করোনাভাইরাস: শনাক্ত-মৃত্যু আরও বাড়ার শঙ্কা

করোনাভাইরাস: শনাক্ত-মৃত্যু আরও বাড়ার শঙ্কা

উত্তরদক্ষিণ| মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১| আপডেট ১২:৪৭

দেশে করোনা রোগীর দৈনিক শনাক্ত ও মৃত্যু আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, গতকাল সোমবার দেশে করোনাভাইরাসে শনাক্ত ও মৃত্যুর নতুন যে রেকর্ড হয়েছে, গত কয়েকদিনের সংক্রমণ পরিস্থিতির ফল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সোমবার (২৬ জুলাই) সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ হাজার ১৯২ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার তথ্য জানায়। আক্রান্তদের মধ্যে ২৪৭ জনের প্রাণ গেছে এই ২৪ ঘণ্টায়। গত বছর মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর এক দিনে এর চেয়ে বেশি রোগী আর কখনও শনাক্ত হয়নি, এত মৃত্যুও আর কখনও দেখতে হয়নি বাংলাদেশের মানুষকে।

করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তারের মধ্যেও ঈদের আগে লকডাউনের বিরতি দেওয়ায় ঝুঁকির কথা বলেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। তাই বাস্তব হয়ে দেখা দিচ্ছে এখন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত ও মৃত্যুর নতুন এই রেকর্ড গত দুই সপ্তাহ আগের সংক্রমণ পরিস্থিতির ফল। ঈদের সময় লকডাউন শিথিলের পর তৈরি হওয়া পরিস্থিতির ফলাফল জানা যাবে আরও দুই সপ্তাহ পর।

আইইডিসিআরের উপদেষ্টা এবং সংস্থাটির সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, গতকাল সোমবার সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হলেও শনাক্তের হার গত কয়েকদিনের তুলনায় কম ছিল। কিন্তু ঈদের কারণে গত সপ্তাহখানেক নমুনা পরীক্ষা কম হয়েছে। যে কারণে দৈনিক শনাক্ত সংখ্যায় কম হয়েছে।

“পরীক্ষা কম হয়েছে বলে শনাক্তের মোট সংখ্যা কমেছে। কিন্তু প্রকৃত অবস্থা জানা যায় নমুনা পরীক্ষা অনুযায়ী শনাক্তের হার দেখে। নমুনা পরীক্ষা অনুযায়ী শনাক্তের হার গত কয়েকদিন ধরেই ত্রিশের বেশি ছিল। ফলে আজকে শনাক্তের যে সংখ্যা তা আগেও ছিল।”

লকডাউন শিথিল করায় সংক্রমণ বাড়বেই এটা ধরে নেওয়া যায়, বলেন ডা. মুশতাক। “আমরা কোরবানির হাট করলাম, মার্কেট খুলে দিলাম, দলে দলে মানুষ যাতায়াত করলাম, গণপরিবহনে মানুষে গাদাগাদি-এগুলোর অ্যাফেক্ট আরও কয়েকদিন পরেই দেখা যাবে। এটা বাড়বেই।”

মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, “মৃত্যু কয়েকদিন ধরেই বেশি আসছে। এটা আরও দুয়েকদিন দেখতে হবে যে মৃত্যুর বৃদ্ধি কী শুরু হয়ে গেল, নাকি একদিন হঠাৎ করে অনেকগুলো পরিসংখ্যান এক হয়ে গেল। মৃত্যুর হার কেমন বাড়বে তাও এক সপ্তাহ পর দেখা যাবে।” বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলামও বলেছেন সর্বোচ্চ শনাক্ত এবং মৃত্যু গত কয়েকদিন ধরে চলা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির ফল।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “লকডাউন তুলে নেওয়ায় মানুষ ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহর ছেড়ে বিভিন্ন জায়গায় চলে গেছে। আবার ঈদ শেষে ঢাকায় ফিরেছে। এর ফলে সংক্রমণের হার বাড়ার কথা, এটা দেখা যাবে আরও দিন পনেরো পরে। “যদি পরিস্থিতি আরও খারাপ না হয় তাহলে আমাদের কপাল ভালো। কিন্তু পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।”

গত কয়েকদিন ধরে নমুনা পরীক্ষা অনুযায়ী শনাক্তের হার ৩০ শতাংশের বেশি রয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জুলাই ৩২ দশমিক ৫৫ শতাংশ ছিল সংক্রমণের হার। এটা বাংলাদেশে একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের হার। এর আগে গত বছরের ৩ অগাস্ট ৩১ দশমিক ৯১ শতাংশই ছিল একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের হার।

এছাড়া ২১ জুলাই নমুনা পরীক্ষা অনুযায়ী শনাক্তের হার ছিল ৩০ দশমিক ৪৮ শতাংশ, ২২ জুলাই ৩২ দশমিক ১৯ শতাংশ, ২৩ জুলাই ৩১ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং ২৫ জুলাই ৩০ ০৪ শতাংশ।

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading