খালেদা জিয়া বিপদমুক্ত: ফখরুল

খালেদা জিয়া বিপদমুক্ত: ফখরুল

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১ । আপডেট ১৯:০০

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার বায়োপসি হলেও তিনি ‘বিপদমুক্ত’ বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে থাকা ৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে নানা খবর প্রকাশের মধ্যে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এসে একথা জানান ফখরুল।

তিনি বলেন, “তিনি বিপদমুক্ত। কোনো রকম বিপদের সম্ভাবনা নেই বলে তারা (চিকিৎসকরা) মনে করেন।

“আপনারা নিশ্চিত থাকুন যে, দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া একদম সুস্থ আছেন। কিছুক্ষণ আগে তার সঙ্গে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কথা বলেছেন, তার ভাই (শামীম এস্কান্দার) কথা বলেছেন। ডাক্তার সাহেব যে দুজন ছিলেন, তারা আমাকে নিশ্চিত করেছেন যে তিনি ভালো আছেন।”

বিএনপি চেয়ারপারসনের অসুস্থতা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন ফখরুল।

“এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এত দায়িত্বজ্ঞানহীন মিডিয়া কেন হবে ভাই? জিজ্ঞেস করতে হবে যারা কাজ করছেন তাদেরকে, আমাকে অথবা ডাক্তার সাহেবদেরকে। তা না করে একটা বলে দিলে হয়ে গেল? এটা ঠিক না। এই ধরনের হাইপার জার্নালিজম!”

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে খালেদার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপি নেতা অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেনও ছিলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের বায়োপসি হয়েছে এবং তাতে কোনো সমস্যা হয়নি।

“উনার শরীরের এক জায়গায় ছোট একটা লাম্প আছে। যেহেতু পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এই লাম্পের নেচার অব অরিজিন জানতে হলে বায়োপসি করা প্রয়োজন। সেজন্য আজকে ছোট একটা বায়োপসি করতে উনাকে ওটিতে (অপারেশন থিয়েটার) নিয়ে সেটি করা হয়েছে।”

‘লাম্পের’ ব্যাখ্যায় অধ্যাপক জাহিদ বলেন, “লাম্প শব্দের অর্থ হচ্ছে ছোট টাকা। ইট ইজ নিয়ারলি ১.২ সেন্টিমিটার ইন সাইজ।”

বিএনপি চেয়ারপারসনের দেহের কোথায় এটা হয়েছে- সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি ‘রোগীর প্রাইভেসি’র বিষয়টি উল্লেখ করে সে বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি।

“বায়োপসি পরবর্তীতে উনার প্যারামিটারগুলো এই মুহূর্তে স্টেবল আছে। উনি সার্জিক্যাল আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন,” বলেন তিনি।

জাহিদ জানান, ভাই শামীম এস্কান্দার ছাড়াও ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানের সঙ্গেও খালেদা জিয়া কথা বলেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে এই চিকিৎসক বলেন, “বায়োপসি মানে চিকিৎসা না। বায়োপসি মানে হচ্ছে একটা ডায়োগনস্টিক প্রসেসের পার্ট। পরবর্তী চিকিৎসা কী হবে, এ পরীক্ষার উপর বেইস করে সেটা নির্ধারিত হবে।”

বায়োপসির প্রতিবেদন কবে নাগাদ হাতে আসে- জানতে চাইলে অধ্যাপক জাহিদ বলেন, “বায়োপসির রেজাল্ট পেতে সায়েন্টিফিক্যালি ৭২ ঘণ্টা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৫ দিন থেকে ২১ দিন সময় লাগে। কাজেই এর রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।”

গত ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে বসুন্ধরার এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে একটি মেডিকেল বোর্ডের অধীনে চিকিৎসাধীন।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ২০০৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যেতে হয়।

দেশে করোনাভাইরাসের মহামারী শুরুর পর পরিবারের আবেদনে গত বছরের ২৫ মার্চ ‘মানবিক বিবেচনায়’ তাকে শর্তসাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার।

mashiurjarif

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading