পঞ্চগড়ে শৈত্যপ্রবাহ শুরু, বাড়ছে ঘন কুয়াশা
উত্তরদক্ষিণ | রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ২১:০০
দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। হিমালয়ের পাদদেশের এই জেলায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে, জেঁকে বসেছে শীত। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এখানে ব্যতিক্রমী আবহাওয়া বিরাজ করেছিল। দিনে গরম আর রাতে শীত অনুভূত হয়েছিল। কিন্তু গত দু’দিন ধরে এখানে ঘন কুয়াশার স্থায়ীত্ব বেড়েছে। সকাল গড়িয়ে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় আচ্ছাদিত হয়ে পড়ছে গোটা জেলা। তখন এক হাত দূরেও ঠিকমতো দেখা যায় না। তবে দুপুরের পর রোদের ঝিলিক নিয়ে সূর্য দেখা যাচ্ছে। তবে মৌসুমের প্রথম শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ায় মিষ্টি রোদও উত্তাপ ছড়াতে পারছে না।
স্থানীয়রা বলছেন, অন্যান্যবারে অগ্রহায়ণের প্রথম সপ্তাহ থেকে শীতের আমেজ লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু এবার কার্তিকের প্রথম সপ্তাহ থেকেই শীত পড়তে শুরু করে।
রবিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুর পর্যন্ত সূর্য দেখা যায়নি। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। সড়ক মহাসড়কে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। ঘনকুয়াশার পাশাপাশি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ায় খেটে খাওয়া দিনমজুর, ছিন্নমূল, অসহায় মানুষ ও রিকশা-ভ্যান, অটোচালকদের দুর্ভোগ শুরু হয়েছে। পাথর শ্রমিক, চা শ্রমিকরাও বিপাকে পড়েছে। দরিদ্র অসহায় ছিন্নমূল মানুষ খড়খুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। অনেককে শহরের মোড়ে মোড়ে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে। দরিদ্র পরিবার ও খেটে খাওয়া মানুষ পেটের তাগিয়ে কুয়াশার মধ্যেই কাজের সন্ধানে বেরিয়ে যাচ্ছে। গরিব ছিন্নমূল মানুষ পুরনো কাঁথা-কম্বলগুলো জোড়াতালি ও মেরামত শুরু করছে। পঞ্চগড়ে লেপ-তোষক বানানোর ধুম পড়েছে। সামর্থ্যবানরা লেপ-তোষক তৈরিতে ব্যস্ত। শহরের পুরনো কাপড় বিক্রি বেড়েছে। সকাল থেকে রাত অবধি এসব দোকানে ভিড় করছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আর সামর্থ্যহীন গরিব, ছিন্নমুল মানুষেরা শীতবস্ত্র পাওয়ার আশায় সরকারি বেসরকারি দফতরে ভিড় করছে।
শীত থেকে বাঁচতে খড়কুটোতে আগুন জ্বালিয়ে উত্তাপ খুঁজছে সাধারণ মানুষ।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহান জানান, শীতার্তদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২১ হাজার ২শ’কম্বল ও ৫ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তা বিতরণ শেষ হয়েছে। আপাতত কোনও শীতবস্ত্র মজুত নেই। তবে কম্বল ক্রয়ের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। কম্বল ক্রয়ের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।
পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তৌহিদুল বারী বাবু জানান, হিমালয়ের খুব কাছাকাছি হওয়ায় এবার পঞ্চগড়ে আগাম শীত পড়েছে। তবে কয়েক মাস ধরে পঞ্চগড়ে ব্যতিক্রমী আবহাওয়া বিরাজ করছিল। দিনে গরম আর রাতে শীত পড়েছিল। তবে এবার পুরোপুরি শীত জেঁকে বসেছে। গত কয়েকদিন ধরে ঘনকুয়াশা বেড়েছে। আজ থেকে শৈত্যপ্রবাহও শুরু হয়েছে।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. মো. সিরাজউদ্দৌলা পলিন জানান, এখন পর্যন্ত শীত ও শীতজনিত কারণে কোনও রোগী ভর্তি হয়নি। করোনা ভীতির কারণে সাধারণ ঠাণ্ডা জ্বর ও সর্দিতে মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে না। তবে বহির্বিভাগে প্রতিদিন রোগী বাড়ছে। শৈত্যপ্রবাহ শুরু হলে রোগী ভর্তি বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

