প্রিয় প্রেয়সী
মোফাজ্জল হোসেন |উত্তরদক্ষিণ
শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১০:৩৫
প্রিয় প্রেয়সী-
তোমাকে শেষ লেখা; আর লিখব না
শেষ ভাবাভাবি, আর কখনো ভাবব না।
হৃদয়ের সিংহাসনচ্যুত হবে তুমি
তোমার ছায়াও হবে বিসর্জিত;
তোমার অহংকার, তোমার দুর্ব্যবহার
মিথ্যে অভিনয় তোমার; সবই ছিল অতিরঞ্জিত।
প্রিয় প্রেয়সী-
তোমার হাসিমুখকে মনে হয় ডিনামাইটের গোলা
তোমার অপলক চেয়ে থাকা যেন নষ্ট ছলাকলা।
তোমার ঘৃণা, উদ্ধত অহংকার
বিষিয়েছে আমার মন; তোমার নিষ্ঠুর কদাচার।
তুমি হেঁটে গেলেই শুনি মীরজাফরের পদধ্বনি
তোমার ফের পিছু ফেরা যেন বিষধর সাপের ফণী।।
তোমার মায়াবী কান্নাকে মনে হয় নিদারুণ অভিনয়,
তোমার কিছু আবদার ছিল শুধু মিথ্যে অনুনয়।
বিসর্জিত আত্মশ্লাঘা কিংবা ভূয়োদর্শন
তোমার নাটকের সব স্ক্রিপ্ট ছিল সুদক্ষ, সুনিপন।
প্রিয় প্রেয়সী-
তোমাকে নিয়ে শেষ লেখা; আর লিখব না
তোমাকে লেখা শেষ অভিযোগ; আর কখনো অভিযোগ করব না।
মিনতি, অনুনয়, প্রচেষ্টা-
তোমার রুদ্ধতা, খিপ্রতা কিংবা সীমাবদ্ধতা
অথবা অযাচিত বিস্ময়ের সীমাহীন অবাধ্যতা
তোমার নষ্ট মনের নষ্ট কদর্যতা;
বিরামহীন ভালোবাসার পথে হয়েছে মৌনতা।
তাড়িত স্বপ্ন আচমকা করেছে পদস্থল-
তোমার শেষ ছলনার পর,
হারিয়েছি রাঙা প্রভাত, স্নিগ্ধ বিকেল, বিনিদ্র রজনী অতঃপর।
তোমার অভিনয়স্বত্ত্বা, ছলনার বেড়াজাল
ভুলো হবে না এ মন, আমার সুদীর্ঘ মহাকাল।
তুমি আমার জীবনের হেলেন
পুষ্পিত গোলাপে রক্তের দাগ;
বিস্মিত চারুকলা কিংবা নাট্যমঞ্চ
সুললিত মুখবচন, তোমার রূপের দেমাগ।
অভিলিপ্সু কিংবা নিরবধি সন্ধিক্ষণ
তোমার কদর্য চাহনি কিংবা মিথ্যে আস্ফালন-
এই নরম হৃদয়ে শেল বিঁধেছে বারবার
কেউ দেখেনি অশ্রু, কেউ শুনেনি শব্দ ভবঘুরে কান্নার।
প্রিয় প্রেয়সী-
তোমাকে শেষ জিজ্ঞাসা; আর চাইব না কোন প্রতিউত্তর
কেন ঠকালে আমায়? কেন করলে প্রতারণা? কেন পোড়ালে এই হৃদয় প্রান্তর?

