মেজর জেনারেল মঞ্জুর হত্যাকাণ্ড: ন্যায় বিচার ও রাজনৈতিক পাপ
মুদ্রিত সংস্করণ | উত্তরদক্ষিণ
মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২১ | আপডেট: ০০:০১
মেজর জেনারেল এম এ মঞ্জুর, বীর উত্তম-এর হত্যাকান্ডের বিলম্বিত বিচার প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক অনুঘটন নিয়ে উত্তরদক্ষিণ-এর বিশেষ প্রতিবেদন
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন চৌকষ সেনানায়ক এক্স বীর মুক্তযোদ্ধার নাম মেজর জেনারেল এম এ মঞ্জুর, বীর উত্তম। ১৯৪০ সালে জন্ম নেয়া এ জেনারেলকে নির্মমভাবে হত্যা করা ০২ জুন, ১৯৮১। তারপর কেটে গেছে সুদীর্ঘ ৪০ বছর । তারপর এখনও শেষ হয়নি সেই বিচার।
জানুয়ারির ২য় সপ্তাহে আবারও পত্রিকার পাতায় খবর হয়ে এসেছে মঞ্জুর হত্যাকাণ্ড, সংগে জেনারেল মঞ্জুর হত্যার কুশীলবদের নাম। গত ১২ জানুয়ারী মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এই সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। আগামী ২৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্রটির শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে। ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলারা আলো চন্দনার আদালতের এ সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ সুপার কুতুব উদ্দিন।

মেজর জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলায় জাতীয় পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ (এইচএম এরশাদ) ও মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল লতিফকে অব্যাহতি দিয়ে সম্পূরক চার্জশিট ( অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়েছে। মৃত্যু হওয়ায় তাদেরকে মামলার দায় হতে অব্যাহতি দিয়ে এ চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।মেজর (অব.) কাজী এমদাদুল হক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোস্তফা কামাল উদ্দিন ভূইঞা ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) শামসুর রহমান শমসেরকে অভিযুক্ত করে সম্পূরক চার্জশিট দিয়েছে সিআইডি।
প্রায় ৪০ বছর আগে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার তো এখনও হয়নি। তারপর নানা ‘টেকনিকে’ বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করে অবশেষে প্রধান অভিযুক্ত মৃত্যুজনিত কারণে বিচারের হাত থেকে বেঁচে গেলেন।
মঞ্জুর হত্যাকাণ্ডের বিচার অনেক আগে নিস্পত্তি হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হত। এ বিচার বিলম্বিত হওয়া এক ধরণের রাজনৈতিক অপরাধের মধ্যে পড়ে। সেই অপরাধে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ বা বিএনপি দায়ী হবে না। জাতীয় পার্টি ও জামাতসহ তাদের জোট সঙ্গী আপরাপর রাজনোইতিক দলগুলো রেহাই পেতে পারে না। শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকা বা ক্ষমতায় যাও্য়ার জন্য প্রধান অভিযুক্ত এরশাদ ও তার সঙ্গীদের প্রয়োজনের কারণে মঞ্জুর হত্যাকান্ডের বিচারের বিলম্বিত করা হয়েছে। ন্যায় বিচার আজও প্রতিষ্ঠিত হল না।

