দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাল আমদানি হচ্ছে

দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাল আমদানি হচ্ছে

উত্তরদক্ষিণ| মঙ্গলবার, ৩১ আগস্ট ২০২১| আপডেট ০৯:১৫

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৭ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত গত দুই সপ্তাহে ৪৩৬টি বেসরকারি খাতের চাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ১৬ লাখ ৯৩ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তবে চাল আমদানির ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা চাল দেশের বাজারে ঢুকতে শুরু করেছে। আমদানির জন্য অনুমোদিত চালের মধ্যে নন-বাসমতি সিদ্ধ চালের পরিমাণ ১৪ লাখ ৮৩ হাজার মেট্রিক টন এবং আতপ চালের পরিমাণ দুই লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন।

এরমধ্যে গত সোমবার ৭৯টি প্রতিষ্ঠানকে চাল আমদানির জন্য অনুমোদন দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এদের মোট এক লাখ এক হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭৭ হাজার মেট্রিক টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল এবং ২৪ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল আমদানি করা হবে। মনোনীত প্রতিষ্ঠানগুলোকে চাল আমদানির অনুমতি দিতে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা মজুদ সুসংহত করা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বেসরকারি খাতে চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মনোনীত আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কোন প্রতিষ্ঠান কী পরিমাণ চাল আমদানি করতে পারবে তা সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এবং সব আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের জন্য ছয়টি শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এগুলো হচ্ছে বরাদ্দ আদেশ জারির ১৫ দিনের মধ্যে এলসি (ঋণপত্র) খুলতে হবে এবং এ-সংক্রান্ত তথ্য (বিল অব এন্ট্রিসহ) খাদ্য মন্ত্রণালয়কে ই-মেইলের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করতে হবে।

দেশে চালের বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে প্রথম দিকে ৪২৮ জন ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানকে কম শুল্ক হারে ১৭ লাখ ২ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয় পরে আরো ৮ টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হয়। আমদানিকারকদের আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আমদানিকৃত চাল বাজারজাত করতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে অন্যান্য শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে আমদানিকৃত চালের মধ্যে সর্বাধিক ৫ শতাংশ ভাঙা শস্য নিশ্চিত করা, ১৫ দিনের মধ্যে এলসি (লেটার অফ ক্রেডিট) খোলা এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়কে ইমেইলের মাধ্যমে এলসি সম্পর্কিত তথ্য অবিলম্বে জানানো।

এছাড়া আমদানিকৃত চাল আমদানিকারকদের নাম ব্যবহার করে পুনরায় প্যাকেজ করা যাবে না এবং চাল প্লাস্টিকের বস্তায় বিক্রি করতে হবে। যদি কেউ নির্ধারিত সময়ে এলসি খুলতে ব্যর্থ হয়, তবে অনুমতি বাতিল করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ১২ আগস্ট স্থানীয় বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য চাল আমদানির শুল্ক কমিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে চালের আমদানির শুল্ক ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করে এনবিআর। কম আমদানি শুল্কের সুবিধা আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

আমদানি করা চাল ইতোমধ্যে স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ শুরু করেছে। এতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্থানীয় বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading