কাজিরহাট-আরিচা রুটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি

কাজিরহাট-আরিচা রুটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১৯ নভেম্বর ২০২১। আপডেট ১৫:৩৫

ফেরি সঙ্কটে চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে পাবনার কাজিরহাট-আরিচা রুটে যানবাহন পারাপার। মাত্র তিনটি ছোট ফেরি দিয়ে পারাপার চলছে। গত দুইদিনে পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে পাঁচ শতাধিক যানবাহন। প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি।

শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে কাজিরহাট ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান জানান, এই পরিস্থিতিতে জরুরি পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে ঘুরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফেরি স্বল্পতার কারণে এই রুট এখন সবার জন্য গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুরুতে চারটি ফেরি দিলেও এখন শুধুমাত্র তিনটি ফেরি চলে। তিন সপ্তাহ আগে ৫টি ফেরি দিয়ে কিছুদিন চলার পর সেগুলো নিয়ে যাওয়া হয়। ঘাটে অবস্থান করা সবগুলো ছোট ফেরি।

যাত্রী ও যানবাহনের চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে ঢাকায় যাওয়া-আসার পথে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে থাকে। ফলে ট্রাকসহ অনেক যানবাহন বঙ্গবন্ধু সেতু এড়িয়ে কাজীরহাট-আরিচা নৌপথে ফেরিতে ঢাকায় যাওয়া-আসা করছে। এতে নৌপথে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। অথচ গত দশদিনের বেশির ভাগ সময়ে এই নৌপথে চলাচল করে দুটি ফেরি। এখানে মাত্র ৩টি ফেরি চলে। সবকটি পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ। সেগুলো প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ছে। এতে ঘাটে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ট্রাকের জটলা সৃষ্টি হচ্ছে।

যাত্রী ও যানবাহনের চালকদের অভিযোগ, এই নৌপথে কমপক্ষে ৮টি ফেরির প্রয়োজন। সম্প্রতি ৫টি ফেরি দিয়েছিল ঘাট কর্তৃপক্ষ। ঘাটে তিন সপ্তাহ যাবত কোনো যানজট ছিল না। অনায়াসে আমরা পার হয়েছি। কিন্তু গত দশদিন ঘাটে ব্যাপক যানবাহনের চাপ থাকলেও এখান থেকে বড় ফেরি দুটি নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও বিআইডব্লিউটিসির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মী জানান, এই ঘাটে যতটি ফেরি দেওয়া হয়েছে সবই পুরোনো ও ত্রুটিযুক্ত। তাই এই পরিবর্তনে সংকট আরও বেড়েছে। দু-একদিন পরই ফেরিতে যান্ত্রিক ক্রুটি দেখা দেয়। ফেরি সকালে গিয়ে ফেরে গভীর রাতে।

সরেজমিন দেখা যায়, কাজীরহাট ট্রাক টার্মিনাল থেকে শুরু করে কাশিনাথপুর-কাজীরহাট সড়কের প্রায় ৬ কিলোমিটার জুড়ে তিন শতাধিক ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন ফেরির অপেক্ষায় অন্যদিকে আরিচা ঘাটেও একই অবস্থা। দুই ঘাট মিলে ৫ শতাধিক ট্রাক আটকা পড়েছে।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী ছোট গাড়িগুলোকে ফেরিতে ওঠার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। কয়েকজন ট্রাকচালক জানান, কোনো কোনো পণ্যবাহী ট্রাককে আরিচায় যাওয়ার জন্য দুই থেকে তিনদিন ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবার কেউ পাচঁদিন ধরে অপেক্ষা করছে।

লালমনিরহাট থেকে আগত ট্রাকচালক মইনুল ইসলাম বলেন, ২ দিনের বেশি সময় ধরে তারা পণ্য নিয়ে এই ফেরিঘাটে আটকা রয়েছেন। মাত্র তিনটি ‘লক্কড়ঝক্কড়’ মার্কা ফেরিতে যানবাহন পারাপার চলছে। এগুলোর কোনো কোনোটি প্রায়ই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে পড়ছে। এর মধ্যে যাত্রীবাহী গাড়িগুলো ফেরিতে ওঠায় অগ্রাধিকার পাওয়ায় প্রতিটি ফেরিতে মাত্র তিন থেকে চারটি ট্রাক ওঠার সুযোগ পাচ্ছে।

কয়েকজন ট্রাকচালক জানান, ঘাটে আটকে থাকায় খাওয়া ও শৌচাগার নিয়ে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাস্তার লাইট ও আইনশৃঙ্খলার সদস্যরা না থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় অবস্থান করতে হচ্ছে। ট্রাক টার্মিনাল ও আবাসিক হোটেল নির্মানের দাবি জানান তারা। একটি নৌফাঁড়ি স্থাপনের কথাও জানান তারা।

বিআইডব্লিউটিসির কাজীরহাট ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘যেভাবে কাজীরহাট ফেরিঘাটে যানবাহনের চাপ বেড়েছে, তাতে প্রতিদিন ফেরিগুলোর ৩৫ থেকে ৪০টি ট্রিপের প্রয়োজন। অথচ তিনটি ফেরি দিয়ে ১০ থেকে ১২টি ট্রিপ দেওয়া যাচ্ছে। এ অবস্থায় ঘাটে কোনো ট্রাক এলে সেটিকে ফেরিতে ওঠার জন্য কমপক্ষে দু’দিন থেকে তিনদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। স্বল্প ফেরিতে ঘাটে নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading