া প্রকাশকদের প্রতিনিধিত্বকারী দুই সংগঠন পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি এবং জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির কারও সঙ্গেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কিংবা অনানুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয় নি। অমর একুশে বইমেলা আমাদের ঐতিহ্যের অহংকার। অথচ এরকম একটি আয়োজন স্থগিতের একতরফা কর্তৃত্ববাদী সিদ্ধান্ত নিল বাংলা একাডেমি। আমরা, বাংলাদেশের প্রকাশক সমাজ, বিষয়টির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
বৈঠক শেষে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী সাংবাদিকদের বলেন,‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২১ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে আজ পর্যন্ত নানারকম বিভ্রান্তির মধ্যে আমরা যাচ্ছি৷ বিশেষভাবে নানাভাবে ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগতভাবে হোক, বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে হোক বা প্রকাশক সমিতির পক্ষ থেকে হোক, মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা তথ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে আমরা জানাতে চাই, বর্তমান কোভিড পরিস্থিতির আলোকে বৈশ্বিক এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে বাংলা একাডেমি আসন্ন বইমেলা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। গত ১০ ডিসেম্বর বিকালে বাংলা একাডেমির পরিচালনা পর্ষদ একটি সভা আহ্বান করে এবং বিষয়টি উত্থাপন করে। অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে কোভিড পরিস্থিতিতে বইমেলার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়। পরে সভার মন্তব্য লিখিতভাবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে জ্ঞাত করানো হয়।’
তিনি বলেন, ‘আলোচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, সম্প্রতি দেশে কোভিড পরিস্থিতির অবনতিতে বইমেলা স্থগিত করা হলো। পরিস্থিতির উন্নতি হলে বাংলা একাডেমি বইমেলা আয়োজন করবে। তবে অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে অ্যাক্যাডেমি ভার্চুয়াল বইমেলার আয়োজন করতে পারে। একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি সেমিনার-আলোচনা, গ্রন্থ উন্মোচন, লেখক বলছিসহ অন্যান্য আয়োজন ভার্চুয়ালি হতে পারবে। একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ ভার্চুয়ালি বইমেলা আয়োজনের বিষয়ে একাডেমিকে সার্বিক পরামর্শ দেবেন। যা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনও সিদ্ধান্ত আসলে সেটি দেখা হবে।
তিন আরও বলেন,‘আজকে প্রকাশক সমিতির নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় আমি উত্থাপন করেছি যে, বইমেলা কখনও বাতিল করা হয়নি, স্থগিত করা হয়েছে। তাদের দাবি ছিল, ফেব্রুয়ারি মাসেই বইমেলাটি শুরু করা যায় কিনা। আমি তাদের বলেছি, কবে ফেব্রুয়ারির বইমেলা শুরু করা যায় সে বিষয়ে আমাকে লিখিতভাবে জানান। তবে বাংলা একাডেমিকে আপনাদের অবশ্যই দুই মাসের সময় দিতে হবে। বইমেলা আয়োজনের জন্য। এবং সবকিছু নির্ভর করে কোভিড পরিস্থিতির উপরে, রাষ্ট্রযন্ত্রের বিবেচনার উপরে, সর্বোপরি মানুষের স্বাস্থ্যসেবার উপর৷’
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাইরে একটি কথা শোনা যাচ্ছিল, অমর একুশে বইমেলা ভার্চুয়ালি হবে। এ নিয়ে আমরা মতবিনিময় করেছি। আলোচনা শেষে আমরা একটা সিদ্ধান্ত এসেছে যে, অমর একুশে বইমেলা চিরাচরিতভাবে যেভাবে হয়, এ বছরও সেভাবেই হবে। তবে তারিখের কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। একটি তারিখ নির্ধারণ করে বইমেলার আয়োজন কীভাবে করা যায় সেরকম একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে আমরা বাংলা একাডেমিকে দেবো। বাংলা একাডেমি সেই প্রস্তাবনা সরকারকে দেবে। সরকার অনুমতি দিলে ফেব্রুয়ারি মাসের যেকোনও তারিখ থেকে বইমেলা শুরু হবে।’

