‘বন্ধের দিনে’ বাজারে আগুন, বেড়েই চলেছে নিত্যপণ্যের দাম
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। আপডেট ১৩:৫০
বাজারে এসে সব কিছুর চড়া দামে হতাশা প্রকাশ করেছেন বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা। সব মিলিয়ে সরকারি ছুটির দিন শনিবার বাজারে আসা প্রায় সব ক্রেতারাই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেখে পুরো ব্যাগের পরিবর্তে ব্যাগের অর্ধেকটা বাজার করে ফিরছেন।
জানা যায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বেড়েই চলেছে আটা ও ময়দার দাম। একইভাবে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম। এছাড়া দাম বাড়ার তালিকায় যুক্ত হয়েছে আদা ও রসুন। নতুন করে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা। এক থেকে দেড় মাসের ব্যবধানে মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০ টাকার মতো। দেড় মাস আগের ১১৫ থেকে ১২০ টাকা কেজি ব্রয়লার মুরগি এখন কিনতে হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকার বেশি দিয়ে।
সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্য বলছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ১০ টাকা। পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত।
শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা পাকিস্তানি কক বিক্রি করছেন কেজি ২৯০-৩১০ টাকা, দুই সপ্তাহ আগে যা ছিল ২২০-২৩০ টাকা।
দেখা যায়, গত এক সপ্তাহে দেশি আদার দাম বেড়েছে কেজিতে ৬০ টাকা। গত সপ্তাহে যে আদা বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা কেজি, সেই আদা শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ১৮০ টাকায়। এছাড়া কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে আমদানি করা রসুনের দাম। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজিতে, আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা। গত এক মাসে বড় দানার মসুর ডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকার মতো। গত এক মাসে প্যাকেট ময়দার দাম বেড়েছে কেজিতে ৮ টাকা। একইভাবে প্যাকেট আটার দাম বেড়েছে কেজিতে ৬ টাকার মতো। এদিকে মোটা চাল প্রতিকেজি ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে চিকন চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৮ টাকা পর্যন্ত।
বাজারের তথ্য বলছে, গত এক মাস ধরে বাড়ছে ডিমের দামও। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি হালি ডিমের দাম বেড়েছে ২ টাকারও বেশি। এ সপ্তাহে ডিমের দাম বেড়েছে প্রতি ডজন ১০ টাকার মতো। ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১৫-১২০ টাকার মধ্যে। আর মুদি দোকানে গত সপ্তাহে এক পিস ডিম বিক্রি হয়েছে ১০ টাকা, এখন তা বেড়ে ১১ টাকা হয়েছে।
সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা গত সপ্তাহের মতো আজও শীতের আগাম সবজি শিমের কেজি বিক্রি করছেন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। গাজর ও টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। এ দুটি সবজির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে। ঝিঙের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঢেঁড়সের কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। বরবটির কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা।
এর সঙ্গে বাজারগুলোতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সবজির দাম। নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন সীমিত আয়ের ক্রেতারা। সবকিছুর চড়া দামে হতাশা প্রকাশ করেছেন বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে সবজির সরবরাহ সাধারণত কম থাকে। এ কারণে সবজির দাম একটু বাড়তি থাকে। এর সঙ্গে এবার বন্যায় অনেক সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে, যার প্রভাবে দাম বেড়ে গেছে।

