ভ্যাকসিন সংকট কেটে গেছে: প্রধানমন্ত্রী

ভ্যাকসিন সংকট কেটে গেছে: প্রধানমন্ত্রী

উত্তরদক্ষিণ| মঙ্গলবার, ২৯ জুন ২০২১| আপডেট ১৩:৪০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনার ভ্যাকসিন সংকট কেটে গেছে। আগামী জুলাই মাসে আরও ভ‌্যাকসিন আসবে। দ্রুত বড় পরিসরে টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা আছে। চীন, রাশিয়া, আমেরিকাসহ ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের সঠিক পদক্ষেপের কারণে করোনা মহামারির মধ‌্যেও দেশের অর্থনীতি এগিয়ে চলেছে। মানুষের পাশে থেকে জীবন ও জীবিকা রক্ষায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারি থেকে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। দেশব্যাপী ও অঞ্চলভিত্তিক লকডাউন কার্যকরসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি দরিদ্র মানুষকে ত্রাণ সহযোগিতা প্রদানসহ জীবিকা ও অর্থনীতি বাঁচাতে সরকার বিভিন্ন প্রণোদনামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসনসহ করোনা মোকাবিলায় ফ্রন্টলাইন যোদ্ধাদের জন্য সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ল্যাব স্থাপনসহ করোনা পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করায় ভাইরাসের বিস্তার রোধে অনেক উন্নত দেশের চেয়ে বাংলাদেশ সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের সব নাগরিককে বিনামূল্যে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছি। ভ্যাকসিন সংগ্রহে জন্য যত টাকাই লাগুক না কেন, আমরা সে টাকা দেবো। ভারত ভ্যাকসিন রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা সাময়িকভাবে সমস্যায় পড়েছি। কিন্তু, আল্লাহর রহমতে বর্তমানে আমাদের ব্যবস্থা হয়ে গেছে। এখন আর কোন সমস্যা হবে না। আশা করছি, জুলাই মাস থেকে আরো ভ্যাকসিন আসবে।’

‘এই বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। গত বছর আমরা করোনার প্রথম ঢেউ সফলভাবে মোকাবিলা করেছি। সেই অভিজ্ঞতায় দ্বিতীয় ঢেউয়ে আমরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। মহামারি মোকাবিলা করে জনস্বাস্থ্য ও জনজীবন সুরক্ষা করতে আমরা সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ,’ বলেন তিনি।

করোনা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ, প্রণোদনা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ এখনো বিদ্যমান থাকায় যেকোনো জরুরি চাহিদা মোকাবিলায় আমরা এ বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ রেখেছি। দ্রুততম সময় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১০ হাজার চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অভিষ্যতে স্বাস্থ্য খাতে অভিঘাত থেকে ‍মুক্তি পেতে সমন্বিত বিজ্ঞান গবেষণা ও ‍উন্নয়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে। বাজেটে এ খাতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।’

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading