ডি-৮’এর নতুন চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
উত্তরদক্ষিণ | শুক্রবার, ০৯ এপ্রিল ২০২১ | আপডেট: ০১:০০
ব্যবসা-বাণিজ্য, যুব উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ‘ডি-৮’ এর সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ব্যবসায়িক ধারণা, মডেল, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিতে তরুণদের শক্তি এবং সম্ভবনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি থেকে বেসরকারি পর্যায়েও ব্যবসা উদ্যোগের মাধ্যমে আমাদের (ডি-৮) যুবকদের একত্রিত হতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। ডি-৮ বিজনেস ফোরামের সঙ্গে প্রথম ডি-৮ ইয়ুথ সম্মেলন একটি বিরল সুযোগ তৈরি করেছে।’
বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে দশম ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে (ভার্চুয়াল) এ আহ্বান জানান তিনি। এ বছর শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে অংশীদারত্ব: যুবশক্তি ও প্রযুক্তির প্রস্তুতি’।
দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে যুবশক্তিকে কাজে লাগানো, তথ্যপ্রযুক্তি সম্ভাবনার পূর্ণ ব্যবহার; প্রয়োজনীয় আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত কর্মকাঠামো তৈরি, কানেকটিভিটি বাড়ানো, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জোট ডি-৮ এর ১০ম শীর্ষ সম্মেলন বাংলাদেশে হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে ভার্চুয়ালি করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন জোটের সদস্য দেশ মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ সিসি, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো, ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন, নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ বুহারি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে কার্যকরী অংশীদারত্ব এবং বৃহত্তর সহযোগিতা প্রয়োজন। তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে যুবকদের খুব ভালো সম্পৃক্ততা কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যেও অর্থনীতিকে সচল রেখেছে।’
জোটভুক্ত দেশগুলোকে বাণিজ্য বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ডি-৮ সেক্রেটারিয়েট সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ক্ষেত্রে সম্ভবনার তথ্য সরবরাহ করতে পারে। এই ধরনের তথ্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আরও বেশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ করতে সহায়তা করবে।’
সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ এবং কার্যকর ও টেকসই উন্নয়নে জলবায়ু ইস্যুতে সহযোগিতার তাগিদ দেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে আশ্রিত লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ডি-৮ দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই সমস্যা বাংলাদেশের পরিবেশ, সমাজ এবং অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। মানবিক বিবেচনা থেকে বাংলাদেশ ১ দশমিক ১ মিলিয়ন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছে। শুরু থেকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপদ, সম্মানজনক এবং টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য চেষ্টা করে আসছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিন বছরের বেশি সময় পার হলেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন এখনও শুরু হয়নি।’
সবাইকে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সংকটের সমাধান না হলে এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।’ রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে মিয়ানমারকে চাপ দিতে ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর প্রতি অনুরোধ করেন শেখ হাসিনা।
অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ডি-৮ এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করেন। বাংলাদেশ আগামী দুই বছর ডি-৮ এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবে।

