করোনা ঠেকাতে কতটুকু ইমিউনিটি লাগে?
উত্তরদক্ষিণ | রবিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১৪:৫৫
বিশেষজ্ঞরা করোনা মহামারির শুরুতে বলে আসছিলেন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ করোনা প্রতিরোধী হয়ে উঠলেই মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এখনও এই সংখ্যাটির কথা বলে যাচ্ছে। নিশ্চিত করে কোনও সীমার কথা বলা অসম্ভব হলেও এর সম্পর্কে ধারনা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। এই ধারণা থাকলে মানুষ আবারও কবে স্বাধীনভাবে শ্বাস নিতে পারবে তার একটা আগাম ধারণা পাওয়া যায়।
সম্প্রতি হার্ড ইমিউনিটির আনুপাতিক সংখ্যা বাড়াতে শুরু করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি।
মহামারির শুরুর দিকে বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞের মতো অ্যান্থনি ফাউচি-ও ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের কথা বলেছেন। প্রায় এক মাস আগে তিনি বলেন, এটা ৭০, ৭৫ হতে পারে। আর গত সপ্তাহে সিএনবিসি নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেন ৭৫ থেকে ৮০-র বেশি শতাংশ মানুষ প্রতিরোধী হয়ে উঠলে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করা যাবে।
তার পরের দিনে এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ফাউচি স্বীকার করেন ইচ্ছাকৃতভাবেই তিনি টার্গেট সরিয়ে নিচ্ছেন। ফাউচি বলেন, এর একটা কারণ নতুন বিজ্ঞান আর আরও একটা কারণ হলো তিনি বুঝতে পারছেন মানুষ আসলে তার চিন্তাটার কথাই শুনতে চাইছে। ফাউচি বলেন, ভাইরাস সংক্রমণ থেমে যেতে হয়তো ৯০ শতাংশ ইমিউনিটির দরকার পড়বে। হামের সংক্রমণ বন্ধ হতেও এই পরিমাণ ইমিউনিটির দরকার পড়েছিলো।
ফাউচি’র মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রখ্যাত মহামারি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিনি হয়তো সঠিক প্রমাণিত হতে পারেন। তারা বলছেন প্রাথমিকভাবে ৬০-৭০ শতাংশের ধারনা আসলেই অনেক কম ছিলো। আর ভাইরাসটি বেশি সংক্রামক হয়ে ওঠায় থামাতে আরও বেশি হার্ড ইমিউনিটির দরকার পড়বে।
ড. অ্যান্থনি ফাউচি গত সপ্তাহে বলেন, হার্ড ইমিউনিটির পরিমাণ বাড়ানো নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন তিনি। কারণ বহু মার্কিন নাগরিক তখনও করোনাভাইরাটের টিকা গ্রহণ নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন। কিন্তু কোনও দেশের হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করতে হলে বেশি মানুষের টিকা গ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে কয়েকটি জরিপে দেখা যাচ্ছে, অনেক বেশি মার্কিন নাগরিক টিকা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত, এমনকি আগ্রহ নিয়ে টিকার অপেক্ষায় রয়েছেন। ফাউচি বলেন, তার মনে হয়েছে, তিনি সেই কঠিন বার্তাটি দিতে পেরেছেন যে স্বাভাবিক জীবন ফেরা ধারনা চেয়ে আরও বহুদূরে।
ড. অ্যান্থনি ফাউচি বলেন, জরিপে যখন বলা হচ্ছিলো অর্ধেক মার্কিন নাগরিক টিকা নিতে পারে তখন আমি বলেছিলাম হার্ড ইমিউনিটি ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ হতে পারে। আবার যখন নতুন জরিপে বলা হলো ৬০ শতাংশ টিকা নিতে পারে তখন আমি বললাম হার্ড ইমিউনিটি ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা সত্যিই জানি না সংখ্যাটি আসলে কতো। আমার মনে হয় সত্যিকার সংখ্যাটি ৭০ থেকে ৯০ এর মধ্যে হতে পারে। কিন্তু আমি বলছি না এটা ৯০ শতাংশ হতে যাচ্ছে।’
ফাউচি মনে করেন সেইরকম বলা হলে মার্কিন নাগরিকেরা নিরুৎসাহিত হতেন। কারণ লক্ষ্যে পৌঁছানোর মতো যথেষ্ট পরিমাণ মার্কিনি স্বেচ্ছায় টিকা নেবেন বলে নিশ্চিত নন তিনি। জনমত জরিপ এই বছর ওঠানামা করলেও বর্তমান কয়েকটি জরিপপে দেখা যাচ্ছে প্রায় ২০ শতাংশ মার্কিনি কোনও টিকা নিতে ইচ্ছুক নন।
মার্কিন বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি মনে করেন হামের মতো করোনাভাইরাসের হার্ড ইমিউনিটির পরিমাণ ৯০ শতাংশ কিংবা তার বেশি হবে না। তিনি বলেন, আমি আমার বাড়ি বাজি রেখে বলতে পারি কোভিড হামের মতো সংক্রামক নয়।
উল্লেখ্য, হামকে মনে করা হয় দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি সংক্রামক রোগ। কয়েক ঘণ্টা বাতাসে ভাসতে পারে ভাইরাসটি এমনকি পাশের কক্ষের মানুষকেও আক্রান্ত করতে পারে। কয়েকটি জরিপ দেখা গেছে, সামরিক ব্যারাক এবং শিক্ষার্থী আবাসনের মতো জায়গায় হাম ৯৫ শতাংশ মানুষ প্রতিরোধী হওয়ার আগ পর্যন্ত ভাইরাসটি সংক্রামক থাকতে পারে।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস

