বিশ্বনেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা: রোহিঙ্গা সঙ্কটের সৃষ্টি মিয়ানমারে । সমাধানও মিয়ানমারেই
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০৫ অক্টোবর ২০২১ । আপডেট ১৩:০৮
সম্প্রতি জাতিসংঘের ৭৬তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ বিষয়ে আমেরিকা সফর নিয়ে গতকাল সোমবার সংবাদ সম্মেলনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনের ব্যাংকুয়েট হলে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থেকে বিভিন্ন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান, মহামারি থেকে টেকসই পুনরুদ্ধার, জলবায়ু পরিবর্তন, নারীর ক্ষমতায়নসহ
বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। বিস্তারিত মশিউর জারিফ-এর প্রতিবেদনে…
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)-এর ৭৬তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখবে বলে আমি আশা করি। রোহিঙ্গা সঙ্কট সম্পর্কে আমি আবারও বিশ্বনেতৃবৃন্দকে স্মরণ করিয়ে দেই যে, রোহিঙ্গা সঙ্কটের সৃষ্টি মিয়ানমারে, সমাধানও রয়েছে মিয়ানমারে।
রাখাইন রাজ্যে তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমেই কেবল এ সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে বলে উল্লেখ করে আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করার অনুরোধ জানাই। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটে বলে জানান তিনি। ৭৬-তম অধিবেশনের মূল সভা ও সাইড ইভেন্ট মিলিয়ে তিনি সর্বমোট ১০টি সভা এবং ৮টি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন। পাশাপশি ৭৬-তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক পর্বের উদ্বোধনী দিনেও তিনি যোগদান করেন।
নারীর ক্ষমতায়ন: বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মূল বিষয়গুলো বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক ছিল। বিশেষত কোভিড-১৯ টিকার সার্বজনীন প্রাপ্যতা ও মহামারি থেকে টেকসই পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত শীর্ষ সভাসমূহে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা অন্যতম দেশ ও ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের সভাপতি হিসেবে জলবায়ু সংক্রান্ত সভাগুলোতে অংশগ্রহণ করে আমরা আমাদের দাবিগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরেছি। পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথাও বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করেছি যা সকল মহলে বহুল প্রশংসিত হয়েছে।
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির প্রেক্ষাপটে ‘প্রত্যাশা’-কে উপজীব্য করে এবারের অধিবেশনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মহামারি থেকে টেকসই উত্তরণ। এছাড়া, কোভিড-১৯ টিকার সর্বজনীন প্রাপ্যতা, সহজলভ্যতা ও মহামারি থেকে টেকসই পুনরুদ্ধার স্বভাবতই আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে। পাশাপাশি, জলবায়ু পরিবর্তন, নারীর ক্ষমতায়ন, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি, বর্ণবাদ, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট তথা এসডিজি, পারমাণবিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ ইত্যাদি বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে এসেছে বলেও জানান তিনি।
এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার জনগণকে উৎসর্গ
সরকারপ্রধান বলেন, সফরের প্রথম দিনে ২০ সেপ্টেম্বর ইউএন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলুশ্যন্স নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন) এর পক্ষ থেকে ২০১৫-২০২০ সময়কালে এসডিজি অর্জনে সর্বোচ্চ সাফল্যের জন্য আমাকে এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার প্রদান করা হয়। এসডিএসএন এর প্রেসিডেন্ট প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ প্রফেসর জেফ্রি স্যাক্স আমার হাতে এই সম্মাননাটি তুলে দেন। কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশ যে অবিচলভাবে টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছে-এই পুরস্কার তারই বিশ্ব স্বীকৃতি। আমি আমার ধন্যবাদজ্ঞাপন বক্তব্যে দেশের জনগণকে এই পুরস্কার উৎসর্গ করি।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী: জাতিসংঘে শতর্বষী বৃক্ষরোপন
তিনি বলেন, এই সফরের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল জাতিসংঘ সদরদপ্তরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জš§শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে একটি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন এবং একটি শতর্বষী বৃক্ষ রোপন। জাতিসংঘের সদর দপ্তর চত্বরে কোন রাজনৈতিক নেতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের এ ধরণের উদ্যোগ এটিই প্রথম। বাংলাদেশের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি বিরল সম্মাননা বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।
কোভিড-১৯ টিকা: ‘বৈশ্বিক সম্পদ’
টিকা বৈষম্য দূরীকরণে প্রধানমন্ত্রী কোভিড-১৯ টিকাকে ‘বৈশ্বিক সম্পদ’ হিসেবে বিবেচনা করার জন্য বিশ্বনেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান। এছাড়া কোভিড-১৯ মহামারির কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর ক্ষতি কমানো, ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, ক্ষতিপূরণ প্রদান, টেকসই অভিযোজনের জন্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তির অবাধ হস্তান্তরের অনুরোধ করেন।

