অশ্রু আর ফুলে বিদায় নিলেন ইনামুল হক
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর ২০২১ । আপডেট ১৭:০০
একজন শিক্ষক হিসেবে, অভিনেতা, নাট্যকার আর পরিচালক হিসেবে ইনামুল হক কেমন মানুষ ছিলেন, সেসব স্মৃতি ফিরে ফিরে এল সমাজের নানা অঙ্গনের প্রতিনিধিদের কথায়; কিন্তু দীর্ঘদিনের সহকর্মী আর বন্ধু আবুল হায়াত কিছু বলতে পারলেন না, ভেঙে পড়লেন কান্নায়।
মঙ্গলবার ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের শ্রদ্ধার ফুল আর বন্ধু-স্বজনদের অশ্রুমাখা ভালোবাসায় শিক্ত হয়ে চিরবিদায় নিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত এই নাট্যজন।
ইনামুল হকের দুই মেয়ে হৃদি হক ও প্রৈতি হক, তাদের জামাতা অভিনেতা লিটু আনাম ও সাজু খাদেমও উপস্থিত ছিলেন শহীদ মিনারে।
হৃদি হক বললেন,“উনার ভাবনায়,চিন্তা-চেতনায় ছিল বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষ। তিনি আমাদের সকলের নাট্যগুরু, নাট্যপ্রাণ মানুষ।
“সারাজীবন নাটক, থিয়েটার, শিল্পচর্চা… সেই গণআন্দোলনের সময় থেকে শেষ দিন পর্যন্ত বাবা অনুবাদের কাজ করে গেছেন। যে ভালোবাসা তিনি মানুষকে দিয়েছিলেন, মানুষও তাকে সেই ভালোবাসা দিচ্ছেন।”
সোমবার বিকালে ৭৮ বছর বয়সে মারা যান মঞ্চ আর টেলিভিশনের এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা ইনামুল হক। সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে সংস্কৃতিকর্মীরা তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
মঙ্গলবার সকালে তার কফিন নিয়ে আসা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দুপুরে মরদেহ নেওয়া হয় তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। সেখানে জানাজা শেষে জোহরের নামাজের পর বনানী কবরস্থানে শায়িত হন অভিনেতা ইনামুল হক।
ইনামুল হকের সঙ্গে আবুল হায়াতের বন্ধুত্ব ৫০ বছরের। তিনিও একসময় বুয়েটে চাকরি করেছেন, একসঙ্গে তারা অভিনয় করেছেন বহু নাটকে।
মঙ্গলবার সকালে আবুল হায়াত শহীদ মিনারে এসেছিলেন অনেকের আগেই।বন্ধুর কফিনে ফুল দেওয়ার সময় তিনি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। মেয়ে নাতাশা হায়াত পাশ থেকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন, কিন্তু আবুল হায়াতের কান্না থামছিল না।

