বাতাসের মান তলানিতে, পড়ে আছে রোড সুইপার ট্রাক
উত্তরদক্ষিণ | শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১ | আপডেট: ১৬:১২
ঢাকার ধুলাবালি কমাতে দুই সিটি করপোরেশনের কাছে থাকা ৬টি অত্যাধুনিক রোড সুইপার ট্রাক ফেলে রাখা হয়েছে। রিয়েলটাইম এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকার বাতাস ছিল ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’। কিন্তু এ নিয়ে মাথাব্যথা নেই দুই সিটি করপোরেশনের।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, প্রযুক্তি থাকলেও তা ব্যবহার না করা দায়িত্বের চরম অবহেলা। এর জন্য সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি ধুলা দূষণের জন্য শহরে রেড অ্যালার্ট জারিও আবশ্যক হয়ে পড়েছে।
ঢাকার মাত্রাতিরিক্ত ধুলা-দূষণের পেছনে দায়ী করা হচ্ছে নির্মাণকাজ, সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি ও বর্জ্যের অব্যবস্থাপনাকেই। পরিস্থিতির উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোনও পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। অথচ এর জন্য শত কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নতুন করে প্রকল্পও নেওয়া হচ্ছে। এগুলো আদৌ সফল হবে কি না তা নিয়েও পরিবেশবিদদের শঙ্কা রয়েছে।
জানা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ঢাকার বাতাসের মানোন্নয়নে ৮০২ কোটি টাকা ব্যয়ে সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেইস) শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছিল পরিবেশ অধিদফতর। পুরো টাকাই খরচ হয়েছে। কিন্তু বাতাসের মান উন্নয়ন তো দূরের কথা, ১২ বছরে দূষণ আরও বেড়েছে। এ অবস্থায় নতুন করে আরও সাত হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। দেশের পরিবেশের মানোন্নয়নে যা এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় প্রকল্প হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ুমন্ত্রী।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বিশেষজ্ঞদের মতামত, বাস্তবতা ও টেকনিক্যাল বিষয়গুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা হলে আগের মতো এ প্রকল্পও ভেস্তে যাবে।
এ প্রসঙ্গে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেছেন, দেশের সার্বিক পরিবেশের গুণগত মান উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (বেস্ট)’ নামের একটি বড় আকারের প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি দেশের বায়ু ও পানির মান এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ পরিবেশের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

