বিশ্বের সর্ববৃহত শস্যচিত্র : বাংলার বিশাল ক্যানভাসে বঙ্গবন্ধুকে উপস্থাপনা
উত্তরদক্ষিণ | বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১ | আপডেট : ২১:১০
মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ব্যতিক্রমধর্মী উপস্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদ’। বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ঘোষণা দিয়েছেন পরিষদের আহবায়ক ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।
তিনি বলেন, জন্মশতবার্ষিকীর শৈল্পিক উদযাপন ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপনে কৃষি প্রধান সবুজ বাংলার বিশাল ক্যানভাসকে ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুকে আঁকা হচ্ছে। এটি একটি নতুন ধরনের চিত্রকর্ম যার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে কৃষি-দরদী বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরা হবে। এজন্য ১০০ বিঘা জমির উপর এই শস্যচিত্র করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাহাউদ্দিন নাছিম জানান, শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বালেন্দা গ্রামে দুই ধরনের ধানের চারা রোপনের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের শুভ সূচনা হবে।
তিনি বলেন, তিনি জানান, ২৯ জানুয়ারি মুল ক্যানভাসে শস্যচিত্রের চারা রোপণ করা হবে। লে-আউট অনুযায়ী ধাপে ধাপে চারা রোপণ করা হবে। চারা রোপনের প্রতিটি ধাপে পর্যবেক্ষণ করে সঠিক বিন্যাস নিশ্চিত হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলি, কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের মহাসচিব কৃষিবিদ খায়রুল আলম প্রিন্স প্রমুখ।

কৃষিজমিকে ক্যানভাস হিসেবে ব্যবহার করে নানা প্রজাতির শস্যের/ফসলের সুপরিকল্পিত ও শৈল্পিক চাষ ও বিন্যাসের মাধ্যমে সৃষ্ট শিল্পকর্মকে বলা হয়ে থাকে ‘ক্রপ ফিল্ড মোজাইক’ বাংলায় যার অর্থ ‘শস্য-চিত্র’।
উদ্যোক্তাদের সূত্রে জানা যায়, দুই রঙের সোনালী ও বেগুনী রঙের ধানকে বেছে নেয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ছবি আকার জন্য। বংবন্ধুর বিশাল পোট্রেট হিসেবে এরমধ্যে ফিল্ড-ট্রায়াল দেয়া হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে জমি তৈরি করা হয়েছে। এরমধ্যে বীজতলায় চারা রোপনের উপযোগী হয়ে উঠেছে। ১০০ জন বিএনসিসি ক্যাডেটকে সাথে নিয়ে লেআউট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২৯ জানুয়ারী) লেআউট অনুযায়ী চারা রোপন শুরু করা হবে। চারা থেকে হবে গাছ, ধান হবে, ধান পাকবে আর প্রতিটি ধাপেই তৈরি হবে বঙ্গবন্ধুর একেক ধরনের পোট্রেট।
এর আগে ২০১৯ সালে চিন একটি শস্যচিত্র তৈরি করেছিল, যার আয়তন ছিল ৮ লাখ ৫৫ হাজার ৭৮৬ বর্গফুট। বঙ্গবন্ধুর এই শস্যচিত্রের আয়তন হবে প্রায় ১২ লাখ ৯২ হাজার বর্গফুট বা ১ লাখ ২০ হাজার বর্গমিটার। শস্যচিত্রটির দৈর্ঘ্য ৪০০ মিটার ও প্রস্থ ৩০০ মিটার।
বাহাউদ্দিন নাছিম সাংবাদিকদের জানান, বঙ্গবন্ধুর শস্যচিত্রটি হতে যাচ্ছে বিশ্বের সর্ববৃহত শস্যচিত্র। এ নতুন বিশ্ব রেকর্ড নথীভূক্ত করার জন্য গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের সাথে ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদ’ যোগাযোগ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে গিনেজ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ফি এরমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু এর ভিডিওসহ প্রয়োজনীয় দলিল গিনেজ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। আগামী ১৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে নতুন বিশ্বরেকর্ড অর্জন উদযাপন করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এই কাজে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রুপ।

