দূতাবাসগুলোকে ক্ষমতাসীনরা দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করছে : ফখরুল
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২ । আপডেট ২০:২০
বিদেশে রাষ্ট্রীয় দূতাবাসগুলোকে ক্ষমতাসীনরা দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওয়াশিংটন-ব্রাসেলসসহ কয়েকটি দূতাবাসের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তিনি।
ফখরুল বলেন, পৃথিবীর দেশে দেশে বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষা দেওয়াই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সকল দূতাবাসের দায়িত্ব। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় ওইসব দূতাবাসের সকল ব্যয় রাষ্ট্র বহন করে। অথচ কী নির্লজ্জ ও অপেশাদার উপায়ে সেই প্রতিষ্ঠানকেও দলীয়করণ করে জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজে লাগানো হচ্ছে, মিথ্যাচার ও প্রতারণার কাজে লাগানো হচ্ছে।
গত ৩১ জানুয়ারি আমেরিকার কংগ্রেসনাল কমিটির চেয়ারম্যান গ্রেগরি ডব্লিউ মিকসের দেওয়া বক্তব্যকে ‘বিকৃত’ করে ওয়াশিংটন দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, তার (গ্রেগরি মিকস) বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে ধূম্রজাল সৃষ্টি করে শুধু সচেতন মানুষের সাথেই প্রতারণা করেনি, ওয়াশিংটন দূতাবাস বাংলাদেশকে আমেরিকার কাছে চরমভাবে হেয় প্রতিপন্ন করেছে। কারণ আপনারা সকলে জানেন, ইতিমধ্যে কংগ্রেসম্যান মিকস নিজেই গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিকে নাকচ করে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, তার নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং আমেরিকার ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির ওয়েবসাইটে তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
র্যাবের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তার উপর আমেরিকার সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞাকে যে মিকস সমর্থন করছেন, তার বিবৃতিতে তা স্পষ্ট হওয়ার কথা বলেন ফখরুল। তিনি বলেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টায় ওয়াশিংটনস্থ দূতাবাসের ওয়েবসাইট ভিজিট করে দেখা গেছে যে, গত ৩১ জানুয়ারি কংগ্রেসম্যান মিকসের সংশ্লিষ্ট প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি তুলে নেওয়া হলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সেই প্রেস রিলিজটি এখনও যথারীতি বহাল রয়েছে, যা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দলীয়করণ করার নির্লজ্জ প্রমাণের ডিজিটাল ডকুমেন্ট।
বেলজিয়াম দূতাবাসের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত একটি বেসরকারি সংবাদ সম্মেলনের সূত্র ধরে সেখানে অবস্থিত দূতাবাসের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিলে। আপনারা দূতাবাসের ওয়েবসাইটে ভিজিট করলে সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি এখনও দেখতে পাবেন। যেখানে সুস্পষ্টভাবে আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মীর মতো বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা দূতাবাসকে রাষ্ট্রের বদলে আওয়ামী লীগের প্রচার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রমাণ।
ই্উডি/সুপ্ত

