৬২ আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত ইন্দোনেশীয় উড়োজাহাজ
উত্তরদক্ষিণ | রবিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২১ | আপডেট: ০৯:৪৫
৬২ জন আরোহী নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার শ্রীবিজয়া এয়ারের একটি উড়োজাহাজ জাকার্তা থেকে উড্ডয়নের পরপরই সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার (৯ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় বেলা আড়াইটায় জাকার্তা থেকে যাত্রী নিয়ে ওয়েস্ট কালিমান্তান প্রদেশের রাজধানী পনতিয়ানাকের উদ্দেশে রওনা হয় বোয়িং ৭৩৭-৫০০ উড়োজাহাজটি।
প্রবল বৃষ্টির কারণে উড়োজাহাজটি রওনা হয়েছিল নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা পর । কিন্তু উড্ডয়নের পরপরই ফ্লাইট এসজে ১৮২ এর সঙ্গে কন্ট্রোল টাওয়ারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রী বুদি কারিয়া এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিমানবন্দর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে লাকি দ্বীপের কাছে সাগরে বিধ্বস্ত হয় শ্রীবিজয়ার উড়োজাহাজটি।
ওই ডমেস্টিক ফ্লাইটে ১২জন ক্রুসহ মোট ৬২ জন আরোহী ছিলেন, তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানা যায়নি। তাদের সবাই ইন্দোনেশীয় নাগরিক বলে দেশটির ট্রান্সপোর্ট সেইফটি কমিটি জানিয়েছে।
উদ্ধারকারী সংস্থা বাসারনাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটির আরোহীদের খোঁজে হাজারো দ্বীপের মাঝে ওই এলাকায় যাচ্ছে তাদের একটি দল।
উড়োজাহাজটির বিধ্বস্ত হওয়ার স্থানটি চিহ্নিত করার পর ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনী সেখানে জাহাজ পাঠিয়েছে বলে নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ওই ফ্লাইটের কারও জীবিত থাকার আশা আছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি।
শ্রীবিজয়া এয়ারের প্রধান নির্বাহী জেফারসন ইরউইন জওউয়েনা এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, যাত্রা শুরুর আগে উড়োজাহাজটিতে কোনো সমস্যা ছিল না।
বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি ২৭ বছরের পুরনো একটি বোয়িং ৭৩৭-৫০০। এর আগে ২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়ার এয়ারলাইন লায়ন এয়ারের একটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ ১৮৮ জন আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত হওয়ার পর সবাই মারা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিকাংশ বিমান দুর্ঘটনার পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকে আর সেগুলো খুঁজে বের করতে কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে।
উড়োজাহাজটির আরোহীদের উদ্বিগ্ন, বিপর্যস্ত স্বজনরা জাকার্তা থেকে প্রায় ৭৪০ কিলোমিটার দূরে পনতিয়ানাকে অপেক্ষা করছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

