সাকিবের তৃতীয় সন্তান এবং আমাদের মন-মগজ

সাকিবের তৃতীয় সন্তান এবং আমাদের মন-মগজ

উপ-সম্পাদকীয় | উত্তরদক্ষিণ
মুদ্রিত সংস্করণ: রবিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২১ | আপডেট: ০০:০১

তাসফিয়া রাত্রি :: গত ডিসেম্বরে ‘তিনটা বাচ্চার যত্ন নেওয়ার জন্য স্ত্রী শিশিরকে ধন্যবাদ’ জানান, জনপ্রিয় ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসান। বিয়ের ৮ম বছর পূর্তিতে ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে সাকিব এই কথা লেখেন।

স্ত্রী শিশিরকে উদ্দেশ্য করে তিনি লিখেছিলেন, ‘ধন্যবাদ আট বছর ধরে তিনটা বাচ্চার যত্ন নেওয়ার জন্য। আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি তা হয়ত বলতে পারব না, তবে এটুকু বলতে পারি, আমি তোমার সাথে আমার জীবনে সবচেয়ে দীর্ঘতম পার্টনারশিপটা করতে চাই। তোমার আগমন আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ ঘটনা। আমি তোমাকে ভালোবাসি!’

হঠাত্ এমন পোস্ট দেখে (তিনটা বাচ্চা) পাঠক-ভক্তদের মনে সাকিবের তৃতীয় সন্তানের বিষয়টির কথা মনে হলেও, বিষয়টি আসলে অন্য কিছু ছিল। সাকিব নিজের দুই সন্তানের কেয়ার করার (যত্ন) জন্য এবং সেই সাথে সাকিব নিজেকেও একটি ‘বাচ্চা’ অর্থে অভিহিত করেছিলেন। যার অর্থ এই দাঁড়ায় সাকিবের নিজের বাচ্চাসুলভ আচরণ এবং সেই সাথে তার দুই সন্তানকে শিশির সামলে রাখেন, তাই তাকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন সাকিব।

এবার জানুয়ারিতে এসে আবার আলোচনায় সাকিবের ‘সন্তান’। এবারও সাকিবের ফেসবুক পোস্ট থেকেই… নতুন বছরের প্রথম দিনেই সুখবর জানান সাকিব আল হাসান। ফেসবুকে স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশিরের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে ভক্তদের শুভেচ্ছা জানান তিনি। স্ত্রী শিশিরের বেবিবাম্পের ছবিটি যদি সাম্প্রতিক সময়ে তোলা হয়, তার মানে দাঁড়াবে তৃতীয়বারের মতো বাবা হতে চলেছেন সাকিব। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘নতুন বছর, নতুন শুরু, নতুন সংযোজন। সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা।’

পোস্ট দেওয়ার পরই তা ভাইরাল হয়ে যায়। তবে ছবিটি কবে তোলা সেটি জানা না গেলেও ‘নতুন সংযোজন’ কথাটি ইঙ্গিত বুঝতে বাকি নেই কারো। সাকিব-শিশির দম্পতির সংসারে দুইটি কন্যা সন্তান রয়েছে। ২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করে সাকিবের প্রথম কন্যা আলায়না হাসান। গেল বছর (২০২০) এপ্রিলে দ্বিতীয়বার বাবা হন সাকিব। দ্বিতীয় কন্যার নাম ইররাম হাসান। এবার তৃতীয় সন্তানের বাবা হতে যাচ্ছেন সাকিব।

সাকিব আল হাসান বাবা হচ্ছেন। নিঃসন্দেহে ভাল কথা। প্রথম নাকি তৃতীয়, সেটি তো পাবলিকের ইস্যু হওয়ার কথা নয়। এটি তার একান্তই ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক বিষয়। কিন্তু সাকিবের এই পোস্টের কমেন্টগুলো মোটেও তা মনে হয়নি। কেউ কেউ অভিনন্দন বার্তা বা শুভেচ্ছাবার্তা লিখলেও বেশিরভাগ কমেন্টবক্সের বেশিরভাগ মন্তব্যই ছিল কুরুচিকর এবং নোংরা সমালোচনায় ভরপুর। যা একটি জাতির মন-মগজে থাকা অসুস্থ রুচির পরিচায়ক। পাবলিক প্লেসে এসে এমন রুচির পরিচয় না দিলেই কি নয়? অনেকে আবার শুধু কমেন্টে নয়, আলাদা আলাদা পোস্টও দিয়েছেন এই ইস্যুতে যেগুলতে সাকিবকে নিয়ে ট্রল করা হয়েছে।

অবশ্য এমন ঘটনা নতুন নয়, সেলিব্রিটিদের বিয়ে, ডিভোর্স বা বিভিন্ন বিষয় নিয়েই বছরজুড়ে সমালোচনা বা ট্রল করতে ব্যস্ত থাকেন এক দল মানুষ। কিন্তু কেন এদের কি আর কোনো কাজ নেই? গঠনমূলক চিন্তাভাবনা কেন তাদের মন-মগজে আসে না, সেটাই প্রশ্ন।

সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক সংগীত শিল্পীর ছবি নিয়েও উঠেছিল সমালোচনার ঝড়। যদিও পরে সেই ছবির রহস্য উদঘাটন হওয়ার পর জানা যায় সেটি আসলে অন্য ব্যাপার ছিল। এর আগে অভিনেত্রী শমী কায়সারের বিয়ে, শবনম ফারিয়ার ডিভোর্স নিয়েও কম সমালোচনা হয়নি।

অন্য সেলিব্রিটিদের ইস্যু বাদই দিলাম। এর আগেও দেখা গেছে সাকিবের শিশুকন্যার ছবি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতে। যদিও পাবলিক ফিগার হিসেবে সেসব মন্তব্য পাত্তা দেননি সাকিব আল হাসানের পরিবার। এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় বিরক্তি প্রকাশ করেন সাকিব আল হাসানের স্ত্রী।

কিন্তু কেন? এমন মন-মগজ-রুচির পরিচয় কেন দিতে হবে পরচর্চা করে? এই সময়টা কি অন্য কোনো গঠনমূলক কাজে ব্যয় করা যায় না? যে যার মতো থাকলে আপনার আমার সমস্য কোথায়? ব্যক্তিগত জীবনে মানুষ হাজার রকম সমস্যা নিয়ে বেঁচে থাকে, তার মধ্যে যদি কাউকে নিয়ে এরকম পাবলিক্যালি ট্রল করা হয়, তাতে তো সে আরও অসহনশীল পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যায়। আমরা কি পারি না এসব ক্ষেত্রে একটু সংযমী হতে? পারি না আরেকটু দায়িত্বশীল নাগরিকের পরিচয় দিতে? লেখক: সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading