ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৭৩ রানেই থামলো বাংলাদেশ

ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৭৩ রানেই থামলো বাংলাদেশ

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০৪ নভেম্বর ২০২১। আপডেট ১৭:৩৫

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ পর্ব থেকে অন্তত একটা জয় নিয়ে দেশে ফেরার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশ দল। কিন্তু তাদের এবার হয়তো খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে। কারণ আসরের নিজেদের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের তোপের মুখে চরম ব্যাটিং ব্যর্থতায় সব উইকেট হারিয়ে মাত্র ৭৩ রানের পুঁজি পেয়েছেন মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকরা।
বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানায় অস্ট্রেলিয়া। এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলে একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। স্পিনার নাসুম আহমেদের জায়গায় ঢুকেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। অস্ট্রেলিয়া দলেও একটি পরিবর্তন এসেছে। মিচেল মার্শ এসেছেন অ্যাস্টন অ্যাগারের জায়গায়।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বোলিং শুরু করা মিচেল স্টার্কের তৃতীয় বলেই বোল্ড হয়ে যান লিটন দাস। বলটি তার ব্যাট ছুঁয়ে স্টাম্পে আঘাত হানে। গোল্ডেন ডাক মেরে ফিরেন ডানহাতি ওপেনার। এরপর সৌম্য ৮ বলে ৫ রান করে জস হ্যাজেলউডের বলে বোল্ড হয়ে যান। উইকেটে আসেন মুশফিকুর রহিম। ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন।

১০ রানে তিন উইকেট হারিয়ে খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। এরপর পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেন নাঈম আর মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু ওই পর্যন্তই। দলীয় ৩২ রানে কামিন্সের তালুবন্দি হয়ে হ্যাজেলউডের শিকার হন মোহাম্মদ নাঈম (১৭)। এরপর ডাক মারেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। অজি স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার প্রথম বলেই এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ৩৩ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ।

চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ইনিংসের হাল ধরেছিলেন শামিম হোসেন পাটোয়ারি। দুজনের জুটিতে আসে ২৮ বলে ২৯ রান। ১ চার ও ১ ছক্কা হাঁকিয়ে আশা জাগালেও অজি স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার স্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে উইকেটরক্ষক ম্যাথু ওয়েডের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে শামিমের ব্যাট থেকে আসে ১৮ বলে ১৯ রান। ওভারের পরের বলেই লেগ বিফোর হয়ে ডাক মারেন মেহেদী হাসান। ফলে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পান জাম্পা।

দলের বিপদে হাল ধরতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। টাইগার দলপতি ফিরেছেন ১৮ বলে ১৬ রানের ইনিংস খেলে। স্টার্কের বলে অজি উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ তুলে দেওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ২টি বাউন্ডারি। ৬৫ রান তুলতেই ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর নিজের জাম্পা বোলিংয়ে ফিরে প্রথম বলেই হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তাসকিন আহমেদের ক্যাচ মিস করেন ওয়েড। কিন্তু ওই ওভারেই মোস্তাফিজ (৪) ও শরিফুল ইসলামকে (০) বিদায় করে ইনিংসে নিজের পঞ্চম উইকেট তুলে নেন জাম্পা। বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৫ ওভারেই।

বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার জাম্পা ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রানে ৫টি উইকেট পান। এটাই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো অস্ট্রেলিয়ান বোলারের সেরা বোলিং ফিগার। এর আগে ২০১৬ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪ ওভারে ২৭ রানে ৫ উইকেট পেয়েছিলেন সাবেক অজি পেসার জেমস ফকনার। এছাড়া স্টার্ক, হ্যাজেলউড ২টি করে উইকেট তুলে নিয়েছেন। বাকি ১ উইকেট গেছে ম্যাক্সওয়েলের দখলে।

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading