বসন্তের রঙে রঙিন প্রাণের বইমেলা, সময় বাড়ায় খুশি প্রকাশক-বইপ্রেমীরা
কিফায়েত সুস্মিত । মঙ্গলবার, ১ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১২:৫৯
বিশ্বের প্রতিটি জাতির রয়েছে নিজস্বতা, আর স্বকীয়তা। বাঙালি জাতির এমনই এক সত্তার নাম একুশে বইমেলা। রীতি অনুযায়ী, ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির প্রথম দিনই বাংলা একাডেমির আয়োজনে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বসে প্রাণের এই মেলা। করোনার জন্য প্রচলিত সেই রীতি ভেঙে এ বছর দুই সপ্তাহ পর ১৫ ফেব্রুয়ারি দ্বার খুলেছে বইমেলার। শুরুর আগে বলা হয়েছে এবার দুই সপ্তাহ হবে মেলা। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় বইমেলার সময় বেড়েছে ১৭ মার্চ পর্যন্ত।
এ বছর অনেকটা অপ্রস্তুত অবস্থায় মেলা শুরু হলেও, শুরুর দিন থেকেই ছিল বইপ্রেমীদের ভিড়। অন্যান্য বছর মেলা শুরুর সপ্তাহখানেক পর মেলা জমত। তবে এবার শুরুর দিন থেকেই জমজমাট বইমেলা। যত দিন গেছে মানুষের উপস্থিতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বই বিক্রি। প্রকাশকরা আশাবাদী, এভাবে চললে করোনাকালের ক্ষতি পুষিয়ে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। আর মেলার সময় বেড়ে যাওয়ায় খুশি বইপ্রেমীরাও। এদিকে, চলছে ঋতুরাজ বসন্তের মাস। বসন্তের ছোঁয়া লেগেছে মেলার স্টলগুলোতেও।
পাঠকসমাবেশ স্টল সাজিয়েছে বেশ নান্দনিকভাবে। স্টলের সামনে আছে বেশ কিছু গাছ। স্টলের ভেতরের সজ্জায়ও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ছোট ও বড় গাছ। তাকে তাকে বইয়ের পাশাপাশি শোভা পাচ্ছে মানিপ্ল্যান্ট ও বিভিন্ন পাতাবাহারের গাছ। সৌন্দর্য বাড়াতে ব্যবহার করা হয়েছে ফুলের গাছও। স্টলে গ্রামীণ আবহ বজায় রাখতে এবং পুরোনো ঐতিহ্য ধরে রাখতে জাগৃতি প্রকাশনীর স্টল সাজাতে বাঁশের ব্যবহার করা হয়েছে। লাল ও হলুদ রঙে সাজানো হয়েছে অন্বেষা প্রকাশনীর প্যাভিলিয়ন। ক্রিম ও লাল রঙের সংমিশ্রণ রয়েছে ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশে। কথাপ্রকাশ নিজেদের সাদা ও কালো রঙের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে।
শুদ্ধ প্রকাশের স্টলে ঝুলছে টেরাকোটা ও বিভিন্ন শিল্পকর্মের ব্যানার। স্টলে গেলে দেখা মিলবে পৌরাণিক শিল্পকর্মের ছোঁয়া। শিখা প্রকাশনীতে রয়েছে সাদা ও কালো রঙের ফুলেল নকশা। তাম্রলিপি, জ্ঞানকোষ, অন্যপ্রকাশসহ অধিকাংশ প্যাভিলিয়ন ও স্টলে আছে লেখকদের ছবি ও প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বই পরিচিতি। প্রতিবারই অন্যপ্রকাশের সাজসজ্জায় নতুনত্ব থাকে। তবে হুমায়ূন আহমেদের ছবি ও প্রতিকৃতি বড় করে স্টলের ওপরে রাখে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যপ্রকাশের স্টলের ছাদে হুমায়ূন আহমেদ দাঁড়িয়ে আছেন, এমন প্রতীকী ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নিজস্বতার ছোঁয়া আছে বাবুই প্রকাশনীতেও। স্টলের সামনে ঝোলানো আছে বাবুই পাখির বাসা।
বড়দের বইয়ের স্টল ও প্যাভিলিয়নের পাশাপাশি ছোটদের কর্নারও বেশ নান্দনিক। ইকরিমিকরি, বাবুই, শিশু গ্রন্থ কুটির, ময়ূরপঙ্খী, প্রগতি পাবলিশার্সসহ সব স্টলেই আছে নান্দনিকতার ছোঁয়া। শিশুদের মনোরঞ্জনের জন্য ইকরিমিকরিতে আছে প্রজাপতি, হার্ট শেপের পাতা ইত্যাদি। বই কেনার পাশাপাশি ছবি তোলার কর্নারও আছে সেখানে। লাল ও কমলা রঙের মিশেলে তৈরি করা এ স্টলে মিলবে উৎসবের ছোঁয়া।
মায়ের সঙ্গে আসা ছোট্ট শিশু আহানাফ বলে, বইমেলায় এসে ভালো লাগছে। আমি দুইটি বই কিনেছি। বই পড়তে আমার ভালো লাগে। মেলা দেখতে ও বই কিনতে এসেছেন মাইশা। তিনি বলেন, একুশে বইমেলা প্রতি বছরি আমি আসি আমার ও ছোট ভাই বোনদের জন্য বই কিনতে। আমার বই পড়তে অনেক ভাল লাগে। এখন পর্যন্ত আসিফ নজুরুল স্যারের উধাও বইটি কিনলাম। ঘুরে ঘুরে দেখে আরো কিছু বই কিনবো।
ইউডি/সিফাত

