সৌদি আরবে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান মোতায়েন কীসের ইঙ্গিত
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার (১৯ এপ্রিল) ২০২৬, আপডেট ২৩:১০
ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার চলমান যুদ্ধ নিরসনে যখন ইসলামাবাদে আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই ১১ এপ্রিল সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান অবতরণ করেছে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তায় পাকিস্তান একটি বড় ও দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর এ খবর জানিয়েছে।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে স্বাক্ষরিত কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই বিমানগুলো মোতায়েন করা হয়েছে। সৌদি আরবে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হলেও আক্রমণের ছয় সপ্তাহ পর এই দেরিতে মোতায়েন ইঙ্গিত দেয় যে পাকিস্তান অত্যন্ত ভেবেচিন্তে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো ইরান-আমেরিকা আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজের নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা অংশীদারত্ব বৃদ্ধি করা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও আমেরিক ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে সৌদি আরব বেশ কয়েকবার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। যদিও কাতার বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের তুলনায় সৌদি আরবে হামলার তীব্রতা কিছুটা কম ছিল। তবু ধারণা করা হয়েছিল যে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর অংশগ্রহণ আরও আগেই ঘটবে।
তবে পাকিস্তান আমেরিক ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা সফলভাবে এগিয়ে নেওয়ার পর ৭ এপ্রিল জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এরপরই ইসলামাবাদ রিয়াদকে নিরাপত্তায় আশ্বস্ত করতে মাঠে নামে।
সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নতুন নয়। ১৯৬০-এর দশক থেকেই পাকিস্তান সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে। ১৯৬৭ সালে দেশ দুটির মধ্যে প্রথম প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে নিয়মিত সেনা বিনিময় ও যৌথ মহড়া হয়ে আসছে। ১৯৮২ সালে সৌদি সশস্ত্র বাহিনী প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেখানে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন ছিল। ২০১৭ সাল থেকে পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরীফ সৌদি নেতৃত্বাধীন ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেররিজম কোয়ালিশন পরিচালনা করছেন, যা ইসলামাবাদকে সৌদির নিরাপত্তা কাঠামোর গভীর অংশে স্থান দিয়েছে।
ইউডি/এবি

