আমেরিকান না হওয়ায় বেঁচে গেল কবুতরটি

আমেরিকান না হওয়ায় বেঁচে গেল কবুতরটি

উত্তরদক্ষিণ | শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১ | আপডেট: ১৬:০২

জো নামের কবুতরটি সাক্ষাৎ মৃত্যুর হাত থেকেই বেঁচে গেল। কোয়ারেন্টিনের শর্ত ভাঙার যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠেছিল, তা শেষ পর্যন্ত ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। কারণ, সে অস্ট্রেলিয়ারই পাখি।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোয় খবর প্রকাশিত হয়, আমেরিকা থেকে ৯ হাজার মাইল (প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ কিলোমিটার) পথ পাড়ি দিয়ে কবুতরটি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে গেছে।

খবরে আরও জানানো হয়, গত অক্টোবরে কবুতরটি আমেরিকা থেকে নিখোঁজ হয়। এর প্রায় তিন মাস পর মেলবোর্নের বাসিন্দা কেভিন চেলি–বার্ডের বাড়ির আঙিনায় জোকে দেখা যায়। তার পায়ের গোড়ালিতে থাকা ব্যান্ড দেখে তিনি ধারণা করেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় কোনো প্রজাতির কবুতর। তা ছাড়া কবুতরটির পায়ে চিরকুটের মতো একটি ট্যাগেও এর আমেরিকার পরিচয় লেখা ছিল।

কেভিন চেলি–বার্ডই মূলত কবুতরটির নাম রাখেন জো। আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নামে এই নামকরণ করা হয়। কেভিন চেলি–বার্ড জানিয়েছিলেন, কবুতরটির মালিক আমেরিকার আলাবামার একজন বাসিন্দা।

এই খবর চাউর হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। দেশটির কৃষি দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, জো অস্ট্রেলিয়ার কঠোর কোয়ারেন্টিনের শর্ত ভেঙেছে। কবুতরটি ওই দেশের স্থানীয় পাখি ও হাঁস–মুরগিশিল্পের জন্য জৈব নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। কারণ, পাখিটির স্বাস্থ্য সম্পর্কে কেউ কিছু জানে না। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় এটি আর যেসব পাখি বা প্রাণীর সংস্পর্শে এসেছে, সেগুলোর স্বাস্থ্যের অবস্থাও অজানা। কাজেই নিরাপত্তার স্বার্থেই জো নামের কবুতরটিকে মেরে ফেলতে হবে।

তবে শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জোয়ের পায়ের ট্যাগ ও ব্যান্ডটি সম্ভবত ভুয়া। অর্থাৎ এটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসেনি। অস্ট্রেলিয়ারই স্থানীয় পাখি এটি।

পিজিয়ন রেসকিউ মেলবোর্ন নামের একটি সংগঠনের বিশেষজ্ঞ লার্স স্কট এএফপিকে বলেন, স্থানীয় টার্কিশ টাম্বলার নামের একটি কবুতর প্রজাতির সদস্য জো। এই প্রজাতির কবুতর বেশি দূর উড়তে পারে না।

স্কট জানান, জো যে আমেরিকার কোনো কবুতর প্রজাতির সদস্য নয়, তা সমর্থন করেছে আমেরিকান রেসিং পিজিয়ন ইউনিয়ন নামের একটি সংগঠনও। এটি যুক্তরাষ্ট্রের কবুতরপ্রেমীদের একটি জাতীয় সংগঠন। এক ফেসবুক পোস্টে সংগঠনটি বলেছে, জো যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রজাতি নয়। আমেরিকায় কবুতরটির সম্ভাব্য মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সংগঠনটি। ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, ওই কবুতরের মালিক তিনি নন।

এদিকে জোয়ের পরিচয় নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার কৃষি দপ্তর বলেছে, কবুতরটির পায়ে থাকা ট্যাগে যে পরিচয় রয়েছে, তা আমেরিকার। কিন্তু এটি অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় প্রজাতির বলে আলোচনা চলছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে কবুতরটির প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হতে তারা কাজ শুরু করেছে।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘যদি জো আমাদের কড়া জৈব নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে এ দেশে ঢুকে থাকে, তাহলে তার জন্য দুর্ভাগ্য অপেক্ষা করছে। হয় তাকে উড়ে বাড়ি ফিরে যেতে হবে, নয়তো চরম পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।’

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading