মিয়ানমারে জান্তা সকারের নৃশংসতার চূড়ান্ত ‘খেলা শুরু’

মিয়ানমারে জান্তা সকারের নৃশংসতার চূড়ান্ত ‘খেলা শুরু’

উত্তরদক্ষিণ | সোমবার, ০১ মার্চ, ২০২১ | আপডেট: ১৪:২০

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় রবিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) একদিনে কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এ দিনই চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই এখন পর্যন্ত জান্তা সরকারের নৃশংসতার সর্বোচ্চ রূপ দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জান্তা সরকার এর মাধ্যমে তাদের কঠোরতার জানান দিচ্ছে। প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ক্ষমতায় থাকার জন্য ভবিষ্যতে তারা এর চেয়েও বড় ধরণের পদক্ষেপ নিতে পারে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার পক্ষ থেকে ১৮ জনের মৃত্যুর খবর বলা হয়েছে।বিবিসি।

সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর এটাই সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন।

দেশজুড়ে বিক্ষোভে ৩০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ইয়াঙ্গুন, বাগো ও দাওয়েই-এর মতো অন্তত তিনটি শহরে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের গুলি ও রাবার বুলেটে বহু মানুষ হতাহত হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে স্টানগান ও জলকামান ব্যবহার করা হয়।

অন্যদিকে জাতিসংঘে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত সেদেশের ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থনের আহ্বান জানানোর পর তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

অং সান সু চিকে হটিয়ে সেনাবাহিনী গত ১ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা দখলের পর প্রায় প্রতিদিনই দেশটিতে বিক্ষোভ হচ্ছে। দিনে দিনে এই প্রতিবাদের মাত্রা আরও তীব্র হচ্ছে।

এই বিক্ষোভ দমন করতে নিরাপত্তা বাহিনীগুলো শনিবার থেকে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। তারা প্রচুর সংখ্যক প্রতিবাদকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।

এ পরিস্থিতিতেও সোমবার ফের রাস্তায় নেমে সামরিক জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ দেখানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

ইয়াঙ্গুনের যে চৌরাস্তায় আগের দিন নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়েছিল সোমবার সেখানে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর প্রায় ১০টি গাড়ি মোতায়েন করা হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন একজন প্রত্যক্ষদর্শী। পুলিশের বহরে জলকামানও আছে।

উত্তরপশ্চিম মিয়ানমারে কালে শহরে বিক্ষোভকারীরা সু চির পোস্টার নিয়ে মিছিল শুরু করেছেন, তারা গণতন্ত্রের পক্ষে শ্লোগান দিচ্ছেন।

ফেইসবুকে আসা লাইভ ভিডিওতে দেখা গেছে, শান রাজ্যের লাশিওতে বিক্ষোভকারীদের ছোট একটি দল একটি রাস্তায় জমায়েত হয়েছেন, তাদের মাথায় শক্ত ক্যাপ পরা। তারা শ্লোগান দিচ্ছেন আর পুলিশ তাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিক্ষোভের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে পুলিশকে প্রতিবাদকারীদের ওপর লাঠিপেটা করতে দেখা গেছে।

জাতিসংঘের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইন্দোনেশিয়া রবিবারের ওই সহিংসতার নিন্দা করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন

আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন মিয়ানমারের সহিসংতার নিন্দা জানিয়ে একে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত ‘জঘন্য সহিংসতা’ বলে মন্তব্য করেছেন।

আমেরিকা ‘দৃঢ়ভাবে’ মিয়ানমারের জনগণের পাশে আছে জানিয়ে রবিবার এক টুইটে তিনি বলেন, “তাদের ইচ্ছার প্রতি সমর্থন জানাতে সব দেশকে এক সুরে কথা বলার জন্য উৎসাহিত করছি (আমরা) ।”

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক গার্নাউ বলেছেন, “সামরিক বাহিনী তাদের নিজেদের জনগণের বিরুদ্ধেই প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করেছে, এটি ভয়াবহ ঘটনা।”

ব্লিনকেন ও গার্নাউ, উভয়েই মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মিয়ানমারে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের গুলির ঘটনায় ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে ইন্দোনেশিয়া। মিয়ানমারের জান্তাবাহিনীকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বানও জানিয়েছে তারা।

ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘ইন্দোনেশিয়া মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভ দমনে বলপ্রয়োগে আরো সংযত থাকার এবং রক্তপাত ও প্রাণহানি এড়াতে সর্বোচ্চ ধৈর্যের অনুশীলন করার আহ্বান জানাচ্ছে।”

মিয়ানমারে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি টম অ্যান্ড্রুজ বলেছেন, জান্তার আক্রমণ অব্যাহত থাকবে এটি পরিষ্কার ছিল, তাই বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া জোরদার করা উচিত।

তিনি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও বেশি দেশ থেকে আরও বেশি নিষেধাজ্ঞা, সামরিক বাহিনীর ব্যাবসাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পদক্ষেপ নিতে বলুক।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, “নিন্দাবাক্যকে স্বাগত জানাই কিন্তু এগুলো যথেষ্ট নয়। আমাদের অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে। আমাদের চোখের সামনে মিয়ানমারে যে দুঃস্বপ্ন শুরু হয়েছে তা আরও খারাপ হবে। বিশ্বকে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে।” 

মিয়ানমারের বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আন্দোলনকারীরাও প্রতিবাদের আয়োজন করেছেন। থাইল্যান্ডের তরুণদের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক আন্দোলন মিয়ানমারের অভ্যুত্থান বিরোধীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

mashiurjarif

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading