তুমুল উত্তেজনা নন্দীগ্রামে: হুইল চেয়ারে ভোটকেন্দ্রে মমতা
উত্তরদক্ষিণ| বৃহস্পতিবার, ০১ এপ্রিল, ২০২১ | আপডেট: ১৭:১৫
ইন্ডিয়ার পশ্চিমবঙ্গে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামই হয়ে উঠেছে রাজ্যের হাইপ্রোফাইল আসন। এই ভিভিআইপি আসনে মুখোমুখি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং একসময় তারই সেনাপতি শুভেন্দু অধিকারী।
তুমুল উত্তেজনা চলছে নন্দীগ্রামে৷ সকাল থেকেই উত্তপ্ত ছিল নন্দীগ্রামের ভোটকেন্দ্র৷ সাত নম্বর বুথে তৃণমূলের এজেন্টকে বসতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ৷ বয়াল মোকতব প্রাথমিক স্কুলের ঘটনা৷ খবর পেয়েই বুথে যান তৃণমূল সুপ্রিমো৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুথে ঢুকতেই উত্তেজনা বেড়ে যায়৷ বাইরে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা৷ বুথেই আটকে পড়েন তৃণমূল সুপ্রিমো৷ বুথের বাইরে উত্তেজিত বিজেপি কর্মীরা জয় শ্রী রাম স্লোগান তুলতে থাকেন৷ ঘটনাস্থলে থাকা তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে তুমুল বচসা, হাতাহাতি বেধে যায় দু’পক্ষের৷
এরপর দু’ঘণ্টারও বেশি সময় পরে নন্দীগ্রামের বয়ালের সাত নম্বর বুথ থেকে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে বের করা হল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা গিয়ে বের করে আনেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ এদিন বয়ালের বুথে প্রথমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গিয়ে কথা বলেন নির্বাচনী আধিকারিকরা৷ তাঁদের ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তর অভিযোগ জানান তৃণমূলনেত্রী৷ শেষমেশ বুথের বাইরে থেকে ভিতর পর্যন্ত কার্যত কর্ডন তৈরি করে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী৷ হুইল চেয়ারে বসেই বের করে আনা হয় তৃণমূলনেত্রীকে৷
পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা বহু চেষ্টা করেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বের করতে পারেননি৷ বাইরে আনলে তাঁকে ঘিরে প্রবল বিক্ষোভের আশঙ্কা বেড়ে যায়৷ পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী, কেন্দ্রীয় বাহিনী, আরএএফ, মহিলা পুলিশ যায় বয়ালের সেই বুথে৷ বুথের বাইরে থেকে ভিতর পর্যন্ত কর্ডন করা হয়৷ অন্য কেউ যাতে সেই বেস্টনীর মধ্যে ঢুকতে না পারেন তার ব্যবস্থা করে বাহিনী৷ কড়া নিরাপত্তায় বয়ালের সাত নম্বর বুথ থেকে বের করে আনা হয় তৃণমূল নেত্রীকে৷
এদিন প্রায় দু’ঘণ্টা পর হুইল চেয়ারে বসিয়ে নন্দীগ্রামের বয়ালের সাত নম্বর বুথ থেকে বের করে আনা হয় তৃণমূল নেত্রীকে৷ বুথের বাইরে বের করে এনেও এদিন বেশ কিছুটা রাস্তা হুইল চেয়ারে বসিয়ে আনা হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ রাস্তার দুধারে থাকা অসংখ্য মানুষের উদ্দেশ্যে হাত নাড়তে দেখা যায় তৃণমূল সুপ্রিমোকে৷ নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি যাতে না হয় সেব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি ছিল পুলিশের৷

