আইএমএফ এর পূর্বাভাস, মাথাপিছু আয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ: ইন্ডিয়াকে ফের টেক্কা
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর ২০২১ । আপডেট ১২:২৫
গতবছরের ন্যায় চলতি বছরও মাথাপিছু আয়ে ইন্ডিয়াকে টেক্কা দেবে বাংলাদেশ। এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। আইএমএফ প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (ডব্লিউইও) বলছে চলতি বছর ইন্ডিয়ার প্রবৃদ্ধি বাড়লেও ২০২০ সালে দেশটির অর্থনীতি অনেক বেশি মাত্রায় সংকুচিত হয়েছিল। এর ফলেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার শক্তিশালী দেশটিকে টেক্কা দিতে পারে বাংলাদেশ। বিস্তারিত আসাদুজ্জামান সুপ্ত-এর প্রতিবেদনে…
ইন্ডিয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। বাংলাদেশের তুলনায় দেশটির অর্থনীতি ১০ গুণ বড়। কিন্তু গতবছর মাথাপিছু আয়ে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার এই জায়ান্টকে টেক্কা দিয়েছিল বাংলাদেশ। বিশ্ব গণমাধ্যমে যা বেশ সাড়া ফেলেছিল এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের উত্থানেরও জানান দিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরও বাংলাদেশ তাদের অবস্থান ধরে রাখবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। আইএমএফ বলছে, চলতি বছর বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হবে দুই হাজার ১৩৮ দশমিক ৭৯৪ মার্কিন ডলার। একই সময়ে ইন্ডিয়ার মাথাপিছু জিডিপি হবে দুই হাজার ১১৬ দশমিক ৪৪৪ ডলার। চলতি বছরের পূর্বাভাসে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি বেশি হবে ২২ দশমিক ৩৫ ডলার। এর ফলে এ নিয়ে টানা দুই বছর দেশটিকে পেছনে ফেলবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের এই অভূতপূর্ব সাফল্যের পেছনে রয়েছে বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী পরিকল্পনা এবং এর সঠিক বাস্তবায়ন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর রহমানের গড়া পরিকল্পনারই বাস্তবায়ন ঘটাচ্ছেন তারই যোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অর্থনীতির চালিকা শক্তিতেই বিশ্ববাসী যার প্রমাণ দেখছে।
আইএমএফ-এর পূর্বাভাস বলছে, মহামারি করোনার প্রভাব কাটিয়ে উভয় দেশই বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। এ বছর ইন্ডিয়ার মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। অপরদিকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে ইন্ডিয়ার প্রবৃদ্ধি বাড়লেও গত বছর দেশটির অর্থনীতি বেশি মাত্রায় সংকুচিত ছিল বলে এবারও এগিয়ে থাকার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ।
মূলত ইন্ডিয়া এবছর রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও আগের বছরের উচ্চ ঋণাÍক প্রবৃদ্ধির প্রভাবেই এখনও পিছিয়ে। আইএমএফের ধারণা আগামী বছরও দেশটি পিছিয়েই থাকবে। গতবছরের আইএমএফ-এর ইকনোমিক আউটলুক রিপোর্টে বলা হয়েছিল বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, আর ইন্ডিয়ার প্রবৃদ্ধি কমে হবে ঋণাÍক, অর্থাৎ (-) ১০ দশমিক ৩ শতাংশ।
এর ফলে ওই বছর (২০২০ সাল) বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হবে ১ হাজার ৮৮৮ ডলার ও ইন্ডিয়ার হবে ১ হাজার ৮৮৭ ডলার। ২০২০ সালে প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। আর ইন্ডিয়ার ছিল ঋণাÍক, (-) ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে শেষ পর্যন্ত আইএমএফ-এর হিসাবে ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হয় ১ হাজার ৯৬১ দশমিক ৬১৪ ডলার এবং ইন্ডিয়ার ১ হাজার ৯২৯ দশমিক ৬৭৭ ডলার। ইন্ডিয়াকে মাথাপিছু আয়ে পেছনে ফেলা বাংলাদেশের জন্য বিরাট এক অর্জন।
গতবছরের সেই ফলাফলটা যে কোনো মিরাকল ছিল না সেটা চলতি বছর বেশ দাপটের সঙ্গেই প্রমাণ দিল। এমনকি আইএমএফ-এর পূর্বাভাস যদি মিলে যায় সেক্ষেত্রে আগামী বছরও বাংলাদেশ এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে। গত বছর অক্টোবরে প্রথমবার যখন আইএমএফ বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেয়, তখনই এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। উভয় দেশের গণমাধ্যমের পাশাপাশি আর্ন্তজাতিক বহু মহলে ব্যাপক আলোড়ন ঘটে। বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসুও এ নিয়ে একটি টুইট করেছিলেন।
সেখানে তিনি লিখেছিলেন, আইএমএফের প্রাক্কলন দেখাচ্ছে বাংলাদেশ মাথাপিছু জিডিপিতে ইন্ডিয়াকে ছাড়িয়ে যাবে। যেকোনো উদীয়মান অর্থনীতির ভালো করাটা সুসংবাদ। তবে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, পাঁচ বছর আগেও যে ইন্ডিয়া ২৫ শতাংশ বেশি এগিয়ে ছিল, তারাই এখন পিছিয়ে যাচ্ছে।
তবে বাংলাদেশের এই অর্থনীতির উত্থান রাতারাতি আসে নি। এর জন্য ছিল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আর তার সঠিক বাস্তবায়ন। ২০০৭ সালে কিন্তু বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ছিল ইন্ডিয়ার অর্ধেক। আর ২০০৪ সালে মাথাপিছু জিডিপি ছিল বাংলাদেশের তুলনায় ৭০ শতাংশ বেশি। এই অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটে ২০১৭ সালের পর থেকে। মূল কারনের মধ্যে রয়েছে ইন্ডিয়ার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার, এগিয়ে যাওয়া অর্থনীতি আচমকা শ্লথ হয়ে পড়ে, বাংলাদেশের দ্রুতগতিতে প্রবৃদ্ধির হার বাড়া ইত্যাদি।
গত ১৫ বছরে ইন্ডিয়ার জনসংখ্যা বেড়েছে ২১ শতাংশ, আর বাংলাদেশের বেড়েছে ১৮ শতাংশ। এদিকে শুধু জিডিপিতেই নয় বেশ কিছু সামাজিক সূচকেও প্রতিবেশী দেশ ইন্ডিয়াকে বহু আগেই ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ।

