গৌরবময় অর্জন
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২২ । আপডেট ১১:৪০
অনন্য নকশা আর দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয় সাতক্ষীরার ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ব্রিটিশ আর্কিটেক্টসের (রিবা) পুরস্কার পেয়েছে। ২০২১ সালের বিশ্বসেরা নতুন ভবন হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া এই ভবনের নকশা করেছেন দেশেরই খ্যাতনামা স্থপতি কাশেফ মাহবুব চৌধুরী। সাতক্ষীরার শ্যামনগরের নূরনগর এলাকায় নির্মিত ৮০ শয্যার এই হাসপাতালটি নির্মাণের দায়িত্বে ছিল কাশেফ চৌধুরীর স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান আরবানা।
রিবা গত রবিবার (২৩ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিলো, অসাধারণ নকশা ও সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে কাশেফ চৌধুরী/আরবানার নকশা করা বাংলাদেশের ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল ভবনটিকে এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত করা হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা দক্ষিণ বাংলার জলো পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে এই হাসপাতালটি। উপকূলীয় এই এলাকাটি ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রিবার জুরি বোর্ড এই হাসপাতাল স্থাপনাটিকে একটি ‘মানবিক স্থাপত্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
স্থাপনাটির বিশেষত্ব হচ্ছে, স্থানীয় প্রকৌশলীরা স্থানীয়ভাবে তৈরি নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে ভবনটি গড়েছেন। ভবনটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে প্রচুর আলো-বাতাস চলাচল করতে পারে। নিশ্চিত করা হয়েছে বিদ্যুতের সর্বনিম্ন ব্যবহার।
ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের এজিএম অসীম ক্রিস্টোফার রোজারিও জানান, কমিউনিটি হাসপাতালটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে ছোট খালের মাধ্যমে ভেতরের এবং বহিরাগত রোগীদের আলাদা সেবা দেওয়ার জন্য দুটি ভবন রাখা হয়েছে। ওই এলাকার ভূগর্ভস্থ পানি লবণাক্ত হওয়ায় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। সেই পানিতেই হাসপাতালের যাবতীয় কার্যক্রম চলে। এটিও বেশ ব্যতিক্রম। হাসপাতালের বহিঃপ্রাঙ্গণে রোগী ও দর্শনার্থীরা বসে গ্রামীণ দৃশ্য দেখতে পাবেন।
রিবার জুরি বোর্ডের মন্তব্য, গ্রামীণ অঞ্চলে চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর জন্য টেকসই ও সাশ্রয়ী নকশার উদাহরণ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে সাতক্ষীরার এ হাসপাতালের।
সাধারণত প্রতি দুই বছর পরপর সেরা স্থাপনার পুরস্কার দিয়ে থাকে রিবা। যুক্তরাজ্যের বাইরের যেসব স্থাপনায় ‘নকশায় শ্রেষ্ঠত্ব এবং অর্থপূর্ণ সামাজিক প্রভাব’ রয়েছে তাদেরই এই পুরস্কার দেওয়া হয়। গত বছর তিনটি সেরার নতুন ভবনের তালিকায় ছিল বাংলাদেশের ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল, ডেনমার্কের লিলি ল্যাঙ্গেব্রো সেতু ও জার্মানির জেমস-সাইমন গ্যালারি।

