সাপের বিষে করোনা প্রতিষেধক?

সাপের বিষে করোনা প্রতিষেধক?

উত্তরদক্ষিণ| বুধবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২১ | আপডেট ২০:১৩

জারারাকুসু পিট ভাইপার নামের এক সাপের বিষ থেকে করোনার প্রতিষেধক তৈরির আশা প্রকাশ করছেন বিজ্ঞানীরা। ইতোমধ্যেই, ওই সাপের বিষ ব্যবহার করে বানরের দেহে করোনার প্রতিলিপি থামানো সম্ভব হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, করোনার ওষুধ তৈরিতে সম্ভাব্য প্রথম ধাপ।

বিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল মলিকিউলসে এ সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়, জারারাকুসু পিট ভাইপার নামের ওই সাপ ব্রাজিলে বেশি পাওয়া যায়। ওই সাপের বিষের অণু করোনার প্রতিলিপির ক্ষমতা ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে সক্ষম।

এ ব্যাপারে ইউনিভার্সিটি অব সাও পাওলোর অধ্যাপক রাফায়েরল গুইদো বলেন, সাপের বিষ ভাইরাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের প্রতিলিপি থামিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, বিষের সেই অণুটি হলো পেপটাইড। যা মূলত অ্যামিনো এসিডের একটি ক্ষুদ্র শৃঙ্খল। যা অন্য কোষের ক্ষতি না করেই পিএলপ্রো নামে করোনাভাইরাসের একটি অ্যানজাইমের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। এই অ্যানজাইমটি করোনার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণের জন্য আগে থেকেই পরিচিত পেপটাইড। আর এটি গবেষণাগারেই তৈরি করা যায়। ফলে পেপটাইড পাওয়ার জন্য সাপ শিকার বা চাষের কোনো প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন গুইদো।

গবেষকরা এবার পেপটাইডের বিভিন্ন ডোজের কার্যকারিতা এবং এটি জীবকোষে করোনাভাইরাসের প্রবেশ সরাসরি ঠেকিয়ে দিতে পারে কি না তা পরীক্ষা করবেন। মানবদেহে এই উপাদানটির কার্যকরিতার বিষয়ে আশাবাদী গবেষকরা, তবে তার সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি তারা।

প্রসঙ্গত, জারারাকুসু পিট ব্রাজিলে পাওয়া অন্যতম বৃহত্তম সাপ। এটি লম্বায় ছয় ফুট পর্যন্ত হতে পারে। বিষাক্ত এই সাপটি আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া ও প্যারাগুয়েতেও পাওয়া যায়।

mashiurjarif

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading