বেতনভাতার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

বেতনভাতার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১ । আপডেট ২১:১৫

গাজীপুর মহানগরের দক্ষিণ সালনা এলাকায় বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে শ্যামলী পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। বুধবার (২৭ অক্টোবর) বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টা তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি গাড়ির কাচ ভাঙচুর করে। সন্ধ্যায় পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সড়ক অবরোধের কারণে ওই মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ঢাকা ও ময়মনসিংহগামী যাত্রীদের দুর্ভোগ পড়তে হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা কেউ কেউ হেঁটে গন্তব্য রওনা দিয়েছেন।

সেলিম হোসেন, রাবেয়া আক্তার, জহিরুল ইসলামসহ আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, তারা কয়েক মাসের বেতনভাতা পাওনা রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ একাধিকবার আশ্বাস দিয়ে তারিখ নির্ধারণ করলেও পাওনাদি পরিশোধ করেনি। ২৫ অক্টোবর শ্রমিক-কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া বেতনভাতা পরিশোধের নির্ধারিত তারিখ ছিল। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ ওই দিন শ্রমিকদের পাওনাদি না দিয়ে মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) পরিশোধের আশ্বাস দেয়। ওই দিনও বেতনভাতা পরিশোধ না করে ফের বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) পরিশোধের তারিখ নির্ধারণ করে। দুপুরের খাবারের বিরতির পর আড়াইটা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরও বকেয়া বেতনভাতা পরিশোধ না করায় শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তারা বিকাল ৩টার দিকে সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়াসহ চলতি মাসের বেতনভাতা পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন।

তারা কর্তৃপক্ষের সাড়া না পেয়ে কারখানা থেকে বের হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা মহাসড়কে বসে এবং গাছ ও ইট ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে। এতে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল মোনায়েম জানান, শ্রমিক অসন্তোষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ সদস্যরা অবরোধকারী শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও শ্রমিকরা সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ তুলে নেয়নি। প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধ অব্যাহত থাকায় মহাসড়কের উভয় দিকে যানবাহন আটকা পড়ে যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীরা অন্তত ৩৫/৪০টি গাড়ির কাচ ভাঙচুর করে। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন। এক পর্যায়ে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ছুড়ে আন্দোলনরতদের ছত্রভঙ্গ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং মহাসড়কে পুনরায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়। শ্যামলী পোশাক কারখানায় প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক-কর্মচারী রয়েছে।

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading