সাংবাদিকের মাদক নেয়ার ছবি ভাইরাল
সাইফুল অনিক। বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর ২০২১। আপডেট ১২:৩৫
সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার এক সাংবাদিকের মাদক নেয়ার একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ছবিটি একটি ভিডিওর স্থির চিত্র। ছবিটিতে উনাকে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় দেখা যায়।
মাসুম মির্জা নামের ঐ সাংবাদিক স্থানীয় কিছু সংবাদ মাধ্যম ও জাতীয় কিছু দৈনিকের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। তিনি নবীনগর থানা প্রেসক্লাবের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় নূরনগর সাংবাদিক ফোরামের সহঃ সভাপতির দ্বায়িত্বে ছিলেন। উল্লেখ্য, উনি “মাদক মুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া চাই” সংগঠনের সিনিয়র সহ সভাপতি।
গত কিছু দিন থেকেই ফেসবুকে বিভিন্ন মানুষের নেতিবাচক মন্তব্যের সাথে ছবিটি প্রচার হতে দেখা যায়। সাথে সাথেই এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। একজন সংবাদ কর্মী হিসেবে তার এমন কান্ড জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে নূরনগর সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাসুম মির্জা গত ২ মাস আগে লিখিতভাবে উনার পদত্যাগ পত্র আমাদের অফিসে জমা দেয়। তারপর থেকেই আমরা আমাদের সংগঠনের কার্যক্রম থেকে উনাকে বিরত রাখি। আর এখন আমরা সামাজিক যোগাযগের মাধ্যমে উনার কর্মকান্ড দেখার পর সংগঠনের জরুরী সভায় আনুষ্ঠানিক ভাবে উনাকে বহিষ্কার করি এবং আমাদের সকল ধরনের কার্যক্রম থেকে উনাকে বিরত রাখি। এছাড়া আমরা সাংবাদিক মহল মাদক গ্রহণকে ঘৃণা করি ও বিরোধিতা করি।
এব্যাপারে মাসুম মির্জার ব্যাক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক উত্তরদক্ষিণ’কে বলেন, “আমার পূর্ব পরিচিত এক ব্যাক্তি আমাকে জোরপূর্বক ঐ স্থানে নিয়ে গিয়ে অনিচ্ছা স্বত্বেও আমাকে মাদক গ্রহণে বাধ্য করে। ঘটনাস্থলে ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ভাইরাল করে দেয়া করে হয়।
মাদক মুক্তির প্রতিবাদী একটা সংগঠনের দ্বায়ীত্বশীল একটা পদে থেকে, স্থানীয় সংবাদ কর্মী হিসেবে আপনার এমন কাজকে কিভাবে দেখছেন? প্রতিবেদকের এই প্রশ্নের জবাবে উনি বলেন, “আমার কাজটি খুবই খারাপ হয়েছে। আমি উক্ত কাজের জন্য লজ্জিত ও ক্ষমা প্রার্থী। বর্তমানে আমি সংবাদ সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম থেকে বিরিত আছি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, “ওনি সমাজের ক্ষতি করেছে এবং সম্মানের সাংবাদিক পোশাকে অসম্মান করেছে। ওনার এমন নিকৃষ্ট ও অশালীন কর্মকাণ্ডে সাংবাদিকদের উপর বিশ্বাস উঠে যাওয়ার সময়ের অপেক্ষা মাত্র। সমাজ রক্ষার্থে এবং সাংবাদিকদের সম্মানার্থে ওনার সঠিক ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

