ঘন কুয়াশা: দেশের তিন পথেই যোগাযোগ ব্যাহত
উত্তরদক্ষিণ | শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২১ | আপডেট: ১০:৪৫
ঘন কুয়াশার কারণে দেশের তিন পথের (জলপথ স্থলপথ এবং আকাশপথ) যোগাযোগ ব্যবস্থাই কার্যত কিছুটা ব্যাহত হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, ঘন কুয়াশার কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সবগুলো অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে।
মূলত ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট অবতরণ করতে না পারায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এদিন ১৫০ যাত্রী নিয়ে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট (বোয়িং ৭০৭) মালয়েশিয়া থেকে এসে ঢাকায় নামতে না পেরে সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার ফরহাদ হোসেন খান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এদিন সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের তিনটি ফ্লাইটে ভ্রমণ করার কথা রয়েছে ৫ শতাধিক যাত্রীর। কিন্তু আপাতত তাদেরকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে বিমানবন্দরেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় ফ্লাইট চালু হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ঘন কুয়াশা আর বঙ্গবন্ধু সেতুতে দফায় দফায় টোল আদায় বন্ধ থাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে সিরাজগঞ্জ রোড পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত দফায় দফায় কয়েক ঘণ্টা বন্ধ রাখায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়।
যানজটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। তীব্র শীতের কারণে শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা বেশি কষ্টে পড়েছেন।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘন কুয়াশার কারণে সেতুর ওপর দুর্ঘটনা এড়াতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে বেশ কয়েকবার টোল আদায় বন্ধ রাখা হয়। এজন্য কয়েক ঘণ্টা সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচল করতে পারেনি। তাই সেতুর দুই পাড়ে যানবাহন আটকা পড়ে গাড়ির দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে সেতুতে টোল আদায় শুরু হলেও মাত্রাতিরিক্ত গাড়ির কারণে ধীরগতিতে যান চলাচল করছে।
এছাড়া ঘন কুয়াশার কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় বৃহস্পতিবার রাত ২টা থেকে ফেরিসহ সকল নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। এ সময় কুয়াশায় পথ দেখতে না পেয়ে মাঝ নদীতে যানবাহনসহ আটকা পড়েছে কয়েকটি ফেরি। বিআইডব্লিউটিসি আরিচা অঞ্চলের ডিজিএম জিল্লুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে রাত থেকে ফেরি বন্ধ থাকায় দুইপাড়ে নদী পারের অপেক্ষায় সিরিয়ালে আটকা পড়েছে কয়েকশ যানবাহন। প্রচণ্ড শীতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এসব যানবাহনের যাত্রী ও চালকরা।
জানা গেছে, রাতে নদীর ওপর কুয়াশা চরম আকারে বেড়ে গেলে দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরিসহ সকল নৌযান চলাচল বন্ধ করা হয়। কুয়াশা কেটে গেলে আবার নৌযান চালু করা হবে। আর তখনই আটকে পড়া যানবাহনের সিরিয়াল কমে যাবে।

