২ বিচারপতির মতপার্থক্যে বেঞ্চ পুনর্গঠন

২ বিচারপতির মতপার্থক্যে বেঞ্চ পুনর্গঠন

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১৯ নভেম্বর ২০২১। আপডেট ০৭:৪০

হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ পুনর্গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একজন কর্মকর্তাকে হাইকোর্টে সার্বক্ষণিক রাখা যায় কি না, এ নিয়ে ওই বেঞ্চের দুই বিচারপতি একমত হতে পারেননি। তাদের এই মতপার্থক্যে দিনভর ওই বেঞ্চে বিচারকাজ বন্ধ ছিল। এরপর সন্ধ্যায় কনিষ্ঠ বিচারপতিকে সরিয়ে আরেক বিচারপতিকে যুক্ত করে বেঞ্চটি পুনর্গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি।

বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে এ ঘটনা ঘটে। এই বেঞ্চে দুদকের একটি মামলার কার্যক্রম চলছিল। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও দুদকের পক্ষে আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, বুধবার (১৭ নভেম্বর) একটি মামলায় দুদকের আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। রাষ্ট্রপক্ষের মাধ্যমে অবহিত হয়ে দুদকের সমন্বয়ক আবদুস সালাম ভার্চুয়ালি আদালতে যুক্ত হয়ে জানান, এ মামলায় নতুন আইনজীবীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই সময় কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুদকের পক্ষ থেকে আইনজীবী না থাকার এবং কোনো কোনো সময় আদালতের আদেশ দুদকে যথাযথভাবে যোগাযোগ না হওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।

পরে সার্বক্ষণিক দুদকের একজন কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে রাখতে মৌখিকভাবে বলা হয়। যদিও ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম শুরুর আগে দুদকের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতেন।

এদিকে, বৃহস্পতির সকালে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান আদালতে বলেন, বুধবার আদালত মৌখিকভাবে আদেশ দিয়েছিলেন। তবে এখন কমিশনে জনবলের সংকট আছে। সার্বক্ষণিক একজন লোক দিতে কিছুটা সময় লাগবে।

তখন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, কখনো কখনো দুদকের আইনজীবী থাকেন না। আদালতের আদেশ যথাযথভাবে দুদকে কমিউনিকেটও (যোগাযোগ) হয় না।

এ সময় খুরশীদ আলম খান বলেন, কর্মকর্তা না দেওয়া পর্যন্ত দুদক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাকে জানানো হলে তিনি তা দুদককে অবহিত করবেন। এক পর্যায়ে বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমান বলেন, দুদকের কি আর কাজ নেই যে একজন অফিসার এখানে এসে বসে থাকবেন!

এ সময় বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, সেকেন্ড জজ এত কথা বললে সমস্যা। আদালতের ডেকোরাম আছে। তখন কনিষ্ঠ বিচারপতি বলেন, তাহলে বেঞ্চে দুই বিচারপতি রাখার দরকার কী? এরপর এক পর্যায়ে এজলাস ছেড়ে চলে যান জ্যেষ্ঠ বিচারপতি।

এরপর আর ওই বেঞ্চে কোনো বিচারকাজ হয়নি। পরে বিষয়টি প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করার পর বেঞ্চটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবাসাইটে আগামী রোববারের জন্য প্রকাশিত কার্যতালিকায় দেখা যায়, পুনর্গঠিত এই বেঞ্চে বিচারপতি এম এস মজিবুর রহমানের পরিবর্তে বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক যুক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে বিচারপতি এম এস মজিবুর রহমানকে যুক্ত করা হয়েছে বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চে।

mashiurjarif

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading