পি কে হালদার ধরা পড়বে তো?
বিশেষ প্রতিবেদন | উত্তরদক্ষিণ
মুদ্রিত সংস্করণ: রবিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২১ | আপডেট: ০০:০১
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সবচেয়ে আলোচিত দুর্নীতিবাজের নাম প্রশান্ত কুমার হালদার, যিনি পি কে হালদার নামে সমাধিক পরিচিত। তার দুর্নীতি ও কর্মকাণ্ডের উপর ভিত্তি করে মশিউর রহমানের বিশেষ প্রতিবেদন
শত শত কোটি টাকা আত্মসাত্ করে বিদেশে বিলাসী যাপন করছে মহাদুর্নীতিবাজ পিকে হালদার। সরকার ও দুদক এ ব্যাপারে বেশ তত্পর থাকা সত্বেও তিনি ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। দুদক মামলা দায়ের করেছে। উচ্চ আদালতে বিচার চলছে। ৪টি আর্থিক (ব্যাংক বহির্ভূত) প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩ হাজার কোটি আত্মসাতের পাশাপাশি শেয়ার কারসাজিতে তার ভূমিকাও বেরিয়ে আসছে। সম্প্রতি বিএসইসি তার সহযোগীসহ তাকে অর্থদণ্ড দিয়েছে। সরকারও তাকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রেড নোটিশ জারি করেছে। তারপরও জনমনে প্রশ্ন, কীভাবে তিনি পালিয়ে বিদেশে যেতে পারলেন বা তাকে যেতে দেয়া হলো? ৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে যেভাবে পিকে হালদার একের পর বাধাহীনভাবে লুটপাঠ করেছে সেটা ভাবলে শিউরে উঠতে হয়। মনে হয়, ‘স্বাধীনভাবে’ যেন তাকে অপকর্ম করতে দেয়া হয়েছে। প্রশ্ন জাগে, বাংলাদেশ ব্যাংক সহ তদারকি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কী করছিল? পিকে হালদারের সঙ্গে জড়িত বেশকিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আরো অনেকে জড়িত ছিল যাদের নামধাম এখনও প্রকাশ পায়নি। একটি বিশেষ ব্যবসায়ী গ্রুপের নাম আলোচনায় রয়েছে। এমনকি পি কে গংদের আত্মসাতকৃত অর্থের পরিমাণ ধারণার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
পিকে হালদার যার পুরো নাম প্রশান্ত কুমার হালদার। গত বছর বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আগে বেসরকারী ব্যাংক এন আর বি গ্লোবাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন তিনি। এছাড়াও কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথেও যুক্ত ছিলেন, নামে-বেনামে আরো নানা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকও ছিলেন তিনি। তার সঙ্গে তার আলোচিত হয়েছেন পরিবারসহ আরও কিছু মানুষও। যাদের কর্মকাণ্ডে রীতিমত বিহ্বল দেশবাসী। এসব শিক্ষিত এবং উচ্চপদস্থ মানুষকে যখন অপরাধীর কাঠগড়ায় দেখতে পায় তখন সেটা বিহ্বল হওয়ার মতোই ঘটনা। দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে বিদেশে পাঠিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন পি কে হালদার। এ যেন দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য খাঁড়ার ঘা।
পি কে হালদারের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ:
পি কে হালদারের বিরুদ্ধে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারেরও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও ব্যাংক বহির্ভূত চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে হালদারের বিরুদ্ধে। রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন পি কে হালদার। এসময় বেনামে কমপক্ষে চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান দখল করেন। পি কে হালদারের দখল করা প্রতিষ্ঠান চারটি হলো ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)। চারটি প্রতিষ্ঠান দখলে নিলেও কোনো প্রতিষ্ঠানেই পি কে হালদারের নিজের নামে শেয়ার নেই। এরপর এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লুট করেন। এর বাইরেও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকেও বেনামে টাকা বের করেন। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং গ্রাহকের আমানতের টাকা ফেরত দিতে পারছিল না। এ কারণে একাধিক গ্রাহক আদালতের শরণাপন্ন হন। তবে আলোচনায় আসার পরই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান পি কে হালদার। ইন্ডিয়া ও কানাডায়ও রয়েছে তাঁর নিজের নামে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান। দেশের একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে থেকে এমন অপকর্মের ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা লুট করা পি কে হালদারের বিরুদ্ধে শেয়ার কেলেঙ্কারিরও প্রমাণ মিলেছে। এ জন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পি কে হালদারকে ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। এ ছাড়া তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হাল ইন্ডাস্ট্রিজকে ৮৫ লাখ ও সন্দীপ করপোরেশনকে ৬০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর বাইরে শেয়ার কেলেঙ্কারির জন্য জরিমানা করা হয়েছে পি কে হালদারের আরও বেশ কিছু সহযোগীকে।
অর্থ আত্মসাত্ ও বিদেশে পাচারের অপরাধে ইত্যিমধ্যে পি কে হালদার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে ইন্টারপোল। আগামী পাঁচ বছরের জন্য রেড অ্যালার্টটি জারি থাকবে। এছাড়াও মানি লন্ডারিং-এ সহযোগিতার অভিযোগে পি কের মামাতো ভাই শঙ্খ ব্যাপারী ও বান্ধবী অবন্তিকা বড়ালকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ। শঙ্খ ব্যাপারীও ব্যাংকের পরিচালক ও তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন। এছাড়াও তাকে সহযোগিতার অভিযোগে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের পরিচালক পি কে হালদারের সহযোগী সুকুমার মৃধা ও তার মেয়ে অনিন্দিতা মৃধাকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এছাড়াও পি কে হালদারের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। পিকে হালদারের মামলায় পক্ষভুক্ত হয়েছেন শিক্ষাবিদ-মুক্তিযোদ্ধাসহ ৪ জন। তাছাড়া গত ২১ জানুয়ারি বিদেশে পালিয়ে থাকা পি কে হালদারের বিষয়ে জারি করা রুল শুনানিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে গত ২০০৮ থেকে ২০২০ সালে দায়িত্ব পালনকারীদের নাম, পদবি, ঠিকানাসহ বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে এই তথ্য জানাতে বলা হয়েছে।
শেয়ার কেলেঙ্কারি:
চলতি বছরেরই ২০ জানুয়ারিতে শেয়ার কারসাজির দায়ে চার কোম্পানির ১৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চার কোটি ৬৮ লাখ টাকা জরিমানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এর মধ্যে কয়েক হাজার কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া প্রশান্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে শেয়ার কেলেঙ্কারিরও প্রমাণ মিলেছে। এ জন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পি কে হালদারকে ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। এ ঘটনায় তার স্বার্থসংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠান সন্দীপ করপোরেশনকে ৬০ লাখ টাকা ও হাল ইন্ডাস্ট্রিজকে ৮৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ কারসাজির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মো. আমানত উল্লাহকে এক কোটি টাকা এবং সেতারা বেগমকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কেলেঙ্কারির জন্য পি কে হালদারকে এ জরিমানা করা হয়েছে। নর্দান জুট ছিল পি কে হালদারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে এ কোম্পানিটির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়েছিল। পরে তদন্তে ওই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কারসাজির নানা ঘটনা পাওয়া যায়। যার সঙ্গে পি কে হালদার ও তাঁর সহযোগীদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। যার ভিত্তিতে বিভিন্ন অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে।
এদিকে চলতি বছরে হাইকোর্ট এক আদেশে আলোচিত পি কে হালদারসহ ১৩ পরিচালকের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দ, সকল সম্পদ ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পিকে হালদারের মা, স্ত্রী, ভাইসহ ২০ জনের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দ, সকল সম্পদ ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া পিকে হালদারসহ এই ২০ জনের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় এবং তাদের গত ৫ বছরের আয়কর রিটার্ন হাইকোর্টে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের ৭ আমানতকারীর করা এক আবেদনে এ আদেশ দেন হাইকোর্টের কোম্পানি আদালত। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আইএলএফএসএল-এর দুইজন পরিচালক আপিল বিভাগে আবেদন করলেও আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেনা
লুটপাটের অর্থে ‘ঘনিষ্ঠ বান্ধবী’র জন্য ফ্ল্যাট, একাউন্টে কোটি কোটি টাকা:

পি কে হালদার ওরফে প্রশান্ত কুমার হালদারের অর্ধশতাধিক বান্ধবী রয়েছেন। বিদেশে পলাতক পি কে হালদারের আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর বান্ধবীদের অ্যাকাউন্টে টাকা গেছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। ইতিমধ্যে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের মামলায় তার ‘ঘনিষ্ঠ সহযোগী’ ও বান্ধবী অবন্তিকা বড়ালকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ। গত ১৩ জানুয়ারি ঢাকার ধানমণ্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
খুরশীদ আলম খান জানান, প্রশান্ত কুমার হালদার তার অর্জিত অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অবস্থান গোপন করার উদ্দেশ্যে তার মা সন্দিগ্ধ আসামি লিলাবতী হালদারের নামে স্থানান্তর করেন। লিলাবতী হালদারের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে অবন্তিকা বড়ালসহ অন্যদের নামে স্থানান্তর করে মানি লন্ডারিং করেন। তাছাড়া প্রশান্ত কুমার হালদার নিজের অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে সন্দিগ্ধ আসামি অবন্তিকা বড়ালকে রিলায়েন্স, পি এন এল ইন্টারন্যাশনাল ও পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস নামের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে চাকরি দিয়ে তার অবৈধ ব্যবসা ও মানি লন্ডারিংয়ের কাজে যোগসাজশ করেন। প্রশান্ত কুমার হালদার পরস্পর যোগসাজশে অর্জিত অবৈধ অর্থ দিয়ে তার নিকট আত্মীয় সন্দিগ্ধ আসামি অবন্তিকা বড়ালের নামে-বেনামে দেশে-বিদেশে আরও সম্পদ অর্জন করেছেন।
মামলার সন্দিগ্ধ আসামি অবন্তিকা বড়ালও বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। প্রশন্ত কুমার হালদার তার বান্ধবী অবন্তিকা বড়ালের মাধ্যমে তাদের অবৈধ অর্জিত অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অবস্থান গোপন করে মানি লন্ডারিং করেছেন বলে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকসহ তদারকি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
পি কে হালদারের অর্থপাচার কাণ্ডে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে গত ২০০৮ থেকে ২০২০ সালে দায়িত্ব পালনকারীদের নাম, পদবি, ঠিকানাসহ বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। গত ২১ জানুয়ারি বিদেশে পালিয়ে থাকা পি কে হালদারের বিষয়ে জারি করা রুল শুনানিতে এ আদেশ দিয়েছেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
২০০৮ থেকে ২০২০ পর্যন্ত সময়ে অর্থপাচার রোধে এসব কর্মকর্তাদের ব্যর্থতা আছে কিনা তা আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে বলা হয়েছে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, ‘২০০৮ থেকে ২০২০ পর্যন্ত সময়ে অর্থপাচার রোধে এসব কর্মকর্তাদের ব্যর্থতা আছে কিনা এবং অর্থপাচারের বিয়টি তাদের নজরে এসেছিল কিনা; এ ছাড়া এসব তথ্য তাদের নজরে এসে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল কিনা তা আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে বলেছেন হাইকোর্ট।
এখন কিছু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, পি কে হালদার যখন একের পর এক অর্থ লুটের কাণ্ড চালাচ্ছিলেন। তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা কোথায় ছিলেন? এক কথায় বলতে গেলে, পিকে হালদার প্রতিষ্ঠান দখল ও অর্থ আত্মসাত্ করেছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থার চোখের সামনে। অনেক ক্ষেত্রে নীরব সমর্থনও পেয়েছেন।
পিকে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিকল্প নেই
বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পিকে হালদার গংদের শাস্তি নিশ্চিতকরতে হবে। এ অপকর্মকারী চক্রের সাথে আরো যারা জড়িত রয়েছে তাদেরকে খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিশেষ ভাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার যারা সহযোগিতা বা গাফিলতি করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। নিলে এ ধরনের দুস্কর্ম বার বার ঘটতে থাকবে।
বিদেশে পালিয়ে থাকা পিকে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে এনে এবং স্বদেশে অবস্থানরত তার সহযোগীদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, এর কোন বিকল্প নেই।

