প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হোক: মিয়ানমারকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হোক: মিয়ানমারকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

উত্তরদক্ষিণ | সোমবার, ০৪ জানুয়ারী, ২০২১ | আপডেট: ০৮:৪৯

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন নতুন বছরে মিয়ানমাকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন ।

নববর্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি লেখার কথা উল্লেখ করে রবিবার(৩ জানুয়ারি) তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের একটা বড় চ্যালেঞ্জ রোহিঙ্গা। আমাদের প্রত্যাশা, এ বছর আমরা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটা বাস্তবায়ন করতে চাই, যাতে শুরু হয়। আপনারা জানেন আমরা কয়েক বছর ধরে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

“আমি আমার কাউন্টার পার্ট মিয়ানমারের উনাকে বলেছি, নতুন বছরে আপনাদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আর সে সাথে আমরা চাই, এ (প্রত্যাবাসন) প্রসেসটা চালু হোক।”

২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর কয়েক মাসের মধ্যে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। আগে থেকে বাংলাদেশে ছিল আরও চার লাখ রোহিঙ্গা।

প্রত্যাবাসনের সহায়ক পরিবেশ তৈরির জন্য চিঠিতে মিয়ানমারকে আহ্বান জানানোর কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, “আপনারা বারবার বলেছেন, আপনারা তাদের নিয়ে যাবেন, ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে। আপনারা বলেছেন, তাদেরকে সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি দিবেন, এটা আমাদের ডিমান্ড।”

“আপনারা বলেছেন সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবেন, যাতে স্বেচ্ছায় যায়। কিন্তু প্রগ্রেসটা হয়নি। এজন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছাটা দরকার। নববর্ষে আমরা আশা করি, আপনারা আপনাদের কথা রাখেন।”

চিঠিতে তিনি আরও বলেন, “ঐতিহাসিকভাবে আপনারা কথা রেখেছেন। ৭৮ সালে বহু লোক চলে আসছিল। ৯১ সালেও অনেক লোক ফিরে আসে। তারপর ৯২ সালে আলোচনার মাধ্যমে আমরা আপনাদের মিয়ানমার থেকে এক্সোডাস হয়েছিল, দুই লাখ ৫৩ হাজার। আপনারা ১৯৯২ সালে ২ লাখ ৩০ হাজারকে নিয়ে গেছেন।”

“সুতরাং আমরা আশা করি, এ বছরে পরিমাণটা অনেক বড়। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস এবং প্রত্যাশা আপনারা আপনাদের নাগরিকদের নিয়ে যাবেন। আপনাদের লোকগুলোকে নিয়ে যাবেন। এজন্য যে, এই লোকগুলো আপনাদের কাজে লাগবে।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, “লোকগুলো না নিলে অশান্তি হওয়ার সম্ভাবনা। আর অশান্তি হলে সবার জন্য অসুবিধা। তখন আমাদের যে আশা এই অঞ্চলটাকে উন্নত করা (তা ব্যাহত হবে)। কারণ শান্তি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব না।

রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই প্রস্তাবের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে ‘নতুন জোরালো ম্যান্ডেট’ তৈরি হল বিশ্ববাসীর সামনে’।

প্রস্তাবের পক্ষে ১৩২ দেশের সমর্থন দিয়েছে আর বিপক্ষে ছিল ৯ দেশ।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading