দুর্বল হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় তকতে
উত্তরদক্ষিণ| মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১| আপডেট ১৫:১৭
ইন্ডিয়ার গুজরাটের পশ্চিম উপকূলে আছড়ে পড়ার পর শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় তকতে দুর্বল হতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ। ঘূর্ণিঝড়টির কবলে থাকা লাখো মানুষকে এরই মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্স
সোমবার (১৭ মে) রাতে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২১০ কিলোমিটার গতির বাতাস নিয়ে স্থলে উঠে আসা তকতের কারণে গুজরাটের উপকূলীয় গ্রাম ও শহরগুলোতে বাতাসের তীব্র ঝাপটা অনুভূত হয়েছে, উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছ।
দেশটির আবহাওয়া বিভাগ জানান, দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে গুজরাটে এর চেয়ে শক্তিশালী আর কোনো ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানেনি। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে রাজ্যটির কর্তৃপক্ষ ঝড়টির কবলে থাকা দুই লাখেরও বেশি মানুষকে তাদের বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নেয় এবং বন্ধ রাখা হয়েছে সমুদ্র বন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিমানবন্দর।
ইন্ডিয়ার আবহাওয়া বিভাগের দেওয়া সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, কয়েক ঘণ্টার ভেতরই তকতে শক্তি হারিয়ে ‘অতি প্রবল’ থেকে ‘প্রবল’ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে যাচ্ছে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, ঝড়টি এখন পর্যন্ত ২৭ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এর মধ্যে মহারাষ্ট্রে ছয় জনের মৃত্যু ও নয় জন আহত হয়েছে। তীব্র বাতাসের ধাক্কায় সড়কে পড়ে থাকা গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে নেওয়ায় গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।
কর্ণাটকে ঘূর্ণিঝড়-সম্পর্কিত ঘটনায় আট জনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের কারণে কেরালায় সাত জনের প্রাণ গেছে এবং দেড় হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। দমকা বাতাসের কারণে রবিবার গোয়ায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড় গুজরাটেও চার জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।
ইন্ডিয়ার নৌবাহিনী মুম্বাই উপকূল থেকে ভেসে যাওয়া একটি বার্জ থেকে ১৭৭ জনকে উদ্ধার করতে পেরেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস। প্রবল ঝড়ের তোড়ে ভেসে মাঝ সমুদ্রে চলে যাওয়া আরও কয়েকটি বার্জে থাকা লোকদের উদ্ধারে নজরদারি বিমান, একাধিক হেলিকপ্টার ও রণতরী মোতায়েন করা হয়েছে।

