জলমানবমাইকেল ফেলপসের উত্থান
উত্তরদক্ষিণ | রবিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২১ | আপডেট: ০৮: ৫৮
১৯৯৬ সালের ইস্টার্ন জোন চ্যাম্পিয়নশিপে, মাত্র ১০ বছর বয়সে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন মাইকেল ফেলপস। ৫০০ গজ ফ্রিস্টাইল ফেলপস শেষ করেন ৬ মিনিটের নিচে, যেটি কি না ২০ বছরের নিচে কোনো সাঁতারুই করতে পারেননি।
সেই চ্যাম্পিয়নশিপেই ফেলপসের বন্দনা বাল্টিমোর ক্লাব পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে পুরো আমেরিকায়। সেই বন্দনায় আর যতি পড়তে দেননি ফেলপস। এর কিছুদিন পর বয়সভিত্তিক দলে ১০০ মিটার বাটারফ্লাইতে নিজের রেকর্ডই আবার ভাঙেন, সময় নেন ১:০৮:৫৪, যেটি ছিল অবিশ্বাস্য। সেবার ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে চেজ মরটনের রেকর্ডটি অল্পের জন্য ভাঙতে না পারলেও চ্যাম্পিয়ন বেশেই পুল ছেড়েছিলেন। পুরো মৌসুমে তিনটি শর্ট কোর্স ও তিনটি লং কোর্স ইভেন্টে প্রথম স্থান অধিকার করে বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, পুলে ঝড় তুলতেই তার জন্ম।
ফেলপস পরবর্তীতে হাইমস গ্রুপে সাঁতার কেটেছিলেন আরো এক বছর। নিজের ১১তম জন্মদিনের কিছুদিন আগেই যোগ দেন বব বাউম্যানের গ্রুপে। বাউম্যানের অধীনে নিজেকে সবচেয়ে শাণিত করেন ফেলপস। শিষ্যের প্রতিভার ব্যাপারটি আগেই ধরতে পেরেছিলেন বাউম্যান।
২০০১ সালের, ২৪ জুলাই। ফেলপসের বয়স ১৫ বছর; আরো নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে, ১৫ বছর ৯ মাস। যুক্তরাষ্ট্রে তখন রাত দু’টো। জাপানের ফুকৌকোতে ২০০ মিটার বাটারফ্লাইতে বিশ্বরেকর্ড ভেঙে ততক্ষণে খেলাধুলার ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী রেকর্ডধারী ফেলপস। ফোনে খবর পেয়ে বাউম্যান সবাইকে বলে বেড়াচ্ছেন, ‘এই খবর অবিশ্বাস্য। আমার মনে হয় না কেউ এই খবর বিশ্বাস করবে।’
পরিসংখ্যানের চোখে ফেলপসই সর্বকালের সেরা অলিম্পিয়ান। ২৩টি স্বর্ণপদকসহ সর্বমোট ২৮টি অলিম্পিক মেডেল তার ঝুলিতে, যা কি না আধুনিক অলিম্পিকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আপনি যদি বলেন দলগত নৈপুন্য সেসবে অন্তর্ভুক্ত নয়, তাহলেও দ্বিতীয় হওয়ার জো নেই। ফেলপসের ১৬টি ব্যক্তিগত মেডেলও ইতিহাসের সর্বোচ্চ।
২০০৪ এথেন্সে নিজের নাম চিনিয়েছেন। তিনটি বিশ্বরেকর্ড গড়ে ৬টি স্বর্ণ আর ২টি ব্রোঞ্জসহ পদক জিতেছিলেন সবক’টি বিভাগে। ২০০৮ বেইজিংএ শুধু সবক’টি বিভাগে স্বর্ণই জেতেননি, ৮টি ইভেন্টের মধ্যে ৭টিতেই করেছেন বিশ্বরেকর্ড। আর বাকি একটিতে? দুর্ভাগ্যবশত সেটিতে নিজের করা রেকর্ড নিজেই ভাঙতে পারেননি। ২০১২ লন্ডনেও ২৭ বছর বয়সী ফেলপস জিতেছেন চারটি সোনা আর দুইটি রৌপ্য। ততদিনে তিনি জীবন্ত কিংবদন্তি। সেবার পুলে নামার আগে বলেছিলেন, এই শেষ। শেষের আগে সবটুকু দিয়ে যেতে চান।
কিন্তু জলের টান উপেক্ষা করতে পারলেন না বেশিদিন, ফিরে এলেন ২০১৬ এর রিও ডি জেনিরোতে। সেই ‘বুড়িয়ে যাওয়া’ ফেলপস আবার জিতলেন ৫টি গোল্ড, সাথে একটি সিলভার মেডেলও। অমরত্ব নিশ্চিত করলেন মাত্র ৩১ বছর বয়সেই।

