৫০ বছরে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে বাংলাদেশ
কিফায়েত সুস্মিত । মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২১ । আপডেট ১২:৫৫
২০২১ বছরটি বাঙ্গালি জাতির জন্য খুবই গর্বের ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি বছর। এ বছর আমরা স্বাধীনতা ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে পৌঁছেছি। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ থেকে যে স্বাধীনতা শুরু হয়েছিল, ২০২১ সালের ২৬শে মার্চে তার পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হয়েছে। চলতি বছরটি আরও একটি কারনে তাৎপর্যপূর্ণ। এ বছরটি বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছরও। এবার তাই উদযাপনেও যোগ হয়েছে ভিন্ন মাত্রা।
শুণ্য থেকে শুরু হওয়া ৫০ বছর বয়সী বাংলাদেশ এগিয়ে গিয়েছে বহু দূর। আমরা আমাদের সামর্থ্য ও আশানুরূপ সাফল্য না পেলেও যতটুকু পেয়েছি তাতেই আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাহবা পাচ্ছি। আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছি।
মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ, জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা যোগ্যতা নির্ধারণের তিনটি সূচকের ২০১৮ ও ২০২১ সালের মূল্যায়নে মান অর্জন করায় এলডিসি থেকে উত্তরণের সুপারিশ পায় বাংলাদেশ। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) এ সুপারিশ করেছে।
বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের সুপারিশ করার এই ঘটনাকে বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন পত্রিকা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে। বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার সফল অর্থনীতি হিসেবেও আখ্যা দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও ভিয়েতনামের উন্নয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের যে তুলনা দেওয়া হয়েছে, তার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এই দেশগুলোও রপ্তানিভিত্তিক উন্নয়নের পথে হেঁটে আজ এত দূর গিয়েছে। আধুনিক ইতিহাসে দেখা গেছে, রপ্তানিমুখী উন্নয়নের বদৌলতে অতি নিম্ন আয়ের দেশও মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হতে পারে।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে “তলাবিহীন ঝুড়ির” দেশ আখ্যা দেয়া হয়েছিল। স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে দারিদ্র্য আর দুর্যোগের বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের পথে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ আর্থসামাজিক প্রতিটি সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ। এ প্রাপ্তি নিয়েই এবার জাতি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছে।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
ইউডি/ অনিক

