‘সুয়েজ খাল বন্ধ হওয়ার জন্য আমি দায়ী?’
উত্তরদক্ষিণ | রবিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২১ | আপডেট: ১৭:১০
এভারগিভেন জাহাজটি সুয়েজ খালে আটকে যাওয়ার দায় নারী ক্যাপ্টেন মারওয়া এলসেলেহদারের উপরে চাপিয়েছিল মিশরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা। তবে যখন জাহাজটি খালে আটকে যায় তখন ঘটনাস্থল থেকে শত মাইলে দূরে ছিলেন বলে দাবি করেছেন মিশরের এই প্রথম নারী ক্যাপ্টেন।
মারওয়া এলসেলেহদার জানান, জাহাজ আটকে যাওয়ার দিনটিতে সামাজিক মাধ্যমে তাকেই দায়ী করে মানুষ। কিন্তু সে সময় তিনি ভূমধ্যসাগরের আলেকজান্দ্রিয়ায় আইডা ফোর নামক জাহাজ পরিচালনায় ব্যস্ত ছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে জানতে পারে এই ঘটনার জন্য তাকে দায়ী করে শত শত মানুষ। ভুয়া সংবাদের স্ক্রিনশট প্রচার করে এ গুজব ছড়িয়েছিল সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা। তবে এই বিশেষ গুজবটি ছড়ানোর প্রবণতাটি নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিরই ফল হিসেবে মনে করেন তিনি।
এবারই প্রথম বিড়ম্বনা সইতে হয়নি তাকে, এর আগেও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। প্রতিটি প্রতিবন্ধকতাকেই জয় করেছেন তিনি।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মারওয়া বলেন, ‘আমি আমার ফোনটি হাতে নিয়ে হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আমার মনে হয় আমি একজন মিশরীয় নারী এবং এই খাতে সফল নারী তাই এই বিড়ম্বনায় আমাকে পড়তে হয়েছিল।
মারওয়া এলসেলেহদার বলেন, ‘আমাদের সমাজ এখনও মেয়েরা সমুদ্রে কাজ করছে এটা মেনে নিতে পারে না। কিন্তু আমার মতে যখন আপনি কোনো কাজ করতে ভালোবাসবেন, তা করার জন্য বাকি সবার অনুমোদনের প্রয়োজন নেই’।
মিশরের প্রথম নারী ক্যাপ্টেন মারওয়া এলসেলেহদার। তিনি ২০১৫ সাল থেকে মিশরের সমুদ্র নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন আইডা ফোর জাহাজের ক্যাপ্টেন হিসেবে কাজ করছেন।
প্রসঙ্গত, ২৩ মার্চ সকালে এভার গিভেন নামক জাহাজটি প্রবল ধূলিঝড় আর বাতাসের কবলে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সুয়েজ খালে আড়াআড়িভাবে আটকে যায়। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি প্রায় এক সপ্তাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে।

