ক্যাম্পাস খুলবে কবে?
উত্তরদক্ষিণ | শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২১ | আপডেট : ১৬:২২
রুকাইয়া মিজান মিমি :: দিন যায়, মাস যায় শুধু ক্যাম্পাসে ফেরার অপেক্ষায়। প্রায় এগারো মাস হতে চললো, ক্যাম্পাস স্মৃতিগুলো যেন আরো বেশি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। কখনো মনে পড়ে ভার্সিটি বাসের কথা! হয়তো এই একটি বাসেই কেবল ড্রাইভার, সুপারভাইজার, সিনিয়র-জুনিয়রের ভালোবাসা, আবেগ, খুনসুটি মিশে আছে। কখনো বা ডিপার্টমেন্ট বিল্ডিং এর সামনের কাঁঠালতলার কথা মনে পড়ছে!
ক্লাসের ফাঁকে সেই গাছটির নিচে বসে যখন আমরা হাসি-আনন্দমাখা গল্পে ব্যস্ত ঠিক তখনই বোটানিক্যাল গার্ডেনের ফুলগুলো এই খুশির টানেই হয়তো পুলকিত হয়ে উঠতো! ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষা এতো-এতো চাপে মাথাটা ধরে আসলে ক্যাফেটেরিয়া কিংবা টিএসসির এক কাপ চায়ের চুমুকে মুহূর্তেই বুঝি সব ক্লান্তির অবসান ঘটতো! শহিদ মিনার, শান্ত্বচত্বরেও কম স্মৃতি জড়িয়ে নেই! সকাল-বিকাল বন্ধুদের আড্ডায় সেখানে বসতাম, পাশ থেকে ভেসে আসত গানপ্রেমীদের গিটারের টুংটাং শব্দ; গানের কলি, কত মধুর ছিল সেই দিনগুলি! আবার উন্মুক্ত লাইব্রেরি বা সেমিনারে বইপ্রেমিকদের দেখে নিজেরও নিত্য নতুন বই পড়তে ইচ্ছে হতো। অডিটরিয়ামে কত শত আয়োজন ছিল প্রতিনিয়ত! সময় করে সেসবও উপভোগ করেছি আমরা।
রাতের ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যটাও ছিল মনকাড়া! আলো-আঁধারির জবিকে দেখে ব্যস্ত শহরে মনটায় প্রশান্তি আসতো। এমন পরিবেশে, ক্যাম্পাসে সন্ধ্যার পর বন্ধুদের নিয়ে গোল বসতাম গ্রুপ ডিসকাসে, সময়টা ছিল পড়াশোনার। কত কঠিন-কঠিন বিষয়গুলো যেন এক মুহুর্তেই সহজ হয়ে যেত এই আলোচনায়। তাছাড়াও বিশেষ করে ক্লাসের সময়গুলো খুব মনে পড়ে। ক্লাস শুরুর আগ মুহূর্তে সবাই গোল হয়ে বসে গান গাইতাম, কোথাও বা চলতো গল্পের আসর, বন্ধুদের মাঝে অভিজ্ঞতার বিনিময়! আবার কোথাও-কোথাও সেলফি তোলার পালা!
শিক্ষকদের ভালোবাসা-স্নেহমাখা চাহনী; সংস্পর্শ কত মধুর ছিল! সুন্দর-সুন্দর কথাগুলো কত অনুপ্রেরণা যোগাতো! ডিপার্মেন্টের বড় ভাই বোনসহ সবার সাথেই প্রতিনিয়ত দেখা হতো। পরিবার থেকে প্রায় সবাই দূরে থাকলেও জবিতে সবাই মিলে আমরা একটা পরিবারের সদস্য ছিলাম। এই পরিবারে যেন নতুন উদ্যমে সব শুরু হতো প্রত্যেকটা দিনই! এছাড়াও বিশেষ বিশেষ দিনে, জাতীয় উৎসবসমূহে জবি যেন নবরূপে হাজির হতো! চারদিকে ঝলকানো আলোক উৎসবে নানা আয়োজনে মুখর জবিতে আমরাও আনন্দে উল্লাসিত ছিলাম।
হঠাৎ এই কোভিড-১৯ যেন বদলে দিলো সবটা! আতঙ্কে, দুর্ভাবনায় আমরা চার দেয়ালে আটকে পড়লাম। জনজীবনে সবকিছু কিছুদিনের জন্য স্থবির হলেও সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে অনলাইন ক্লাস চলতে লাগল একের পর এক। আজ এই অনলাইনে ক্লাস করতে-করতে দম আটকে আসছে। বাড়ছে সেশনজটের চাপ, পরীক্ষার ভাবনা, ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা! এদিকে ছাত্র শিক্ষকের সম্পর্কটাও কেমন যেন ফোনের ফ্রেমে বন্দী হয়েছে, যান্ত্রিকতা নামছে আমাদের সবার মাঝে।
সবকিছু ঠিকঠাক চললেও শুধু আমাদেরই প্রিয় ক্যাম্পাসটির এর সাথে দেখা হচ্ছে না। তাই স্মৃতিচারণার ভীড় আর বাস্তবতার চাপ দূর করতে খুব দ্রুতই ক্যাম্পাসে ফিরতে মন চায়। মন চায় ঠিক আগের মত চঞ্চল এই আমি প্রাণের ক্যাম্পাসটির গানের পাখি হবো!
লেখক: সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

