ইসির ৫০ বছরপূর্তি হবে ২২ সালের ৭ জুলাই
উত্তরদক্ষিণ | বুধবার, ০৭ এপ্রিল ২০২১ | আপডেট: ০৯:১৫
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ৫০ বছরপূর্তি হচ্ছে ২০২২ সালের ৭ জুলাই। আর এই সুবর্ণজয়ন্তী উপযাপন এত বছর আগে থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৯৫৬ সালে ঢাকায় একটি শাখাসহ প্রতিষ্ঠা লাভ করে পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন। ৫৬-৭১ সাল পর্যন্ত চারটি কমিশন দায়িত্ব পায়। সে সময় ঢাকায় পাকিস্তান নির্বাচন কমিশনের অফিস ছিল মালিবাগে, যা মুক্তিযুদ্ধের সময় পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সঙ্গত কারণেই সত্তরের নির্বাচনের সব কাগজ-পত্রও পুড়ে যায়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৭২ সালে শেরে বাংলা নগরে নির্বাচন কমিশন, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
পরবর্তীতে প্রথমে ভাড়া ভবন, তারপর পশ্চিম আগারগাঁওয়ে নিজস্ব ভবন ‘নির্বাচন ভবন’ পায় ইসি। আগের নামও পরিবর্তন হয়ে হয়, ‘বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন’।
ইসির যুগ্ম-সচিব ও জনসংযোগ (পরিচালক) এসএম আসাদুজ্জামান জানান, ১৯৭২ সালের ৭ জুলাই স্বাধীন দেশের প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিচারপতি মো. ইদ্রিস। সে হিসাবে ২০২২ সালের ৭ জুলাই কমিশনের ৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। তবে, সে সময় ঈদুল আযহার জন্য ৫০ বছরপূর্তি উদযাপনে তারিখটা পরবর্তীতে ঠিক করা হবে।
বর্তমানে দায়িত্বরত কমিশন এই উদযাপন আয়োজন করতে পারবেন না। কেননা, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যাবে। নতুন কমিশনের হাতেই হবে ৫০ বছরপূর্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন।
তবে, বর্তমান নূরুল হুদা কমিশন ৫০ বছরপূর্তির অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন।
সম্প্রতি এজন্য গঠিত কোর-কমিটির সভায় বেশকিছু বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, ৫০ বছরপূর্তি অনুষ্ঠান তিন দিনব্যাপী করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
এতে প্রথম দিন সকালে র্যালি, বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের আমন্ত্রণ, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠান, প্রধান অতিথি থাকবেন রাষ্ট্রপতি। এতে সব স্টেকহোল্ডার, দূতাবাসসহ অন্যান্যদের আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।
এছাড়া ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইসির ৫০ বছরের ইতিহাস নিয়ে ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক পরিসরে নির্বাচন নিয়ে কাজ করে এবং ইসি আন্তর্জাতিক যেসব সংস্থার সদস্য তাদেরকে আমন্ত্রণ, নির্বাচন ভবন প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপি মেলার আয়োজন এবং শেষ দিন কনসার্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

