সাকিব-মুস্তাফিজের অন্যরকম লড়াই
আসাদুজ্জামান সুপ্ত । বৃহস্পতিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ । আপডেট ২০:৪০
শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) পর্দা নামতে যাচ্ছে। বহুল প্রতিক্ষীত ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে সাকিব আল হাসানের ফরচুন বরিশাল ও ইমরুল কায়েসের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এবারের বিপিএলে শুরু থেকেই এই দল দুটো নিজেদের সেরা খেলা উপহার দিয়েই মেগা ফাইনালে এসেছে। দু দলেই আছে এক ঝাঁক দেশি-বিদেশি তারকা।
সাকিবের বরিশালে বিদেশিদের মধ্যে রয়েছে টি-টোয়েন্টির দুই সেরা অস্ত্র ক্যারিবিয়ান ক্রিস গেইল ও ডিজে ব্রাভো। এছাড়াও আছেন আফগানিস্তানের স্পিন জাদুকর মুজিব উর রহমান। দেশি পারফরমারদের মধ্যে রয়েছেন এবারের বিপিএলের ক্রেজ ওপেনার মুনিম শাহরিয়ার ও পেসার মেহেদি হাসান রানা।
অন্যদিকে ইমরুল কায়েসের কুমিল্লায় বিদেশি তারকাদের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার ফাফ ডু প্লেসিস, ইংলিশ অলরাউন্ডার মঈন আলী ও ক্যারিবিয়ান সুনিল নারাইন। দেশি পারফরমারদের মধ্যে রয়েছেন ওপেনার লিটন দাস, মেহেদী হাসান জয়।
তবে সকলের আলো কেড়ে নিয়ে দুদলের মূল লড়াইটা হবে মূলত জাতীয় দলের দুই শীর্ষ তারকা সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমানের। কেননা এবারের বিপিএলে শীর্ষ পারফরমার এরা দুজনই।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে এবারের আসরের ১০ ম্যাচে কাটার মাস্টার মুস্তাফিজের শিকার ১৮ উইকেট। যা এখন পর্যন্ত এই আসরে সর্বোচ্চ। শুধু তাই নয় ইকোনমির দিক দিয়েও ফিজের অবস্থান উপরের দিকে। এবারের আসরে একমাত্র মুস্তাফিজ এক ইনিংসে ৫ উইকেট শিকার করার গৌরব অর্জন করেছেন। ডেথ ওভারে তার কার্যকারীতা সম্পর্কে না জানার কারনও নেই। তাই সাকিবের দলের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকী হতে যাচ্ছেন দ্য ফিজ সেটা বলাই যায়।
অন্যদিকে, সাকিবও এই বিপিএলে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। বলা যায় তার একার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভর করে বরিশাল ফাইনালে এসেছে। আসরের ১০ ম্যাচে ৩০.৭৫ গড়ে সাকিবের রান ২৭৭। সবচেয়ে বেশি রানের তালিকায় তার অবস্থান ৭ম। এছাড়াও ১০ ম্যাচে মাত্র ৫.১৪ ইকোনমিতে সাকিব উইকেট নিয়েছেন ১৫টি। যা আসরের এখন পর্যন্ত ৩য় সেরা। আর এমন পারফরম্যান্স তাকে এবারের বিপিএলের ম্যান অব দ্য সিরিজ পাওয়ার দৌড়ে সবার উপরে রেখেছে।
তাই বলাই যায় কাল ফাইনালে ম্যাচের গতি পরিবর্তন করে দিতে পারেন এই দুই ক্রিকেটার। বরিশাল-কুমিল্লার মোড়কে যেনো সাকিব-মুস্তাফিজের অন্যরকম এক লড়াই দেখবে দেশের ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকরা।
ইউডি/সুপ্ত

