কিভাবে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন নাভালনি?
ফিচার| উত্তরদক্ষিণ
মুদ্রিত সংস্করণ: রবিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২১ | আপডেট : ০০:০১
৪৪ বছর বয়সী অ্যালেক্সেই নাভালনি পেশাগত জীবনে একজন আইনজীবী। তার রাজনীতির শুরুটা হয় ২০০৮ সালে। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বড়ো বড়ো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্নীতি ও অসঙ্গতি নিয়ে ব্লগিং করতেন। পরে পুতিনের ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন এবং তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
২০১১ সালে রাশিয়ার সংসদ নির্বাচনের সময় ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, পুতিনের ইউনাইটেড রাশিয়া ছাড়া যেকোনো দলকে ভোট দিতে। তিনি পুতিনের পার্টিকে ‘অসৎ ও চোরের দল’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনে পুতিন জয়ী হন। তার বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতির অভিযোগে তখন মস্কোসহ রাশিয়ার অন্যান্য বড়ো বড়ো শহরে আন্দোলন শুরু হয়।
সেই আন্দোলনের সময় নাভালনিকে ১৫ দিন জেলে আটকে রাখে পুতিন সরকার। এরপর পুনঃনির্বাচনেও পুতিন সহজেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তখন নাভালনিকে কঠোর জেরার সম্মুখীন হতে হয়। তার অতীতের কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। এমনকি তার আইনজীবী হওয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
২০১৩ সালে তাকে জালিয়াতির অভিযোগে পাঁচ বছরের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে অপ্রত্যাশিতভাবে মস্কোর মেয়র নির্বাচনের সময় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুতিন ঘরানার সের্গেই সোবিয়ানিনের সাথে মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে গেলেও নাভালনি ২৭% ভোট পান। এটাকে তার জন্য একপ্রকার বিজয়ই ধরা হয়েছিল। কারণ রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন বা মিডিয়ায় তার প্রবেশাধিকার ছিল না। শুধুমাত্র ইন্টারনেট ও জনগণের মুখের কথার ওপর নির্ভর করে এত ভোট পাওয়া ছিল অবিশ্বাস্য।
ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে বলা হয়, নাভালনির সাথে অন্যায্য আচরণ করা হয়েছে। তখন তার অভিযোগ তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু ২০১৭ সালে তাকে পুনরায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে পুতিনের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বীতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেটাকে ভঙ্গুর করে দিতেই তাকে প্রহসনমূলক বিচারের সম্মুখীন করা হচ্ছে বলেছিলেন তিনি।
২০১৭ সালের এপ্রিলে তার মুখে এন্টিসেপ্টিক সবুজ রঙ ঢেলে দেয় পুতিন সমর্থকরা। এতে তিনি তার চোখের নিকটবর্তী অংশে রাসায়নিক দহনের শিকার হন। গত বছরও জেলে থাকা অবস্থায় এলার্জিজনিত রোগ কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসে আক্রান্ত হন। সন্দেহ করা হয়, তাকে তখনও বিষ প্রয়োগ করা হয়।
তিনি স্ত্রী আর দুই সন্তান নিয়ে মস্কোতে থাকেন। ছোটোবেলায় ছুটির সময়টা কাটাতেন চেরনোবিল শহরের নিকটবর্তী অঞ্চলে, যেখানে তার বাবা ও অন্যান্য আত্মীয়রা থাকতেন। তাদের কাছে চেরনোবিলের নিউক্লিয়ার বিস্ফোরণের পরবর্তী সময়ে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের পার্টির সদস্যদের দুর্বব্যবহার ও দুর্নীতির গল্প শুনে সরকার বিরোধী হওয়ার অনুপ্রেরণা পান।

