করোনার উৎপত্তি ২৫ হাজার বছর আগেই : গবেষণা
উত্তরদক্ষিণ| রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১| আপডেট ১৬:৩০
মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনে উদ্ভব হওয়া এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যস্ত ৪১ লাখেরও অধিক মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। তবে সম্প্রতি একটি গবেষণা এ ভাইরাস নিয়ে নতুন তথ্য জানায় যা সবাইকে অবাক করে দিচ্ছে। গবেষণা বলছে, মহামারি এ করোনা ভাইরাস ২৫ হাজার বছর আগেও মানবদেহে ছড়িয়ে ছিল।
গবেষকরা জানায়, তখনও বিপর্যস্ত ছিল গোটা দুনিয়া। শুধু তাই নয় ওই সময়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছিল এশিয়ায়। মানবদেহের জিনোম সিকোয়েন্স পরীক্ষা করতে গিয়ে যুক্তরাস্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনা এবং অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেড-এর গবেষকদের করা গবেষণায় এমন তথ্য উঠে আসে।
ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনার বাস্তুতন্ত্র এবং বিবর্তনবাদের শিক্ষক ডেভিড এনার্ড জানান, মানবদেহের ওপর ভাইরাসের হানা চলে আসছে সবসময়ই। তিনি এবং তাঁর সহযোগীরা ২ হাজার ৫০৪ জন মানুষের ২৬ রকম প্রজাতির জিনোম সিকোয়েন্স পরীক্ষা করে হাজার হাজার বছর আগে করোনা সংক্রমণের প্রমাণ পেয়েছেন। তাদের দাবি, কেউ যখন করোনা সংক্রমিত হন, তাঁর কোষের রন্দ্রে রন্দ্রে কার্যত দখল করে বসে করোনা ভাইরাস, যাতে কোষের প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে তারা। মানবদেহে উপস্থিত বিভিন্ন রকমের প্রোটিন ব্যবহার করে তারা এই কাজ করে। কিছু প্রোটিন আবার করোনা বিরুদ্ধে কোষগুলিকে লড়তেও সাহায্য করে।
গবেষকদের দাবি, পূর্ব এশীয় বংশোদ্ভূত মানুষের জিন পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, তাদের সঙ্গে করোনার আগে থেকেই পরিচিতি রয়েছে। মানবদেহের ৪২০টি প্রোটিন নিয়ে পরীক্ষা করেন গবেষকরা। এর মধ্যে ৪২টি প্রোটিনের সঙ্গে ৫ হাজার বছর আগেও করোনার নানা রূপের পরিচিতি ঘটে। দীর্ঘ দিন ধরে ওই ভাইরাসের সঙ্গে প্রোটিনগুলির প্রমাণ পেয়েছেন তারা।
এখান থেকেই তাদের ধারণা অতীতেও দীর্ঘদিন মানুষকে ভুগিয়েছে এই করোনা। তা আসলেই সার্স-কোভ-২ কি না, তা জানতে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলেই দাবি তাঁদের।
হাজার হাজার বছর আগে মহামারির বিরুদ্ধে মানবদেহে যে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে, তার সঙ্গে বর্তমান সার্স-কোভ-২ (নভেল করোনা ভাইরাস) এর বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা প্রতিরোধ ক্ষমতার মিল খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। তাদের দাবি, অতীতে এ ধরণের মহামারির বিরুদ্ধে মানবদেহে জিনের যে বিবর্তন ঘটেছে, সে সম্পর্কে আরও বিস্তর তথ্য-উপাত্ত পাওয়া সম্ভব হলে করোনার সব ধরনের রূপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে।

