বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার পেছনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা ছিল অনেক: তথ্যমন্ত্রী

বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার পেছনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা ছিল অনেক: তথ্যমন্ত্রী

উত্তরদক্ষিণ | বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | আপডেট: ১৬:২৪

‘দেশ ভাগের আগে পাকিস্তানের রাজনীতিবিদরা যখন উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য পায়তারা করছিলেন, তখনই বঙ্গবন্ধু বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার কথা বলেছেন। ১৯৪৮ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় এসে প্রথম কার্জন হলে বৈঠক করেছিলেন, সেখানে নানা ধরনের যে প্রতিবাদ হয়েছিল, তাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সব ঘটনার সাক্ষ্য প্রবাহ বলে, বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার পেছনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা ছিল।’ বলেছেন, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের সূত্র ধরেই আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম। বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাব আয়োজিত সংগঠনটির তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন সংগঠিত করার অপরাধে শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৪৯ সালে গ্রেফতার করা হয়। একটানা বায়ান্ন সাল পর্যন্ত তিনি কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থাকাকালীন তিনি কিন্তু বসে ছিলেন না। সেখানে বসে তিনি ভাষা আন্দোলন করার ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এমনকি তিনি জেলখানায় অনশন করেছেন। ফরিদপুরের জেলখানায় বসে ভাষা আন্দোলনের জন্য যে অন্যায় করা হচ্ছে, বাধা দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর প্রতিবাদে তিনি অনশন করেছেন। এ বিষয়গুলো আগে জনসম্মুখে প্রকাশিত হয়নি।’

পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার কথা চিন্তা করেছিলেন জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রীয়ভাবে একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করা ১৯৫৬ সালে শুরু হয়। শহীদ মিনার সরকারিভাবে নির্মাণ করা এবং সেটি পৃষ্ঠপোষকতা করা এটিও ৫৬ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে সরকার গঠন করার পর শুরু হয়। তার আগে কিন্তু সেটি হয়নি। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা এবং এখন যে সিক্রেট ডকুমেন্টসগুলো বের হচ্ছে সেগুলো যদি কেউ পড়েন তাহলে বুঝতে পারবেন, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই বাংলাদেশের স্বাধীনতার কথা চিন্তা করেছিলেন। সেই লক্ষ্যে কাজ করেছেন তিনি।’

এসময় বঙ্গবন্ধুকে রাজনীতির কবি উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কোনও একটি বিষয় কখন বলতে হয় সেটা বঙ্গবন্ধু জানতেন। সে জন্যই তিনি রাজনীতির কবি। বঙ্গবন্ধু ৬৬ সালে যদি ছয় দফা দাবি উত্থাপন করে স্বাধীনতার কথা না বলতেন, তাহলে আজকে স্বাধীনতা আসতো না। ছয় দফা দাবি উত্থাপন করে প্রথমে তিনি বাঙালির মনে স্বাধীনতার জন্য মনন তৈরি করেছিলেন। তিনি জানতেন সত্তর সালের নির্বাচনের পর পাকিস্তানিরা ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না। তারপর কী করতে হবে সেই পরিকল্পনাও তিনি তৈরি করে রেখেছিলেন। সেই পরিকল্পনা অনুসারে কিন্তু তিনি ৭ মার্চের ভাষণ দিয়েছেন। ৭ মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে তিনি কার্যত স্বাধীনতা ঘোষণা করে ফেলেছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন—শুধু এই ঘোষণাটা তিনি করেননি। ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে অনেকেই লিখেছেন, “চতুর শেখ মুজিব কার্যত পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করে ফেলেছেন। কিন্তু তিনি বাংলাদেশ স্বাধীন সেই কথা বলেননি।’

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading